শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৩

গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাঃ মুক্তি নামক কারাগার



গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাঃ মুক্তি নামক কারাগার

-------- Ralph Rover. 24 October 2013 at 22:41

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পেশার স্বাধীনতা দেয় শুধু তাহা নয়, অবৈধ আর অশ্লীল কর্মকে পেশা বানাইয়া ইহাকে মহৎ বলিয়া প্রচার করে। পতিতাবৃত্তিকে পর্যন্ত ইহারা যৌনকর্মী নাম দিয়া পেশা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়াছে। এই দেশে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স এমন এক সরকার দিয়াছিল যাহারা নিজেদের সেমি ইসলামিক দাবী করে। আর বর্তমান সরকার তো অনেকটা হিন্দুয়ানি রীতি অনুযায়ী পতিতাকে নীলকণ্ঠ বলিয়া স্বীকার করিয়া নিতেও আপত্তি করিবে না। মানে তাহারা সমাজের নীল বিষ পান করিয়া নীলকণ্ঠ হইয়া গিয়াছে। অন্যদিকে ইসলাম হারাম কোন পেশার স্বাধীনতা দিবে না। তাই এই বিধান একটা কুফরি ও হারাম বিধান।


আমাদের মাঝে একটা সাধারণ ধারণা আছে যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সংবিধান নামক যেই মানবরচিত রাষ্ট্রীয় মৌলিক বিধানসমুহকে জানি তাহার অনেক বিধান মঙ্গলজনক এবং ইসলামের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংবিধানের দুইটা অংশ যাহার প্রথম অংশ হইল ''রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা''। সংবিধানেই বলা আছে যে এই অংশ হইল সংবিধানের অলঙ্কার যাহা রাষ্ট্র পূরণ করিতে বাধ্য নয়। তাই আমরা এই অংশ নিয়া পরে আলোচনা করিব। আপাতত অতি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় অংশ নিয়া কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা যাক।

বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় অংশ তথা ''মৌলিক অধিকার'' অংশ হইল মূলত দুনিয়ার সমস্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাধারণ নীতিমালা। এই অংশের অনুচ্ছেদসমূহ সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবিধানেই আছে। এই বিধানসমূহ হইল গণতন্ত্রের ভিত্তি। প্রত্যেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরম পবিত্রজ্ঞানে এই অধিকারসমুহ সংরক্ষন করে। এবং এই অধিকার লঙ্ঘন হইলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রিট করা যায়। এইগুলা হইলঃ

   ব্যক্তি স্বাধীনতাঃ

অনেকের ধারণা ব্যক্তি স্বাধীনতার ধারণা ইসলাম সম্মত। এমনকি কিছু গণতান্ত্রিক ইসলামিক ভাইএরা অতি গর্বের সহিত বলিয়া বেড়ান যে এই তো ইসলাম গণতান্ত্রিক। অথচ ইসলাম কখনোই ব্যক্তিকে স্বাধীনতা দেয় না। মানুষ আল্লাহর গোলাম যাহার একমাত্র কর্ম হইল গোলামী। এইখানে নিজস্ব প্রবৃত্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবার কোন ক্ষমতা মানুষের নাই। তাই এইটা পুরোপুরি কুফরি বিধান।

   বাক স্বাধীনতাঃ

ইসলামে বাক স্বাধীনতা নামক জিনিসটাই হারাম। কারণ যে কেহ ইচ্ছা করিলে যাহা ইচ্ছা তাহা বলিতে পারিবে না। ইসলামিক রাষ্ট্র এইক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি বিধান করিবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাক স্বাধীনতার নামে অশ্লীল এবং ইসলাম বিরোধী কথা বলিবার স্বাধীনতা দেয়। কিন্তু গণতন্ত্র ও এই ব্যবস্থার জুলুম নিয়া কথা বলিবার কোন অধিকার দেয় না। তাই এই জিনিসটা ভণ্ডামি ব্যতিত কিছুই নয়। 

 সম্পত্তির স্বাধীনতাঃ

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকিলে যেই কোন সম্পত্তি অর্জন করিতে পারিবে তাহা হোক পাহাড় কিংবা সমুদ্র। কিন্তু ইসলাম সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত, গনমালিকানাধিন, রাষ্ট্রীয় এই তিন শ্রেনিতে ভাগ করিয়াছে। এইখানে কোন রাষ্ট্রীয় বা গনমালিকানার সম্পত্তি ব্যক্তি খাতে দেওয়া যাইবে না। তেমনি ব্যক্তি খাতের কোন সম্পত্তি রাষ্ট্র অধিগ্রহন করিতে পারিবে না।

 সমাবেশের স্বাধীনতাঃ

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমাবেশের স্বাধীনতার কথা বলে যদিও কতটা পালন করে তাহা সবাই জানে। কিন্তু ইসলাম যেই কোন সমাবেশের স্বাধীনতা স্বীকার করে না। ইসলাম স্বীকৃত কোন মহৎ কর্ম ব্যতিত অন্য কোন ব্যাপারে যথেচ্ছ সমাবেশের স্বাধীনতা ইসলাম দিবে না।

 পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতাঃ

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পেশার স্বাধীনতা দেয় শুধু তাহা নয়, অবৈধ আর অশ্লীল কর্মকে পেশা বানাইয়া ইহাকে মহৎ বলিয়া প্রচার করে। পতিতাবৃত্তিকে পর্যন্ত ইহারা যৌনকর্মী নাম দিয়া পেশা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়াছে। এই দেশে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স এমন এক সরকার দিয়াছিল যাহারা নিজেদের সেমি ইসলামিক দাবী করে। আর বর্তমান সরকার তো অনেকটা হিন্দুয়ানি রীতি অনুযায়ী পতিতাকে নীলকণ্ঠ বলিয়া স্বীকার করিয়া নিতেও আপত্তি করিবে না। মানে তাহারা সমাজের নীল বিষ পান করিয়া নীলকণ্ঠ হইয়া গিয়াছে। অন্যদিকে ইসলাম হারাম কোন পেশার স্বাধীনতা দিবে না। তাই এই বিধান একটা কুফরি ও হারাম বিধান।

 ধর্মীয় স্বাধীনতা তথা বিশ্বাসের স্বাধীনতা:

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এইখানে অতি সুক্ষ্ম কৌশল খাটায়। তাহারা ধর্মের কেবল ধর্মীয় দিকটাই চালু রাখিবে। কিন্তু ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন হিসাবে যখনি সর্বস্তরে ইসলামী বিধানের কথা বলিবে তখনই সেকুলার ভূত চাপিয়া বসিবে আর কঠোর হস্তে ইসলাম দমন করিতে উঠিয়া পড়িয়া লাগিবে। এইদিকে ইসলাম অন্য মতাবলম্বীদের উপর কোন কিছু চাপাইয়া না দিলেও কোন মুসলিম ধর্ম ত্যাগ করিয়া মুরতাদ হইতে পারিবে না। তাহা ছাড়া নাস্তিকদিগকে উত্তমরূপে ধোলাই করিয়া বুঝানো হইবে। তাহাতেও না বুঝিলে উপযুক্ত মতে শাস্তি প্রদান করা হইবে। ইসলাম ব্যতিত অন্য ধর্মের রাষ্ট্রীয় কাঠামো না থাকায় ইসলামী খিলাফাহ রাষ্ট্রে তাহারা সুখেই থাকিবে এবং ১৩০০ বছর ইহুদী, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ সকলেই খিলাফাহর কেন্দ্রেই অতি নিরাপত্তার সহিত বাস করিয়া আসিতেছিল। এখনও আয়ারল্যান্ডের জনগণ খিলাফাহকে স্মরণ করে কেননা তাহাদের দুর্ভিক্ষের সময় অত্যাচারী ব্রিটিশরাজ মুখ ফিরাইয়া নিলেও খলিফা বিপুল পরিমাণ ত্রান দিয়া তাহাদের উদ্ধার করিয়াছিলেন।

অতএব, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি এই সমস্ত স্বাধীনতা মূলত মুক্তি নামক খাঁচা যাহা বেশীরভাগ মানুষকে কিছু মানুষের দাসে পরিণত করে।

এইবার দেখা যাক প্রথম অংশে কি আছে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান নামক মৌলিক অধিকার এই জায়গায় রাখা হইয়াছে যাহাতে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া যায় যে দেখ কত ভাল অধিকারের কথা আমরা বলি। অথচ এই অধিকার পালন করিতে রাষ্ট্র বাধ্য নয় ইহা সংবিধানেই বলিয়া দিয়াছে। আপনি ন্যাংটা হাঁটিবার স্বাধীনতা পাইবেন এবং কেহ বাধা দিলে রিট করিতে পারিবেন। কিন্তু না খাইয়া মরিলে রাষ্ট্রকে দায়ী করিতে পারিবেন না। এই হইল গণতান্ত্রিক সুবিচার।

আমাদের কিছু মাওলানা সাহেব যে বিসমিল্লাহ লাগাইবার দাবী তুলিয়াছিলেন বা এখনও বহাল আছে। এই দাবী অতি হাস্যকর কারণ বিসমিল্লাহ কিংবা আল্লাহর উপর বিশ্বাস এইসব প্রথম অংশের জিনিস। এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাসের মত বিষয়কে অলঙ্কার স্বরূপ রাখিয়া একরকম ইসলাম নিয়া হাস্য রসিকতা করা হয়। আর বিসমিল্লাহ বলিয়া এতসব কুফরি বিধান রাখা মানে বিসমিল্লাহ বলিয়া আইটেম সং চালাইয়া দেওয়া।

অথচ এই অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ইসলামিক সংবিধাবের মৌলিক অধিকার। ইসলামিক রাষ্ট্র হয় জনগণকে কাজের ব্যবস্থা করিয়া দিবে অথবা বসাইয়া খাওয়াইবে। এই জন্যেই হযরত ওমর(রাঃ) বলিয়াছিলেন, '' এই ফোরাতের তীরে একটা কুকুর না খাইয়া থাকিলে আমাকে দায়ী হইতে হইবে।'' আমরা ওমরের মহত্ত্ব মনে রাখিলেও এই মহত্তম দ্বীনকে ভুলিয়া গেছি।

এইভাবে গণতন্ত্র নামক কুফর সংবিধান নামক স্বাধীনতার খাঁচা বানাইয়াছে। আর এই খাঁচায় সমস্ত মানুষকে আবদ্ধ  করিয়া রাখিয়া কিছু রাজনৈতিক দল নামক মাফিয়া গোষ্ঠীর হস্তে রাষ্ট্র সোপর্দ করিয়াছে। এই মাফিয়াগণ নিজেদের ভিতর জঘন্য প্রতিযোগিতা করে জনগণের সম্পদের দখল নিতে। আর জনগণ দল, নির্বাচন, সংসদ এইসব ভাঁওতাবাজির চক্রে পড়িয়া ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা ভাবিতেই পারে না। অথচ চেহারা পরিবর্তনের এই রাজনীতি দিয়া হাজার বছরেও মুক্তি মিলিবে না।

আল্লাহ্‌ আমাদের বুঝিবার তৌফিক দিন। আর গণতান্ত্রিক মুক্তির খাঁচা ভাঙ্গিয়া চির মুক্তি তথা আল্লাহর গোলামীর দিকে প্রত্যাবর্তনের ক্ষমতা দান করুন।

######
কুফর পুঁজিবাদী মিডিয়ার ভাষায় আওয়ামি হরতাল হোক কিংবা বিএনপি হরতাল হোক শুধুমাত্র পাবলিককে গান পাউডারের মাধ্যমে পুড়িয়ে মারাও হরতাল সফল করার অন্যতম কৌশল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসলেও তবে হরতাল কোন জঙ্গিবাদী কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রম নয় , কারন হরতাল হল কুফর গণতান্ত্রিক কর্মসূচি !! অপরদিকে কুফর পুঁজিবাদী মিডিয়ার ভাষায় তাওহীদের পতাকাকে ধারণ করে ন্যাটো কিংবা মার্কিন ক্রুসেডার এবং এদের দোসরদের হত্যা করা সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গিবাদী কার্যক্রম , কারন এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক যা হল ইসলামের ভাষায় জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ !!

কুফর পুঁজিবাদী মিডিয়ার ভাষায় নিরস্ত্র হেফাজতে ইসলামও তান্ডবকারি কারন হেফাজতে ইসলাম অগণতান্ত্রিক দল কিন্তু লগি বৈঠার আওয়ামি কিংবা দা-কুড়ালের বিএনপি হল আন্দোলনকারী কারন আওয়ামি- বিএনপি কুফর গণতান্ত্রিক দল !!

// কারন কুফরের কাছে কুফরই প্রিয় , কুফরের কাছে ইসলাম শত্রুর সমার্থক শব্দ মাত্র ।


আগামীতে কুফর গণতন্ত্রের পথে আওয়ামী টিকে থাকুক কিংবা বিএনপি আসুক অবস্থা বরাবর এরকমই চলবে ।। হাসিনা এবং খালেদা উভয় আমেরিকা- ভারত গং এর উভয়ের সেবাদাসি ভিন্ন কিছুই নয় ।। এদের কেউ হয়ত আমেরিকার প্রকাশ্যে দালালি করে কেউবা অপ্রকাশ্যে , কেউ ভারতের প্রকাশ্যে দালালি করে কেউবা অপ্রকাশ্যে ।। ক্ষমতার স্বাদ নিতে ক্ষমতার স্বাদ টিকিয়ে রাখতে এরা সকলে দালালি করবে আমেরিকা - ভারত গং উভয়ের ।। কারন ৯০ এর দশক হতে মার্কিন - ভারত মিত্রতা মার্কিন - ইস্রাইলের মিত্রতা তুল্যই ।।



বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৩

গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মুসলিমরা উম্মাহর ক্যান্সার





গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মুসলিমরা হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য ক্যান্সারস্বরূপঃ
==========================================

গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক মুসলিমরা হচ্ছে কুফফার ও মুনাফিকদের একটা ষড়যন্ত্র। মুসলিম উম্মাহকে দাবাই রাখা, তাদেরকে শোষণ করার হাতিয়ার। গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক মুসলিমদের দিয়ে মুসলিম উম্মাহকে নিরস্ত্রকরন ও মুজাহিদদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়া ও প্রচার করা একটা গভির ষড়যন্ত্র।

রাসুল (সাঃ) তো কখনই অস্ত্র ত্যাগ করেননি। এমনকি মক্কা বিজয়ের সময়ই ও তিনি অস্ত্র ত্যাগ করেননি। হত্যা করেছিলেন কিছু কাফিরদের। তাহলে গণতান্ত্রিক মুসলিমরা কি রাসুল (সাঃ) কেউ সন্ত্রাসী বলবেন?????!!!!

মক্কা বিজয়ের দিন আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) নয় ব্যক্তি কে হত্যার নির্দেশ জারি করেন যে, এরা যদি কা‘বার গেলাফের নীচেও আশ্রয় নেয়, তথাপিও তাদের হত্যা করা হবে। ) وأمر بقتلهم وإن وجدوا تحت أستار الكعبة (

এই নয় জন ছিল- (১) আব্দুল উযযা বিন খাত্বাল (২-৩) তার দুই দাসী, যারা রাসূলকে ব্যঙ্গ করে গান গাইত (৪) সারাহ- যে আব্দুল মুত্ত্বালিবের সন্তানদের কারু দাসী ছিল। এই দাসীই মদীনা থেকে গোপনে হাতেব বিন আবী বালতা‘আহর পত্র বহন করেছিল।

(৫) ইকরিমা বিন আবু জাহল (৬) আব্দুল্লাহ বিন সা‘দ বিন আবী সারাহ (৭) হারেছ বিন নুফাইল বিন ওয়াহাব (৮) মিক্বইয়াস বিন হুবাবাহ ) مقيس بن حبابة) (৯) হোবার ইবনুল আসওয়াদ ) هبار بن الأسود ( ।

পরে এদের মধ্যে চারজনকে হত্যা করা হয় এবং পাঁচ জনকে ক্ষমা করা হয়। তারা সবাই ইসলাম কবুল করেন। যাদেরকে হত্যা করা হয়, তারা হ’ল- (১) আব্দুল উযযা ইবনু খাত্বাল। সে কা‘বা গৃহের গেলাফ ধরে ঝুলছিল। জনৈক ছাহাবী এখবর দিলে রাসূল (ছাঃ) তাকে হত্যার নির্দেশ দেন।

(২) মিক্বয়াস বিন হুবাবাহ। এ ব্যক্তি ইতিপূর্বে মুসলমান হয়ে জনৈক আনছার ছাহাবীকে হত্যা করে মুরতাদ হয়ে মুশরিকদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিল। নুমায়লা বিন আব্দুল্লাহ তাকে হত্যা করেন।

(৩) হুওয়াইরিছ বিন নুক্বাইয বিন ওয়াহাব। এ ব্যক্তি মক্কায় রাসূলকে কঠিনভাবে কষ্ট দিত। এ ব্যক্তি মক্কা থেকে মদীনায় প্রেরণের সময় রাসূল-কন্যা হযরত ফাতেমা ও উম্মে কুলছূমকে তীর মেরে উটের পিঠ থেকে ফেলে দিয়েছিল। (A) হযরত আলী তাকে হত্যা করেন।
(৪) ইবনু খাত্বালের দুইদাসীর মধ্যে একজন।

অতঃপর ক্ষমাপ্রাপ্ত পাঁচজন হ’লেন : (১) আব্দুল্লাহ ইবনু আবী সারাহ সে ইতিপূর্বে একবার ইসলাম কবুল করে মুরতাদ হয়ে যায়। মক্কা বিজয়ের দিন হযরত ওছমান তাকে সাথে নিয়ে রাসূলের দরবারে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। পরে তার ইসলাম খুবই ভালছিল। (২) ইকরিমা বিন আবু জাহল। তার স্ত্রী এসে আশ্রয় প্রার্থনা করলে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে ইয়ামনের পথে পলায়নরত ইকরিমাকে স্ত্রী গিয়ে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তার ইসলাম খুবই ভাল ছিল।

(৩) হোবার ইবনুল আসওয়াদ। এ ব্যক্তি রাসূলের গর্ভবতী কন্যা যয়নবকে হিজরতের সময় তীক্ষ্ণ অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছিল। যাতে তিনি আহত হয়ে উটের পিঠের হাওদা থেকে নীচে পাথরের উপরে পতিত হন এবং তাঁর গর্ভপাত হয়ে যায়। মক্কা বিজয়ের দিন এই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে মুসলমান হয় এবং তার ইসলাম সুন্দর ছিল।

(৪) ইবনু খাত্বালের দুই গায়িকা দাসীর মধ্যে একজনের জন্য আশ্রয় চাওয়া হয়। অতঃপর সে ইসলাম কবুল করে। (৫) সারাহর জন্যও আশ্রয় প্রার্থনা করা হয় এবং সেও ইসলাম কবুল করে। (B)

(A. সীরাতে ইবনে হিশাম ২/৪১০।
B. এ সম্পর্কে বিস্তরিত আলোচনা নাসাঈ হা/৪০৬৭, সনদ ছহীহ; মুওয়াত্ত্বা, মিশকাত হা/৩১৮০; মুওয়াত্ত্বা মুরসাল সনদে)

 পুঁজিবাদ , গনতন্ত্র , ভোগবাদ , সেকুরারিজম , ফ্রিডম একই বৃত্তের (জীবনব্যবস্থা ) অংশ যেই বৃত্তের কেন্দ্র হল আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে প্রব্রিত্তির দাসে মানুষকে পরিনত করা ।।

ইসলাম , শরিহায় , তাওহীদ (কালেমা / একত্ববাদ ) , আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন , খিলাফাহ একই বৃত্তের ( জীবনব্যবস্থা ) অংশ যে বৃত্তের কেন্দ্র হল শুধুমাত্র শরিয়াহকে প্রতেক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে আল্লাহর দাসে মানুষকে পরিনত করা ।।

আল্লাহ প্রদত্ত ইসলাম নামক জীবনব্যবস্থার সহিত মানব রচিত অন্য কোন জীবন ব্যবস্থার কোন অংশ নূন্যতমভাবে আনুগত্য এবং গ্রহণ করারও অর্থ হল আল্লাহর সার্বভৌমত্বের সহিত অন্য কিছুর সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নেয়া যা শিরক নামক সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধের নামান্তর মাত্র ।।