বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
বিশ্ব-রাজনীতির ইতিহাসে নিকৃষ্টতম ঘটনা
বিশ্ব-রাজনীতির ইতিহাসে নিকৃষ্টতম ঘটনাঃ
গণতান্ত্রিকভাবেনির্বাচিত ক্ষমতাশীন দলই নিষিদ্ধ হয়ে গেলো অগনতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শক্তির কাছে.........
সাবেক ব্রাদারহুড নেতা আইমান আল জাওয়ারী পাকিস্তানী সাংবাদিক হামিদ মীরকে বলেছিলেন, “গণতন্ত্রের মাধ্যমে কখনো ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে না কারণ সেক্যুলাররা ততক্ষন পর্যন্ত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী যতক্ষন পর্যন্ত তারা ক্ষমতাসীন থাকে। আর প্রতিপক্ষকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে তারা হেন কাজ নেই যে করে না ।
যেখানে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেক্যুলারীজম সেখানে গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী সরকার টিকে থাকবে কিভাবে ?”
জাওয়ারীর এই বক্তব্য আজ অক্ষরে অক্ষরে প্রমান হলো ।
আসলে নিরস্ত্র বিপ্লব কখনোই দীর্ঘজীবি হয় না, আর তা যদি হয় ইসলামী বিপ্লব তাহলে তো কথাই নেই ।
মিশরের ব্যর্থ বিপ্লবই বিশ্বব্যপী মুসলিমদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে, নিরস্ত্র বিপ্লবকে ইহুদীরা কখনোই টিকতে দেয়নি, ভবিষ্যতেও দিবেনা ।
গত ৩ জুলাই, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনা সফল ইসলামী বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিলো ইহুদী-আমেরিকান জোট ও তাদের মিসরীয় দোসর জেনারেল সিসি ।
মিসরের ইতিহাসে প্রথম গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়া সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মাত্র ১ বছরের মাথায় ক্ষমতাচ্যুত করলো সম্পূর্ন অবৈধ পন্থায়, গায়ের জোরে ।
শুধু ক্ষমতা দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি দালাল জেনারেল সিসি । মিসরের আদালতের মাধ্যমে আজ মুসলিম ব্রাদারহুডের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হলো ।
ভাবা যায়...? এমন ১ টি দলকে নিষিদ্ধ করা হলো যারা কিনা জনগনের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, বলতে গেলে বৈধভাবে এখনো মিসরের ক্ষমতায় আছে ।
এই হলো বিশ্বব্যপী গনতন্ত্রের নমুনা । বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম দেশ এখন এমনভাবে ইহুদীদের সিন্ডিকেটে জড়িয়ে আছে যে, অদুর ভবিষ্যতেও এই সিন্ডিকেট থেকে মুসলিম দেশগুলো বের হতে পারবে কিনা কে জানে....!!!
মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড নেতারাও বুঝতে পেরেছেন যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই বিপুল ক্ষমতাধর ইহুদী এজেন্টকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না । আর সেই অনুভূতি থেকেই বোধহয় ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বদিই বলেছেন, “ব্রাদারহুড তাদের বৈধ দাবি পরিত্যাগ করবে না আর এজন্য ফ্রি ইজিপসিয়ান আর্মি গঠন করা হবে অতি শীঘ্রই ।”
#
হিন্দুইজম, ইহুদীবাদ, খ্রিষ্টবাদ, বৌদ্ধধর্ম, সেক্যুলারিজম, গনতন্ত্র, জাতিয়তাবাদ সহ সকল জাহেলী তন্ত্রমন্ত্রের অনুসারীদের ভদ্রতা বিনয় কিংবা মানবাধিকারের শ্লোগান দেখে মুসলিমদের নিরাপদ বোধ করার কোনো কারণ নেই।
এসব মতবাদের অনুসারীরা একে অন্যের প্রতি সহনশীল হলেও ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি এরা সব সময়ই অসহিষ্ণু ও সাম্প্রদায়িক।
এদের পরস্পরের সাথে দ্বন্দ্ব সংঘাত হলেও এগুলো সবই জাহিলিয়াতের একেকটি ভিন্ন ভার্ষণ মাত্র। তাই এরা একটি অন্যটির সাথে রিকনসাইল করে চলতে পারে।
ইসলামের সাথে এদের সংঘর্ষ হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নয়। বরং তা হলো সত্য মিথ্যার সংঘাত, হক ও বাতিলের সংঘাত, আলো ও অন্ধকারের সংঘাত। অস্তিত্বের লড়াই।
গণতান্ত্রিকভাবেনির্বাচিত ক্ষমতাশীন দলই নিষিদ্ধ হয়ে গেলো অগনতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শক্তির কাছে.........
সাবেক ব্রাদারহুড নেতা আইমান আল জাওয়ারী পাকিস্তানী সাংবাদিক হামিদ মীরকে বলেছিলেন, “গণতন্ত্রের মাধ্যমে কখনো ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে না কারণ সেক্যুলাররা ততক্ষন পর্যন্ত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী যতক্ষন পর্যন্ত তারা ক্ষমতাসীন থাকে। আর প্রতিপক্ষকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে তারা হেন কাজ নেই যে করে না ।
যেখানে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেক্যুলারীজম সেখানে গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী সরকার টিকে থাকবে কিভাবে ?”
জাওয়ারীর এই বক্তব্য আজ অক্ষরে অক্ষরে প্রমান হলো ।
আসলে নিরস্ত্র বিপ্লব কখনোই দীর্ঘজীবি হয় না, আর তা যদি হয় ইসলামী বিপ্লব তাহলে তো কথাই নেই ।
মিশরের ব্যর্থ বিপ্লবই বিশ্বব্যপী মুসলিমদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে, নিরস্ত্র বিপ্লবকে ইহুদীরা কখনোই টিকতে দেয়নি, ভবিষ্যতেও দিবেনা ।
গত ৩ জুলাই, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনা সফল ইসলামী বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিলো ইহুদী-আমেরিকান জোট ও তাদের মিসরীয় দোসর জেনারেল সিসি ।
মিসরের ইতিহাসে প্রথম গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়া সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মাত্র ১ বছরের মাথায় ক্ষমতাচ্যুত করলো সম্পূর্ন অবৈধ পন্থায়, গায়ের জোরে ।
শুধু ক্ষমতা দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি দালাল জেনারেল সিসি । মিসরের আদালতের মাধ্যমে আজ মুসলিম ব্রাদারহুডের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হলো ।
ভাবা যায়...? এমন ১ টি দলকে নিষিদ্ধ করা হলো যারা কিনা জনগনের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, বলতে গেলে বৈধভাবে এখনো মিসরের ক্ষমতায় আছে ।
এই হলো বিশ্বব্যপী গনতন্ত্রের নমুনা । বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম দেশ এখন এমনভাবে ইহুদীদের সিন্ডিকেটে জড়িয়ে আছে যে, অদুর ভবিষ্যতেও এই সিন্ডিকেট থেকে মুসলিম দেশগুলো বের হতে পারবে কিনা কে জানে....!!!
মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড নেতারাও বুঝতে পেরেছেন যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই বিপুল ক্ষমতাধর ইহুদী এজেন্টকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না । আর সেই অনুভূতি থেকেই বোধহয় ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বদিই বলেছেন, “ব্রাদারহুড তাদের বৈধ দাবি পরিত্যাগ করবে না আর এজন্য ফ্রি ইজিপসিয়ান আর্মি গঠন করা হবে অতি শীঘ্রই ।”
#
হিন্দুইজম, ইহুদীবাদ, খ্রিষ্টবাদ, বৌদ্ধধর্ম, সেক্যুলারিজম, গনতন্ত্র, জাতিয়তাবাদ সহ সকল জাহেলী তন্ত্রমন্ত্রের অনুসারীদের ভদ্রতা বিনয় কিংবা মানবাধিকারের শ্লোগান দেখে মুসলিমদের নিরাপদ বোধ করার কোনো কারণ নেই।
এসব মতবাদের অনুসারীরা একে অন্যের প্রতি সহনশীল হলেও ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি এরা সব সময়ই অসহিষ্ণু ও সাম্প্রদায়িক।
এদের পরস্পরের সাথে দ্বন্দ্ব সংঘাত হলেও এগুলো সবই জাহিলিয়াতের একেকটি ভিন্ন ভার্ষণ মাত্র। তাই এরা একটি অন্যটির সাথে রিকনসাইল করে চলতে পারে।
ইসলামের সাথে এদের সংঘর্ষ হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নয়। বরং তা হলো সত্য মিথ্যার সংঘাত, হক ও বাতিলের সংঘাত, আলো ও অন্ধকারের সংঘাত। অস্তিত্বের লড়াই।
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
সেকুলারিজম টাইপের কুফর আদর্শগুলো মিথ্যা আশ্বাস দেয়
সেকুলারিজম টাইপের কুফর আদর্শগুলো মিথ্যা আশ্বাস দেয়..
পৃথিবীতে
দুইটা ক্যাম্প, একটা হল ক্যাম্প অফ ঈমান এবং আরেকটা ক্যাম্প অফ কুফর।
ক্বিয়ামত দিবসে এ দুইটা শ্রেণীর জন্য দুইটা জায়গা রাখা আছে, জান্নাত এবং
জাহান্নাম, মাঝে কিছু নেই। এ দুইটা ক্যাম্প কখনও সহাবস্থান করতে পারে না,
যেকোন একটা আধিপত্য বিস্তার করবে। ইসলাম যেখানে ডমিনেট করে, সেখানে কাফের,
মুশরিক এবং জাহেলদের কুফর, শিরক এবং ফাহ্বিশা (নির্লজ্জতা/অশালীনতা) চলে
না। আবার যেখানে কুফরের শাসন সেখানে মুসলিমরাও নিজেদের দ্বীন পুরোপুরি পালন
করতে পারে না।
অনেকে খুব সহজসরল করে চিন্তা করেন, "মিলে মিশে
থাকলে কি হয়"। ভাই, মিলেমিশে থাকা যায় না। তাওহীদ এবং শিরক পানি এবং জলের
মত। শালীনতা এবং অশ্লীলতা একটা সমাজে একসাথে চলতে পারে না। যেমন একটা সমাজে
কিছু মানুষ সম্মানের সাথে চলাফেরা করে পরে আর কিছু মানুষ নির্লজ্জের মত
থাকে, সেটাকে কি ভদ্র সমাজ বলা যাবে? না, সেটা ১০% মানুষের কারণে হলেও আর
সভ্য থাকবে না। হয়, নির্লজ্জতা পুরোপুরি অফ করতে হবে, তা না হলে সেটা জালের
মত সমাজে ছড়িয়ে পড়বে, যেভাবে মাকড়শা তার জাল বিছায়।
তো আপনার মনে
হতে পারে, তাইলে আর কি লাভ হল? দুই পক্ষই তো চাপিয়ে দিচ্ছে। জ্বী ভাই, দুই
পক্ষই চাপিয়ে দিচ্ছে। ইসলামও অনেক কিছু চাপিয়ে দেবে, কারণ আপনার আল্লাহ
বলেই দিয়েছেন যে অনেক কিছুই আছে মন-মানতে-চাইবে-না, তবু মানতে-হবে। তাই এই
ব্যবস্থা।
তাই যদি হয়, তাইলে ইসলামের সাথে অন্যান্য আদর্শের
পার্থক্যটা কই থাকল? পার্থক্য হল এই, ইসলামে কোন লুকোচুরি নেই। যেটা ইসলাম
সেটা সাফ-সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। যেমন, ঢাকা শহরে এখন আপনি বিলবোর্ড আর
লাজলজ্জাহীন কিছু জীবের জন্য আপনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না,
ইসলাম কায়েম হলে সেরকম আর হবে না। তখন যা-খুশি-তা করা-পরা-বলার স্বাধীনতা
কেড়ে নেওয়া হবে। তাবৎ নষ্টামি, ভ্রষ্টামি, এবং দুই নম্বরী বন্ধ হয়ে যাবে।
অপরপক্ষে সেকুলারিজম টাইপের কুফর আদর্শগুলো মিথ্যা আশ্বাস দেয়। তারা
ব্যাক্তিস্বাধীনতার কথা বলে, কিন্তু নিকাব পরতে বাধা দেয়। তারা ধর্মীয়
স্বাধীনতার কথা বলে কিন্তু মিনার নির্মাণে বাধা দেয়। তারা ধর্ম প্রচারের
স্বাধীনতার কথা বলে, কিন্তু তাদের আদর্শের বিরুদ্ধে গেলেই তারা সকলকে
গ্রেপ্তার করে এবংড্রোন দিয়ে মেরে হলেও কাপুরষের মত হত্যা করে। তারা সত্যকে
মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলার স্বাধীনতা দেয়। তাদের পরতে পরতে নিফাক্ব।
তারা দাবি করবে একটা, কিন্তু ইসলাম আসলেই তাদের ইকুয়েশন চেঞ্জ হয়ে যায়, এর
কারণ এই যে, ইসলাম ছাড়া আর সকল ধর্ম-আদর্শ-তন্ত্র-মন্ত্র মিথ্যা আর
ধোঁকাবাজি।
এই সহজ ব্যাপারটি বুঝার তৌফিক্ব আল্লাহ দান করুন।
#
মানুষ সমাজতন্ত্রকে
নাস্তিক্যবাদ বলে ঘৃণা করেছে তখনই যখন বাহ্যিকভাবে সমাজতন্ত্র পরাজিত হয়েছে
এবং সমাজতন্ত্রের ফিতনা দূর হয়েছে। যেকোন ফিতনার বৈশিষ্ট্য এটাই- যখন আসে
তখন অস্পষ্ট থাকে। কিন্তু যখন শেষ হয়ে যায়- তখন সব স্পষ্ট হয়ে যায়। এক সময়
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মত মানুষের কারণে- অনেকে বলত- সমাজতন্ত্রই
তো ইসলাম। এখন ভুলেও কেউ বলে না, কারণ সমাজতন্ত্র মৃত; একইভাবে আজকে যারা
গণতন্ত্রকে হালাল করে ইসলামাইজেশন ( ! )
করার ভ্রান্তিতে আছে এক সময় এই ফিতনা শেষ হয়ে গেলে তারাও এটাকে বর্জন করবে,
কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে নিজের সেই ক্ষতি কিভাবে পূরণ করবেন জানি না।
হক আর বাতিল স্পষ্ট- কুর'আন সুন্নাহর স্পষ্ট দলীল থাকা সত্ত্বেও যদি
আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয়, তখন সেটা সত্যকে অস্বীকার করারই শামিল।
মানব রচিত মতবাদ কুফর।
গণতন্ত্র কি? ইসলামের আলোকে(গবেশনামুলক)
ইসলামের আলোকে গণতন্ত্র কি? (গবেশনামুলক)
ইসলামের আলোকে গণতন্ত্র কি?
ইন্নালহামদু লিল্লাহ! নাহ্মাদুহূ ওয়া নাস্তা'ঈনুহূ ওয়া নাস্তগ্ফিরুহূ ওয়ানু'মিনুবিহী ওয়ানাতাওয়াক্কালু আলায়হি, ওয়া না'উযু বিল্লাহি মিন শুরুরি আনফুসিনা ওয়ামিন সাইয়্যেআতি আ'মালিনা মাইয়্যাহ্দিহিল্লাহ্ ফালা মুযিল্লালাহূ ওয়া মাইয়্যুযলিল্হু ফালা হাদিয়ালাহূ। ওয়া আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহ্ - ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু। আম্মা বা'দ। ফাআ'উযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম।
সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ সুবহানওয়াতলা'র মহান দরবারে লাখো শুক্রিয়া জ্ঞাপন করছি যিনি আমাদের ইসলামের সত্যটা নির্ভয়ে প্রচারণার তাউফিক এনায়েত করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ্। দরুদ ও সালাম পেশ করছি হুজুরে পাক সাঃ এর ওপর।
আজকের সুন্নাহর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে 'গণতন্ত্র' কে। এই ফায়সালাতেই আমরা দেখব গণতন্ত্র কি, কেন এবং কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে কতটুকু গ্রহণযোগ্য। একটু বড় হলেও আশা করি সকলেই পড়বেন এবং সত্যটা চিনতে পারবেন। সেইসাথে যেকোনো গণতন্ত্র সমর্থনকারির সাথে শক্তিশালি বিতর্কে অংশ নিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্। গণতন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও জবাব নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।
এই আলোচনার প্রথমেই আমরা জানবো, গনতন্ত্র কী?
- আমার মতে 'যে পদ্ধতিতে জনসাধারণের মত সাপেক্ষে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাকেই গনতন্ত্র বলে'। আর গনতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রশাসক থাকলে ঐ রাষ্ট্রকে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায়।
আসুন দেখি এই ব্যাপারে উইকিপিডিয়া কি বলে।
~গণতন্ত্র হলো কোন জাতিরাষ্ট্রের (অথবা কোন সংগঠনের) এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান ভোট বা অধিকার আছে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরীর ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের অংশগ্রহনের সমান সু্যোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে। যদিও শব্দটি সাধারণভাবে একটি রাজনৈতিক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হয় তবে অন্যান্য সংস্থা বা সংগঠনের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, রাষ্ট্র-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
সুত্রঃ [bn.wikipedia.org/wiki/গণতন্ত্র]
ইতিহাসঃ
টানা ২০০ বছর এদেশ ইংরেজরা শাসন ও শোষণের পর যখন তিতুমির/হাজী শরিয়তউল্লাহদের ইংরেজবিরোধী বিদ্রোহ করতে দেখল তখন তারা বুঝতে পারল এদেশে আর এভাবে সরাসরি শাসন করা যাবেনা। ঠিক তখনই 'অমর শাসনত্ব' প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তারা এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করলো যে পদ্ধতির মাধ্যমে জনগন প্রকৃতপক্ষে পরাধিন থাকলেও নিজেদের সাধিন মনে করবে। কিন্তু তাদের আগের মতই ইংরেজদের গোলাম বানিয়ে রাখা যাবে।
এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা এমন এক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা চালু করলো যার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তদের বড় বড় রাষ্ট্রীয় পদ দেওয়া হলো যাতে মুসলিম সহ অন্য জাতি মনে করে ঐ পাশ্চাত্য শিক্ষা ছাড়া অন্য কোন উপায়ে উন্নতি লাভ করা সম্ভব নয়। যার কারনে কিছু মুসলিমরা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় সংস্কৃতি ও মুল বিশ্বাস বাদ দিয়ে যোগ দিলো তাদের সাথে ও ফাঁদে।
ইংরেজরা এমন এক ব্যাবস্থা চালু করেছিল যার মাধ্যমে পার্থিব উন্নতি অর্থাৎ দাজ্জালের জান্নাতের চাবিকাঠি ঝুলয়ে দিলো তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজায়। যার কারনে ঐ শিক্ষার শিক্ষিত হয়ে এমন এক সংকর জাতি সৃষ্টি হলো যাদের জন্ম আমাদের সমাজেই অথচ তাদের চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ, আচার-আচরন সব কিছুই ইংরেজদের মত। ধীরে ধীরে ইংরেজদের চাল সফল। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ একসাথে পাশাপাশি শিক্ষা লাভ করেই ক্ষান্ত থাকেনি বরং নিজেদের মাঝে প্রেম-প্রনয় বিনিময় ঘটিয়ে আধুনিকতার নামে নষ্টামির পরিচয় দিয়েছে। তারা মজা করতে করতে আল্লাহ্র আইনকে সেকেলে বলে(হয়তোবা পরোক্ষভাবে) অবজ্ঞা করেছে।
আর ঐ সংকর জাতের জাতির দ্বারাই প্রভুত্ব বিস্তার এবং জনসাধারণকে নিজের গোলাম বানিয়ে রাখার প্রবণতা দেখতে পাওয়া যায়। মূলত ঐ আগের ইংরেজ লর্ডরা আর বাংলায় আসেনি বরং দেশে থাকতেই এদেশে কিছু ভাইরাস রেখে গিয়েছিল যার কারনে তাদের আদর্শ / তরিকা অবলম্বন করে তাদের অনুসারীরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে জনগনের মাঝে নিজের প্রভুত্ব বিস্তার করেছে। ইংরেজরা নিজে খেয়ে পরে বাচতে চায়নি, তারা নিজের জীবন দিয়ে হলেও পৃথিবীতে নিজেদের আইন প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের পরোক্ষভাবে আল্লাহ্ দাবী করতে চেয়েছিল, যে কাজে আজ আমরাই সাহায্য করছি।
আর এই পদ্ধতির নামই গণতন্ত্র যার উদ্ভাবক আব্রাহাম লিংকন।
গণতন্ত্র বা ডেমোক্রেসী শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ δημοκρατία (ডেমোক্রেসিয়া) থেকে, যার অর্থ "জনগণের শাসন" শব্দটির উৎপত্তি δῆμος (ডেমোস) "জনগণ" ও κράτος (ক্রাটোস) "ক্ষমতা" থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতকে এথেন্স ও অন্যান্য নগর রাষ্ট্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝাতে শব্দটির প্রথম ব্যবহার হয়।
গনতন্ত্রের মুলনীতি কি?
- গনতন্ত্রের মুলনীতি হলো জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স। অর্থাৎ কাওকে উপযুক্ত চয়নের একমাত্র ক্ষমতা জনগনের। রাষ্ট্রের প্রতি সকল নাগরিককে অনুগত থাকতে হবে এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব আলাদা সংবিধান থাকতে হবে সেই সংবিধান অনুযায়ী আইন মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ গণতন্ত্র হল একটি মানব দ্বীন বা মানবচরিত জীবন ব্যবস্থা বা মানব ধর্ম।
গনতন্ত্রের কার্যক্রম কী?
- গনতান্ত্রিক ভোটদান পদ্ধতিতে উপস্থিত প্রাপ্তবয়স্ক যোগ্য (Qualified) সকলেই তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রদান করে এবং সংখ্যাগুরুতার ভিত্তিতে নিবার্চন (Selection) করা হয়।
এবার আসুন দেখি ইসলাম এ সম্পর্কে কি বলে? ইসলামের আলোকে গণতন্ত্র কি?
১। গনতন্ত্রে প্রাপ্তবয়স্ক সবার স্বাধীন মতামতের সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক মানেই বুদ্ধিমান কিংবা জ্ঞ্যানী নয়। একজন পিএইচডি করা ব্যক্তি আর একজন মুর্খ অশিক্ষিত ব্যাক্তির মাঝে তাদের উভয়ের চিন্তা চেতনার যথেষ্ট পার্থক্য আছে। তারা একইভাবে কোন চিন্তা করেনা। শিক্ষিত মানুষের দ্বারা বেশি উপকার হবে অপরদিকে একজন অশিক্ষিত জাতির দ্বারা বেশি উন্নতি আশা করা যায়না। অথচ গণতন্ত্র বলে 'এখানে সবাই সমান'। এইসব কথা বলে বোকাদের আটকিয়ে রেখেছে মায়াজালে। তাহলে সবাই যদি সমান হয় তবে রাস্তা থেকে তুলে এনে সংসদে বসিয়ে দিন, সে পরিচালনা করুক দেশ।
গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জ্ঞ্যানী এবং নির্বোধ সকলেই অংশ নেয়। অথচ বিশ্বে জ্ঞ্যানীর চেয়ে নির্বোধের পরিমান অত্যাধিক বেশী। আর যেহেতু সংখ্যাগুরুতার ওপর ভিত্তি করে নিবার্চন হয়ে তাই কোন সমাজে নির্বোধ বেশী থাকায় তারা সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে এবং ভুল ব্যক্তিকে চয়ন করে বসে। যার দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুর্খ ও অশিক্ষিতদের হাতে আজ দেশ।
আল্লাহ্ বলেন, "যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথামত চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে।" (সূরা আন’আম-১১৬)
তাই গনতন্ত্র নিঃসন্দেহে একটি ভুল সমাজ ব্যবস্থা কারন এতে অনেক লোকের মতামত নিয়ে চলতে হয়। সুতরাং গণতন্ত্র কুরআনবিরোধী একটি ব্যাবস্থা। কারন আমাদের সমাজে নির্বোধের সংখাই বেশি। আল্লাহ্ নিজেই বলছেন।
২। গনতন্ত্রের মুলনীতি হলো জনগনই সকল ক্ষমতার মুল উত্স।
কিন্তু আল্লাহ বলছেন সকল ক্ষমতার মুল উৎস ও অধিকারী একমাত্র তিনি। তিনি ছাড়া কোন মাবূদ নেই।
রেফারেন্সঃ
"কর্তৃত্বতো কেবল আল্লাহরই।" (সূরা আন আনাম-৫)
"তুমি বলো, হে সর্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর। যাকে ইচ্ছে পদদলিত কর। সবকিছুই তোমার হাতে। নিশ্চয় তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।" (সুরা আল ইমরান-২৬)
তাই গনতন্ত্র একটি ভুল ও শিরকি সমাজ ব্যবস্থা। কারন গনতন্ত্রে আল্লাহ্র সাথে জনগনের শিরক করা হয়। আল্লাহ্র সাথে যাদের তুলনা করা হয় বা শিরক করা হয় তারা সবই তাগুত। আর তাগুত সম্পর্কে আল্লাহ্ আল কুরআনে ধমক দিয়ে বলছেন,
'খবরদার এক আল্লাহ্ ব্যাতিত আর কোন মাবুদকে গ্রহন করোনা, কারন সামনে মাথা নত করোনা। আর সকল তাগুতকে বর্জন করো।' (সুরা নাহল-৩৬)
৩। গনতন্ত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় নিজস্ব সংবিধান তৈরী করা বাধ্যতামুলক। এবং সকল গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজস্ব সংবিধান রয়েছে। আর সেই সংবিধান তৈরিতে আল্লাহ্র আইন বাদ দিয়ে নিজেদের বানোয়াট বিধান প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কিন্তু ইসলামে আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করাটা একেবারেই হারাম হারাম এবং হারাম। এবং যারা এটা করে তারা মুসলিম থাকেনা, তারা সাথে সাথে কাফির হয়ে যায়।
রেফারেন্সঃ
"আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল কাফের।"
{সূরা মায়িদা-৪৪}
"আল্লাহ যা অবতীর্ণ
করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল জালেম।"
{সূরা মায়িদা-৪৫}
তাই গনতন্ত্র একটি কুফরি সমাজ ব্যবস্থা। আর যারা গনতন্ত্রে বিশ্বাসী তারা কুফরি করে। আর যারা বুঝে শুনে কুফি করে তারা কাফির হয়ে যায়, তাদের নতুন করে তাউবা করে ইমান আনা ফরজ হয়ে পড়ে। কেননা নিজস্ব সংবিধান থাকা মানেই ঐ সংবিধানের রচয়িতাকে রব বলে মেনে নেওয়ারই শামিল।
৪। গনতন্ত্র হলো জুয়া কেননা এটি অনিশ্চিত ব্যবস্থা, এতে কে জয়ী হবে এবং পরাজয় হবে তা কেউ জানেনা। এটি ভাগ্য পরীক্ষার শর তাই গনতন্ত্র হলো ভাগ্যপরীক্ষার মতোই।
আর জুয়া কিংবা ভাগ্যপরীক্ষা ইসলামে হারাম।
রেফারেন্স:
"হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈধ নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাকো যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।" (সুরা মায়িদাহ-৯০)
"তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তবে বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পারো। (সুরা আল বাকারা-২২৯)
তাই গনতন্ত্র হারাম এবং সম্পূর্ণ ইসলাম পরিপন্থী। এই গণতন্ত্র ইসলামের কোন আইন না, যারা গণতন্ত্র মানে তারা সরাসরি কুফরে লিপ্ত হয়। আর কাফিরের শাস্তি জাহান্নাম।
ফেরাউন কখনও বলেনি আমি সূর্যের মালিক, ফেরাউন কখনও বলেনি আমি চন্দ্রের মালিক, ফেরাউন কখনও বলেনি আমি এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। বরং সে বলেছে 'আমি পৃথিবীর ক্ষমতার মালিক অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব এর মালিক'। আর আল্লাহ্ বলছেন 'সকল ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ্র' আর একারনেই ফেরাউনের ওপর খোদা দাবী করার লানত বর্ষণ হয়েছে। তাই অন্য কেউ যদি বলে 'আমরা সার্বভৌমত্বের মালিক' তবে সেও পরক্ষভাবে নিজেকে আল্লাহ্র দাবী করে ফলে সে হয়ে যায় তাগুত অর্থাৎ মিথ্যা মাবূদ। আর আল্লাহ্ বলেন 'খবরদার তোমরা এক আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের ইবাদত করোনা, এবং তাগুতকে বর্জন করো'। অর্থাৎ তাগুতকে বর্জন না করলে ঈমান কখনই পূর্ণ হবেনা।
আজকে গণতান্ত্রিক সকল রাষ্ট্রের প্রধানেরা বলছে 'আমরা এদেশের ক্ষমতার মালিক' আর এটা দাবী করার সাথে সাথে সে নিজেকে আল্লাহ্ দাবী করে বসে। তাহলে আপনি যদি ই গণতন্ত্রের গোলামি করেন তবে আপনি ঐ রাষ্ট্র প্রধানদের বান্দায় পরিণত হবেন এবং তারা আপনার প্রভু হবে। আপনি যদি এক আল্লাহরকে বাদ দিয়ে অন্যকে প্রভু হিসেবে মেনে নেন তবে আপনি কীভাবে নিজেকে মুসলিম দাবী করবেন?
বন্ধুগণ! খবরদার সাবধান হোন। শিরকের কোন ক্ষমা নাই। আল্লাহ্ বার বার সকল তাগুতকে বর্জন করার জন্য বলেছেন। কারন এইসব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধানেরা প্রত্যেকেই দাজ্জালের উত্তরসূরি। তাদের দেখানো পথের জান্নাত কেবল নামাজ কালামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামের কথা বললেই আপনি মৌলবাদী। তাদের জান্নাত হল আল্লাহ্র জাহান্নাম।
এবার শেষ অংশে গণতন্ত্র নিয়ে কিছু প্রশ্নের জবাবঃ
* কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাসুল সাঃ প্রায়ই সাহাবীদের সাথে ঐ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। এটা কি গণতন্ত্রের আলামত?
উত্তরঃ না। কারন রাসুল সাঃ নিজে থেকে কোন সিদ্ধান্ত নিতেন না, সবই আল্লাহ্র নির্দেশে করতেন। আর মজার ব্যাপার হলো সাহাবীদের সাথে তিনি আলোচনা করতেন ঠিকই তবে সাহাবীদের মাঝে ভোট করতেন না। তাছাড়া সাহাবীরা সকলেই জ্ঞানী ছিলেন তাই সেখানে তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ভুল হতোনা।
* রাসুলে পাক সাঃ এর মৃত্যুর পর খলিফা নির্বাচন কিভাবে করতেন?
উত্তর: রাসুলে কারীম সাঃ এর ইন্তেকালের পর খলিফা নির্বাচনে সাহাবীরাই মুখ্য ভুমিকা পালন করতেন আর তারা ছিলেন জ্ঞ্যানী ও বুদ্ধিমান। তাই তাদের দ্বারা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন ওঠেনা। তাঁদের সমন্বয়ে কয়েক সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল তৈরী করেছিলেন যারা সবকিছু বিচার বিশ্লেষন করে খলিফা নির্বাচন করতেন। যেহেতু সেখানে বুদ্ধিমান লোকদের দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হতো তাই নিবার্চন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতো।
এখন এখানে প্রশ্ন আসতে পারে 'ঐ কমিটি নির্বাচন করা হতো কীভাবে?'।
হাদিসে এসেছে, ইমাম হওয়ার যোগ্যতা যাদের রয়েছে তারাই এটা হতে পারবেন। সুতরাং খলিফা নির্ধারণের দায়িত্ব সহিহ সুন্নাহ মোতাবেক চলনেওয়ালা ইমাম ও মুজাহিদদের যারা আল্লাহ্র রাস্তায় জ্বিহাদ করছে।
* ইসলামে কোন তন্ত্রে বিশ্বাসী?
উত্তর: ইসলাম কোন তন্ত্র নামক মন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। ইসলাম কেবল খিলাফাতে বিশ্বাসী আর একমাত্র খিলাফতই সঠিক ব্যবস্থা কেননা এতে সংখ্যাগুরু নির্বোধদের প্রয়োজন হয়না, এর সকল বিধান এক আল্লাহ্ই তৈরি করে দিয়েছেন। খিলাফতে জনগন ক্ষমতার উত্স হয়না, নিজস্ব সংবিধান ও আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হয়না। এতে কোন রাষ্ট্রীয় শিরকের সুযোগ নেই এবং এটি জুয়া বা অনিশ্চিত না। সুতরাং একমাত্র মুক্তির পথ খিলাফাত।
আর খিলাফত আনতে হবে কেবল রাসুল সাঃ এর দেখানো পথে। যেভাবে আল্লাহ্ বলেছেন, যেভাবে রাসুল সাঃ শিখিয়েছেন এবং যেভাবে সাহাবীরা পালন করেছেন আমাদেরও ঠিক সেভাবেই আল্লাহ্র দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যদি রাসুল সাঃ এর দেখানো পথ বাদ দিয়ে আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র মেনে নিই তবে তা স্পষ্ট কুফরি হয়ে যাবে। আর জেনে শুনে যারা কুফরি করে তারা কাফির হয়ে যায়। এটা আমার ফতোয়া নয়, এটা স্বয়ং আল্লাহ্ বলেছেন।
তাই আমার ভাই! আপনি কার তরীকা গ্রহন করতে ইচ্ছুক? রাসুল সাঃ এর তরিকা নাকি আব্রাহাম লিংকনের তরীকা?
* রাসুল সাঃ এর দেখানো পথ কোনটা?
উত্তরঃ রাসুল সাঃ এর দেখানো পথ হলো আল্লাহ্র পথে জ্বিহাদ। তিনি ৪৫ বছর বয়স থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত ২৭ টিরও বেশি যুদ্ধে নিজে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুদ্ধে তরবারি দিয়ে অংশগ্রহন করতেন এবং যুদ্ধে তার দাঁত মোবারক শহীদ হওয়ার পরেও যুদ্ধ থামাননি।
আর জ্বিহাদই হলো আল্লাহ্র হুকুম ইবাদাত এবং রাসুল সাঃ এর দেখানো তরীকা।
রেফারেন্সঃ ২:১৯১, ২:১৯৩, ২:২১৬, ২:২৪৪, ৪:৭৪, ৪:৮৯, ৪:৯৫, ৫:৩৩, ৮:১২, ৮:৩৯, ৮:৫৭... ইত্যাদি কয়েকশ আয়াত রয়েছে যার প্রমান।
এবার আসুন দেখি অনেক দ্বীনি ভাই (আল্লাহ্ তাদের হেদায়াত দান করুন) গণতন্ত্রের পক্ষে যুক্তি দেখায়, সেগুলো খণ্ডন করা হোক।
* 'হুট করে আমরা দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে পারবোনা তাই একটি কৌশল বা হিকমাহ অবলম্বন করেছি। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ বা রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেই আমরা দেশে ইসলামী আইন কায়েম করবো।'
খণ্ডনঃ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও ইসলাম কায়েম করতে পারবেন না। কারন ক্ষমতা পাওয়ার পরে গণতন্ত্রের মুল হোতা অ্যামেরিকা নিয়ন্ত্রন করবে এতে তারা কখনই দেশে খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করতে দিবেনা। তাছাড়াও বিরোধীদল ও অন্যান্য বাম দলেরা কখনই চাইবেনা দেশ ধর্ম নিরপেক্ষতা থেকে মুক্তি পাক। এজন্য তারা দেশে আন্দোলন ও প্রতিরোধ করবে। মুরশির মত সেনাবাহিনী কর্তৃক পদচুত্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে ফলে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। সেই সময় ক্ষমতা ছেড়ে আপনাদেরও রাজপথে নেমে লড়াই করতে হবে।
সেই ভবিষ্যতের লড়াইটাই এখন করুন যাতে গণতন্ত্রের গোলামি না করতে হয়।
* 'হুজুর পাক সাঃ কাফিরদের সাথেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তাই আমরাও গণতন্ত্র হেকমত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ আকারে ব্যাবহার করছি।'
খণ্ডনঃ রাসুল সাঃ কাফিরদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ঠিকই তবে আল্লাহ্র আইন পরিবর্তনের চুক্তি নয়। কাফিরদের সাথে রাসুল সাঃ এর শান্তি চুক্তি হয়েছিল কিন্তু রাসুল সাঃ খিলাফাতের জন্য কাফিরদের তৈরি আইন মেনে নিয়ে আল্লাহ্র আইন পরিবর্তন করে দেননি। গণতন্ত্র হচ্ছে এমনই একটি জীবন ব্যাবস্থা যার কারনে আল্লাহ্র আইন বাদ দিয়ে মানবরচিত আইন মেনে নিতে হয় অন্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চাপে।
চুক্তির ধারায় উল্ল্যেখ্য যে, কাফিররা মুসলিমদের মারবেনা এবং মুসলিমরা কাফিরদের মারবেনা। কিন্তু কাফিররা যেহুতু চুক্তি ভঙ্গ করে গোটা বিশ্বে মুসলিম হত্যার খেলায় মেতে উঠেছে তখন আমাদের চুক্তিও পূর্ণ হয়েছে অর্থাৎ তাদের সাথে আর কোন চুক্তি নেই।
আপনি কি এমন কোন চুক্তি করবেন যে চুক্তির কারনে আপনি মুসলিম থেকেই খারিজ হয়ে যান?
* 'সবই বুঝি সবই জানি গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়না কিন্তু এছাড়া তো কোন পথ দেখতে পাচ্ছিনা'
খণ্ডনঃ সহিহ রাস্তা হলো আল্লাহ্র পথে জ্বিহাদ। সকল মাযহাব ও বড় বড় সকল মুফতি শাইখরা এই ব্যাপারে একমত যে,
১। যদি কাফেররা মুসলিমদের ভুমিতে (আক্রমন চালানোর উদ্দেশে) প্রবেশ করে।
২। যদি দুই পক্ষ (মুসলিম ও কাফের) একে অপরকে আক্রমণের জন্য আহ্বান জানায়।
৩। যদি মুসলিমদের ইমাম জ্বিহাদের জন্য সাধারণ ডাক দেয়।
৪। যদি কাফেরারা মুসলিমদের মধ্য থেকে কাউকে বা কিছু সংখ্যক লোককে বন্দি করে ফেলে। (হত্যা করলেও প্রযোজ্য)
এই চারটির মাঝে যেকোন একটি হলেই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জ্বিহাদ ফারদুল আইন বা বাধ্যতামূলক ফরজ হয়ে যায় এবং তা অস্বীকারকারী সাথে সাথে কাফির হয়ে যায়।
সকল মাযহাবের আলেমরাও একই কথা বলেছেন।
সুত্রঃ
হানাফি মাযহাবঃ ইবনে আবিদিন - হাশিয়াত ইবন আবিদিন ৩/২৩৮, আল-কাসসানী - বিদায়ী আস-সুনাঈ ৭/৭২, ইবন নাজম-আল-বাহর আর-রায়াহিক ৫/১৯১, ইবন হাম্মাম-ফাতহ আল-কাদীর ৫/১৯১।
মালিকী মাযহাবঃ হাশিয়াত আদ-দুসুসুকী- হাশিয়াত আদ-দুসুসুকী ২/১৭৪
শাফেঈ মাযহাবঃ রামলী-নিহায়াত আল-মাহতাজ ৮/৫৮
হাম্বলী মাযহাবঃ ইবন আল-কুদামাহ্-আল মুগ্লী ৮/৩৫৪, ইবনে তাইমিয়া-আল মাতওা আল কুব্রা ৪/৬০৮।
এছাড়াও সকল আহলে হাদিস, সালাফি এবং অন্যান্যদের আলেমরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। আমাদের উপর তো জ্বিহাদ ফরজ হয়ে আছে তখন থেকেই যখন কাফিররা আমাদের স্পেন দখল করেছে। সুতরাং এই একটি যুদ্ধ ক্ষেত্র ব্যাতিত কিছুই নয়। যেখানে জ্বিহাদ ফরজ হয়ে আছে সেখানে আপনি কীভাবে গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েমের হেকমাহ অবলম্বন করেন?
নামাজ রোযা সবই করেন অথচ কেবলমাত্র গণতন্ত্রে বিশ্বাস করার কারনেই পরোক্ষভাবে জ্বিহাদের মত একটি ফারদুল আইন বা বাধ্যতামূলক আইন অবজ্ঞার কারনে কাফির হয়ে যায় অনেক ভাইই। আল্লাহ্ তাদের হেদায়াত দান করুন। আমীন।
Click here to Mobile Share
![[Democracy is cancer & Islam is the Answer] [Democracy is cancer & Islam is the Answer]](https://fbcdn-photos-e-a.akamaihd.net/hphotos-ak-frc3/1150949_490204394408828_34805778_a.jpg)
সকলেই শেয়ার করুন যাতে সবাই সত্যটা জানতে পারে। এই পোস্টের জোনয় সকল কপিরাইট আইন তুলে নেওয়া হলো। যে যেভাবে পারেন এটি প্রচার করুন
Jafran Hasan Shurjo
26 August 2013 at 22:10
ইন্নালহামদু লিল্লাহ! নাহ্মাদুহূ ওয়া নাস্তা'ঈনুহূ ওয়া নাস্তগ্ফিরুহূ ওয়ানু'মিনুবিহী ওয়ানাতাওয়াক্কালু আলায়হি, ওয়া না'উযু বিল্লাহি মিন শুরুরি আনফুসিনা ওয়ামিন সাইয়্যেআতি আ'মালিনা মাইয়্যাহ্দিহিল্লাহ্ ফালা মুযিল্লালাহূ ওয়া মাইয়্যুযলিল্হু ফালা হাদিয়ালাহূ। ওয়া আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহ্ - ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু। আম্মা বা'দ। ফাআ'উযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম।
সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ সুবহানওয়াতলা'র মহান দরবারে লাখো শুক্রিয়া জ্ঞাপন করছি যিনি আমাদের ইসলামের সত্যটা নির্ভয়ে প্রচারণার তাউফিক এনায়েত করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ্। দরুদ ও সালাম পেশ করছি হুজুরে পাক সাঃ এর ওপর।
আজকের সুন্নাহর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে 'গণতন্ত্র' কে। এই ফায়সালাতেই আমরা দেখব গণতন্ত্র কি, কেন এবং কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে কতটুকু গ্রহণযোগ্য। একটু বড় হলেও আশা করি সকলেই পড়বেন এবং সত্যটা চিনতে পারবেন। সেইসাথে যেকোনো গণতন্ত্র সমর্থনকারির সাথে শক্তিশালি বিতর্কে অংশ নিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্। গণতন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও জবাব নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।
এই আলোচনার প্রথমেই আমরা জানবো, গনতন্ত্র কী?
- আমার মতে 'যে পদ্ধতিতে জনসাধারণের মত সাপেক্ষে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাকেই গনতন্ত্র বলে'। আর গনতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রশাসক থাকলে ঐ রাষ্ট্রকে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায়।
আসুন দেখি এই ব্যাপারে উইকিপিডিয়া কি বলে।
~গণতন্ত্র হলো কোন জাতিরাষ্ট্রের (অথবা কোন সংগঠনের) এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান ভোট বা অধিকার আছে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরীর ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের অংশগ্রহনের সমান সু্যোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে। যদিও শব্দটি সাধারণভাবে একটি রাজনৈতিক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হয় তবে অন্যান্য সংস্থা বা সংগঠনের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, রাষ্ট্র-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
সুত্রঃ [bn.wikipedia.org/wiki/গণতন্ত্র]
ইতিহাসঃ
টানা ২০০ বছর এদেশ ইংরেজরা শাসন ও শোষণের পর যখন তিতুমির/হাজী শরিয়তউল্লাহদের ইংরেজবিরোধী বিদ্রোহ করতে দেখল তখন তারা বুঝতে পারল এদেশে আর এভাবে সরাসরি শাসন করা যাবেনা। ঠিক তখনই 'অমর শাসনত্ব' প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তারা এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করলো যে পদ্ধতির মাধ্যমে জনগন প্রকৃতপক্ষে পরাধিন থাকলেও নিজেদের সাধিন মনে করবে। কিন্তু তাদের আগের মতই ইংরেজদের গোলাম বানিয়ে রাখা যাবে।
এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা এমন এক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা চালু করলো যার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তদের বড় বড় রাষ্ট্রীয় পদ দেওয়া হলো যাতে মুসলিম সহ অন্য জাতি মনে করে ঐ পাশ্চাত্য শিক্ষা ছাড়া অন্য কোন উপায়ে উন্নতি লাভ করা সম্ভব নয়। যার কারনে কিছু মুসলিমরা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় সংস্কৃতি ও মুল বিশ্বাস বাদ দিয়ে যোগ দিলো তাদের সাথে ও ফাঁদে।
ইংরেজরা এমন এক ব্যাবস্থা চালু করেছিল যার মাধ্যমে পার্থিব উন্নতি অর্থাৎ দাজ্জালের জান্নাতের চাবিকাঠি ঝুলয়ে দিলো তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজায়। যার কারনে ঐ শিক্ষার শিক্ষিত হয়ে এমন এক সংকর জাতি সৃষ্টি হলো যাদের জন্ম আমাদের সমাজেই অথচ তাদের চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ, আচার-আচরন সব কিছুই ইংরেজদের মত। ধীরে ধীরে ইংরেজদের চাল সফল। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ একসাথে পাশাপাশি শিক্ষা লাভ করেই ক্ষান্ত থাকেনি বরং নিজেদের মাঝে প্রেম-প্রনয় বিনিময় ঘটিয়ে আধুনিকতার নামে নষ্টামির পরিচয় দিয়েছে। তারা মজা করতে করতে আল্লাহ্র আইনকে সেকেলে বলে(হয়তোবা পরোক্ষভাবে) অবজ্ঞা করেছে।
আর ঐ সংকর জাতের জাতির দ্বারাই প্রভুত্ব বিস্তার এবং জনসাধারণকে নিজের গোলাম বানিয়ে রাখার প্রবণতা দেখতে পাওয়া যায়। মূলত ঐ আগের ইংরেজ লর্ডরা আর বাংলায় আসেনি বরং দেশে থাকতেই এদেশে কিছু ভাইরাস রেখে গিয়েছিল যার কারনে তাদের আদর্শ / তরিকা অবলম্বন করে তাদের অনুসারীরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে জনগনের মাঝে নিজের প্রভুত্ব বিস্তার করেছে। ইংরেজরা নিজে খেয়ে পরে বাচতে চায়নি, তারা নিজের জীবন দিয়ে হলেও পৃথিবীতে নিজেদের আইন প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের পরোক্ষভাবে আল্লাহ্ দাবী করতে চেয়েছিল, যে কাজে আজ আমরাই সাহায্য করছি।
আর এই পদ্ধতির নামই গণতন্ত্র যার উদ্ভাবক আব্রাহাম লিংকন।
গণতন্ত্র বা ডেমোক্রেসী শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ δημοκρατία (ডেমোক্রেসিয়া) থেকে, যার অর্থ "জনগণের শাসন" শব্দটির উৎপত্তি δῆμος (ডেমোস) "জনগণ" ও κράτος (ক্রাটোস) "ক্ষমতা" থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতকে এথেন্স ও অন্যান্য নগর রাষ্ট্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝাতে শব্দটির প্রথম ব্যবহার হয়।
গনতন্ত্রের মুলনীতি কি?
- গনতন্ত্রের মুলনীতি হলো জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স। অর্থাৎ কাওকে উপযুক্ত চয়নের একমাত্র ক্ষমতা জনগনের। রাষ্ট্রের প্রতি সকল নাগরিককে অনুগত থাকতে হবে এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব আলাদা সংবিধান থাকতে হবে সেই সংবিধান অনুযায়ী আইন মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ গণতন্ত্র হল একটি মানব দ্বীন বা মানবচরিত জীবন ব্যবস্থা বা মানব ধর্ম।
গনতন্ত্রের কার্যক্রম কী?
- গনতান্ত্রিক ভোটদান পদ্ধতিতে উপস্থিত প্রাপ্তবয়স্ক যোগ্য (Qualified) সকলেই তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রদান করে এবং সংখ্যাগুরুতার ভিত্তিতে নিবার্চন (Selection) করা হয়।
এবার আসুন দেখি ইসলাম এ সম্পর্কে কি বলে? ইসলামের আলোকে গণতন্ত্র কি?
১। গনতন্ত্রে প্রাপ্তবয়স্ক সবার স্বাধীন মতামতের সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক মানেই বুদ্ধিমান কিংবা জ্ঞ্যানী নয়। একজন পিএইচডি করা ব্যক্তি আর একজন মুর্খ অশিক্ষিত ব্যাক্তির মাঝে তাদের উভয়ের চিন্তা চেতনার যথেষ্ট পার্থক্য আছে। তারা একইভাবে কোন চিন্তা করেনা। শিক্ষিত মানুষের দ্বারা বেশি উপকার হবে অপরদিকে একজন অশিক্ষিত জাতির দ্বারা বেশি উন্নতি আশা করা যায়না। অথচ গণতন্ত্র বলে 'এখানে সবাই সমান'। এইসব কথা বলে বোকাদের আটকিয়ে রেখেছে মায়াজালে। তাহলে সবাই যদি সমান হয় তবে রাস্তা থেকে তুলে এনে সংসদে বসিয়ে দিন, সে পরিচালনা করুক দেশ।
গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জ্ঞ্যানী এবং নির্বোধ সকলেই অংশ নেয়। অথচ বিশ্বে জ্ঞ্যানীর চেয়ে নির্বোধের পরিমান অত্যাধিক বেশী। আর যেহেতু সংখ্যাগুরুতার ওপর ভিত্তি করে নিবার্চন হয়ে তাই কোন সমাজে নির্বোধ বেশী থাকায় তারা সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে এবং ভুল ব্যক্তিকে চয়ন করে বসে। যার দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুর্খ ও অশিক্ষিতদের হাতে আজ দেশ।
আল্লাহ্ বলেন, "যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথামত চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে।" (সূরা আন’আম-১১৬)
তাই গনতন্ত্র নিঃসন্দেহে একটি ভুল সমাজ ব্যবস্থা কারন এতে অনেক লোকের মতামত নিয়ে চলতে হয়। সুতরাং গণতন্ত্র কুরআনবিরোধী একটি ব্যাবস্থা। কারন আমাদের সমাজে নির্বোধের সংখাই বেশি। আল্লাহ্ নিজেই বলছেন।
২। গনতন্ত্রের মুলনীতি হলো জনগনই সকল ক্ষমতার মুল উত্স।
কিন্তু আল্লাহ বলছেন সকল ক্ষমতার মুল উৎস ও অধিকারী একমাত্র তিনি। তিনি ছাড়া কোন মাবূদ নেই।
রেফারেন্সঃ
"কর্তৃত্বতো কেবল আল্লাহরই।" (সূরা আন আনাম-৫)
"তুমি বলো, হে সর্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর। যাকে ইচ্ছে পদদলিত কর। সবকিছুই তোমার হাতে। নিশ্চয় তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।" (সুরা আল ইমরান-২৬)
তাই গনতন্ত্র একটি ভুল ও শিরকি সমাজ ব্যবস্থা। কারন গনতন্ত্রে আল্লাহ্র সাথে জনগনের শিরক করা হয়। আল্লাহ্র সাথে যাদের তুলনা করা হয় বা শিরক করা হয় তারা সবই তাগুত। আর তাগুত সম্পর্কে আল্লাহ্ আল কুরআনে ধমক দিয়ে বলছেন,
'খবরদার এক আল্লাহ্ ব্যাতিত আর কোন মাবুদকে গ্রহন করোনা, কারন সামনে মাথা নত করোনা। আর সকল তাগুতকে বর্জন করো।' (সুরা নাহল-৩৬)
৩। গনতন্ত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় নিজস্ব সংবিধান তৈরী করা বাধ্যতামুলক। এবং সকল গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজস্ব সংবিধান রয়েছে। আর সেই সংবিধান তৈরিতে আল্লাহ্র আইন বাদ দিয়ে নিজেদের বানোয়াট বিধান প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কিন্তু ইসলামে আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করাটা একেবারেই হারাম হারাম এবং হারাম। এবং যারা এটা করে তারা মুসলিম থাকেনা, তারা সাথে সাথে কাফির হয়ে যায়।
রেফারেন্সঃ
ÒAvi
Avcwb Avj-vn& hv AeZxb© K‡i‡Qb Zv w`‡q Zv‡`i gv‡S dvqmvjv Ki“b Ges
Avcbvi
Kv‡Q †h mZ¨ G‡m‡Q, Zv †Q‡o Zv‡`i cÖe„wËi AbymiY Ki‡eb bv|Ó
[m~iv
Avj gvwq`v : 48]
ÒAvi
Avcwb Avj-vn& hv AeZxb© K‡i‡Qb Zv w`‡q Zv‡`i gv‡S dvqmvjv Ki“b,
Avi
Zv‡`i cÖe„wËi AbymiY Ki‡eb bv Ges Zv‡`i e¨vcv‡i mZK© _vKzb; †hb Zviv
Avcbvi
wbKU Avj-vn&Õi †cÖwiZ †Kvb weavb †_‡K Avcbv‡K wePz¨Z
Ki‡Z
bv cv‡i|Ó [m~iv Avj gvwq`v : 49]
ÒAvj-vn&
hv bvwhj K‡i‡Qb Z`byhvqx hviv wePvi dvqmvjv K‡i bv, ZvivB †Zv
Kv‡di|Ó
[m~iv Avj gvwq`v : 44]
ÒAvjvn&
hv bvwhj K‡i‡Qb Z`byhvqx hviv wePvi dvqmvjv K‡i bv, ZvivB †Zv hvwjg|
Ó
[m~iv Avj gvwq`v : 45]
Ges
ÒAvjvn&
hv bvwhj K‡i‡Qb Z`byhvqx hviv wePvi dvqmvjv K‡i bv, ZvivB †Zv
dv‡mK|Ó
[m~iv Avj-gvwq`v: 47]
"আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল কাফের।"
{সূরা মায়িদা-৪৪}
"আল্লাহ যা অবতীর্ণ
করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল জালেম।"
{সূরা মায়িদা-৪৫}
তাই গনতন্ত্র একটি কুফরি সমাজ ব্যবস্থা। আর যারা গনতন্ত্রে বিশ্বাসী তারা কুফরি করে। আর যারা বুঝে শুনে কুফি করে তারা কাফির হয়ে যায়, তাদের নতুন করে তাউবা করে ইমান আনা ফরজ হয়ে পড়ে। কেননা নিজস্ব সংবিধান থাকা মানেই ঐ সংবিধানের রচয়িতাকে রব বলে মেনে নেওয়ারই শামিল।
৪। গনতন্ত্র হলো জুয়া কেননা এটি অনিশ্চিত ব্যবস্থা, এতে কে জয়ী হবে এবং পরাজয় হবে তা কেউ জানেনা। এটি ভাগ্য পরীক্ষার শর তাই গনতন্ত্র হলো ভাগ্যপরীক্ষার মতোই।
আর জুয়া কিংবা ভাগ্যপরীক্ষা ইসলামে হারাম।
রেফারেন্স:
"হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈধ নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাকো যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।" (সুরা মায়িদাহ-৯০)
"তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তবে বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পারো। (সুরা আল বাকারা-২২৯)
তাই গনতন্ত্র হারাম এবং সম্পূর্ণ ইসলাম পরিপন্থী। এই গণতন্ত্র ইসলামের কোন আইন না, যারা গণতন্ত্র মানে তারা সরাসরি কুফরে লিপ্ত হয়। আর কাফিরের শাস্তি জাহান্নাম।
ফেরাউন কখনও বলেনি আমি সূর্যের মালিক, ফেরাউন কখনও বলেনি আমি চন্দ্রের মালিক, ফেরাউন কখনও বলেনি আমি এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। বরং সে বলেছে 'আমি পৃথিবীর ক্ষমতার মালিক অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব এর মালিক'। আর আল্লাহ্ বলছেন 'সকল ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ্র' আর একারনেই ফেরাউনের ওপর খোদা দাবী করার লানত বর্ষণ হয়েছে। তাই অন্য কেউ যদি বলে 'আমরা সার্বভৌমত্বের মালিক' তবে সেও পরক্ষভাবে নিজেকে আল্লাহ্র দাবী করে ফলে সে হয়ে যায় তাগুত অর্থাৎ মিথ্যা মাবূদ। আর আল্লাহ্ বলেন 'খবরদার তোমরা এক আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের ইবাদত করোনা, এবং তাগুতকে বর্জন করো'। অর্থাৎ তাগুতকে বর্জন না করলে ঈমান কখনই পূর্ণ হবেনা।
আজকে গণতান্ত্রিক সকল রাষ্ট্রের প্রধানেরা বলছে 'আমরা এদেশের ক্ষমতার মালিক' আর এটা দাবী করার সাথে সাথে সে নিজেকে আল্লাহ্ দাবী করে বসে। তাহলে আপনি যদি ই গণতন্ত্রের গোলামি করেন তবে আপনি ঐ রাষ্ট্র প্রধানদের বান্দায় পরিণত হবেন এবং তারা আপনার প্রভু হবে। আপনি যদি এক আল্লাহরকে বাদ দিয়ে অন্যকে প্রভু হিসেবে মেনে নেন তবে আপনি কীভাবে নিজেকে মুসলিম দাবী করবেন?
বন্ধুগণ! খবরদার সাবধান হোন। শিরকের কোন ক্ষমা নাই। আল্লাহ্ বার বার সকল তাগুতকে বর্জন করার জন্য বলেছেন। কারন এইসব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধানেরা প্রত্যেকেই দাজ্জালের উত্তরসূরি। তাদের দেখানো পথের জান্নাত কেবল নামাজ কালামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামের কথা বললেই আপনি মৌলবাদী। তাদের জান্নাত হল আল্লাহ্র জাহান্নাম।
এবার শেষ অংশে গণতন্ত্র নিয়ে কিছু প্রশ্নের জবাবঃ
* কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাসুল সাঃ প্রায়ই সাহাবীদের সাথে ঐ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। এটা কি গণতন্ত্রের আলামত?
উত্তরঃ না। কারন রাসুল সাঃ নিজে থেকে কোন সিদ্ধান্ত নিতেন না, সবই আল্লাহ্র নির্দেশে করতেন। আর মজার ব্যাপার হলো সাহাবীদের সাথে তিনি আলোচনা করতেন ঠিকই তবে সাহাবীদের মাঝে ভোট করতেন না। তাছাড়া সাহাবীরা সকলেই জ্ঞানী ছিলেন তাই সেখানে তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ভুল হতোনা।
* রাসুলে পাক সাঃ এর মৃত্যুর পর খলিফা নির্বাচন কিভাবে করতেন?
উত্তর: রাসুলে কারীম সাঃ এর ইন্তেকালের পর খলিফা নির্বাচনে সাহাবীরাই মুখ্য ভুমিকা পালন করতেন আর তারা ছিলেন জ্ঞ্যানী ও বুদ্ধিমান। তাই তাদের দ্বারা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন ওঠেনা। তাঁদের সমন্বয়ে কয়েক সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল তৈরী করেছিলেন যারা সবকিছু বিচার বিশ্লেষন করে খলিফা নির্বাচন করতেন। যেহেতু সেখানে বুদ্ধিমান লোকদের দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হতো তাই নিবার্চন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতো।
এখন এখানে প্রশ্ন আসতে পারে 'ঐ কমিটি নির্বাচন করা হতো কীভাবে?'।
হাদিসে এসেছে, ইমাম হওয়ার যোগ্যতা যাদের রয়েছে তারাই এটা হতে পারবেন। সুতরাং খলিফা নির্ধারণের দায়িত্ব সহিহ সুন্নাহ মোতাবেক চলনেওয়ালা ইমাম ও মুজাহিদদের যারা আল্লাহ্র রাস্তায় জ্বিহাদ করছে।
* ইসলামে কোন তন্ত্রে বিশ্বাসী?
উত্তর: ইসলাম কোন তন্ত্র নামক মন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। ইসলাম কেবল খিলাফাতে বিশ্বাসী আর একমাত্র খিলাফতই সঠিক ব্যবস্থা কেননা এতে সংখ্যাগুরু নির্বোধদের প্রয়োজন হয়না, এর সকল বিধান এক আল্লাহ্ই তৈরি করে দিয়েছেন। খিলাফতে জনগন ক্ষমতার উত্স হয়না, নিজস্ব সংবিধান ও আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হয়না। এতে কোন রাষ্ট্রীয় শিরকের সুযোগ নেই এবং এটি জুয়া বা অনিশ্চিত না। সুতরাং একমাত্র মুক্তির পথ খিলাফাত।
আর খিলাফত আনতে হবে কেবল রাসুল সাঃ এর দেখানো পথে। যেভাবে আল্লাহ্ বলেছেন, যেভাবে রাসুল সাঃ শিখিয়েছেন এবং যেভাবে সাহাবীরা পালন করেছেন আমাদেরও ঠিক সেভাবেই আল্লাহ্র দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যদি রাসুল সাঃ এর দেখানো পথ বাদ দিয়ে আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র মেনে নিই তবে তা স্পষ্ট কুফরি হয়ে যাবে। আর জেনে শুনে যারা কুফরি করে তারা কাফির হয়ে যায়। এটা আমার ফতোয়া নয়, এটা স্বয়ং আল্লাহ্ বলেছেন।
তাই আমার ভাই! আপনি কার তরীকা গ্রহন করতে ইচ্ছুক? রাসুল সাঃ এর তরিকা নাকি আব্রাহাম লিংকনের তরীকা?
* রাসুল সাঃ এর দেখানো পথ কোনটা?
উত্তরঃ রাসুল সাঃ এর দেখানো পথ হলো আল্লাহ্র পথে জ্বিহাদ। তিনি ৪৫ বছর বয়স থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত ২৭ টিরও বেশি যুদ্ধে নিজে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুদ্ধে তরবারি দিয়ে অংশগ্রহন করতেন এবং যুদ্ধে তার দাঁত মোবারক শহীদ হওয়ার পরেও যুদ্ধ থামাননি।
আর জ্বিহাদই হলো আল্লাহ্র হুকুম ইবাদাত এবং রাসুল সাঃ এর দেখানো তরীকা।
রেফারেন্সঃ ২:১৯১, ২:১৯৩, ২:২১৬, ২:২৪৪, ৪:৭৪, ৪:৮৯, ৪:৯৫, ৫:৩৩, ৮:১২, ৮:৩৯, ৮:৫৭... ইত্যাদি কয়েকশ আয়াত রয়েছে যার প্রমান।
এবার আসুন দেখি অনেক দ্বীনি ভাই (আল্লাহ্ তাদের হেদায়াত দান করুন) গণতন্ত্রের পক্ষে যুক্তি দেখায়, সেগুলো খণ্ডন করা হোক।
* 'হুট করে আমরা দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে পারবোনা তাই একটি কৌশল বা হিকমাহ অবলম্বন করেছি। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ বা রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেই আমরা দেশে ইসলামী আইন কায়েম করবো।'
খণ্ডনঃ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও ইসলাম কায়েম করতে পারবেন না। কারন ক্ষমতা পাওয়ার পরে গণতন্ত্রের মুল হোতা অ্যামেরিকা নিয়ন্ত্রন করবে এতে তারা কখনই দেশে খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করতে দিবেনা। তাছাড়াও বিরোধীদল ও অন্যান্য বাম দলেরা কখনই চাইবেনা দেশ ধর্ম নিরপেক্ষতা থেকে মুক্তি পাক। এজন্য তারা দেশে আন্দোলন ও প্রতিরোধ করবে। মুরশির মত সেনাবাহিনী কর্তৃক পদচুত্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে ফলে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। সেই সময় ক্ষমতা ছেড়ে আপনাদেরও রাজপথে নেমে লড়াই করতে হবে।
সেই ভবিষ্যতের লড়াইটাই এখন করুন যাতে গণতন্ত্রের গোলামি না করতে হয়।
* 'হুজুর পাক সাঃ কাফিরদের সাথেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তাই আমরাও গণতন্ত্র হেকমত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ আকারে ব্যাবহার করছি।'
খণ্ডনঃ রাসুল সাঃ কাফিরদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ঠিকই তবে আল্লাহ্র আইন পরিবর্তনের চুক্তি নয়। কাফিরদের সাথে রাসুল সাঃ এর শান্তি চুক্তি হয়েছিল কিন্তু রাসুল সাঃ খিলাফাতের জন্য কাফিরদের তৈরি আইন মেনে নিয়ে আল্লাহ্র আইন পরিবর্তন করে দেননি। গণতন্ত্র হচ্ছে এমনই একটি জীবন ব্যাবস্থা যার কারনে আল্লাহ্র আইন বাদ দিয়ে মানবরচিত আইন মেনে নিতে হয় অন্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চাপে।
চুক্তির ধারায় উল্ল্যেখ্য যে, কাফিররা মুসলিমদের মারবেনা এবং মুসলিমরা কাফিরদের মারবেনা। কিন্তু কাফিররা যেহুতু চুক্তি ভঙ্গ করে গোটা বিশ্বে মুসলিম হত্যার খেলায় মেতে উঠেছে তখন আমাদের চুক্তিও পূর্ণ হয়েছে অর্থাৎ তাদের সাথে আর কোন চুক্তি নেই।
আপনি কি এমন কোন চুক্তি করবেন যে চুক্তির কারনে আপনি মুসলিম থেকেই খারিজ হয়ে যান?
* 'সবই বুঝি সবই জানি গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়না কিন্তু এছাড়া তো কোন পথ দেখতে পাচ্ছিনা'
খণ্ডনঃ সহিহ রাস্তা হলো আল্লাহ্র পথে জ্বিহাদ। সকল মাযহাব ও বড় বড় সকল মুফতি শাইখরা এই ব্যাপারে একমত যে,
১। যদি কাফেররা মুসলিমদের ভুমিতে (আক্রমন চালানোর উদ্দেশে) প্রবেশ করে।
২। যদি দুই পক্ষ (মুসলিম ও কাফের) একে অপরকে আক্রমণের জন্য আহ্বান জানায়।
৩। যদি মুসলিমদের ইমাম জ্বিহাদের জন্য সাধারণ ডাক দেয়।
৪। যদি কাফেরারা মুসলিমদের মধ্য থেকে কাউকে বা কিছু সংখ্যক লোককে বন্দি করে ফেলে। (হত্যা করলেও প্রযোজ্য)
এই চারটির মাঝে যেকোন একটি হলেই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জ্বিহাদ ফারদুল আইন বা বাধ্যতামূলক ফরজ হয়ে যায় এবং তা অস্বীকারকারী সাথে সাথে কাফির হয়ে যায়।
সকল মাযহাবের আলেমরাও একই কথা বলেছেন।
সুত্রঃ
হানাফি মাযহাবঃ ইবনে আবিদিন - হাশিয়াত ইবন আবিদিন ৩/২৩৮, আল-কাসসানী - বিদায়ী আস-সুনাঈ ৭/৭২, ইবন নাজম-আল-বাহর আর-রায়াহিক ৫/১৯১, ইবন হাম্মাম-ফাতহ আল-কাদীর ৫/১৯১।
মালিকী মাযহাবঃ হাশিয়াত আদ-দুসুসুকী- হাশিয়াত আদ-দুসুসুকী ২/১৭৪
শাফেঈ মাযহাবঃ রামলী-নিহায়াত আল-মাহতাজ ৮/৫৮
হাম্বলী মাযহাবঃ ইবন আল-কুদামাহ্-আল মুগ্লী ৮/৩৫৪, ইবনে তাইমিয়া-আল মাতওা আল কুব্রা ৪/৬০৮।
এছাড়াও সকল আহলে হাদিস, সালাফি এবং অন্যান্যদের আলেমরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। আমাদের উপর তো জ্বিহাদ ফরজ হয়ে আছে তখন থেকেই যখন কাফিররা আমাদের স্পেন দখল করেছে। সুতরাং এই একটি যুদ্ধ ক্ষেত্র ব্যাতিত কিছুই নয়। যেখানে জ্বিহাদ ফরজ হয়ে আছে সেখানে আপনি কীভাবে গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েমের হেকমাহ অবলম্বন করেন?
নামাজ রোযা সবই করেন অথচ কেবলমাত্র গণতন্ত্রে বিশ্বাস করার কারনেই পরোক্ষভাবে জ্বিহাদের মত একটি ফারদুল আইন বা বাধ্যতামূলক আইন অবজ্ঞার কারনে কাফির হয়ে যায় অনেক ভাইই। আল্লাহ্ তাদের হেদায়াত দান করুন। আমীন।
Click here to Mobile Share
![[Democracy is cancer & Islam is the Answer] [Democracy is cancer & Islam is the Answer]](https://fbcdn-photos-e-a.akamaihd.net/hphotos-ak-frc3/1150949_490204394408828_34805778_a.jpg)
[Democracy is cancer & Islam is the Answer]
সকলেই শেয়ার করুন যাতে সবাই সত্যটা জানতে পারে। এই পোস্টের জোনয় সকল কপিরাইট আইন তুলে নেওয়া হলো। যে যেভাবে পারেন এটি প্রচার করুন
Jafran Hasan Shurjo
26 August 2013 at 22:10
কেন গণতন্ত্রকে বর্জন করবেন না......
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
