গণতন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন - প্রথম পর্ব
28 January 2014 at 22:50
বিশ্বায়নহলো বর্তমানবিশ্ব তাগুতআমেরিকার মূলশ্লোগান।এতে তিনটিপ্রধান বিষয়হলোঃ
এ তিনটি বিষয়প্রতীক আকারেUS ONEDOLLAR এ PYRAMID দ্বারাসংকেতায়িত করা হয়েছে। পাশ্চাত্যেরপ্রতিভু আমেরিকাতথা Judeo Christian Civilization এর ধারকবাহকরা আমাদেরকে তাদের প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশে আবদ্ধকরার কালেইআমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন ও দ্বিমুখী শিক্ষারপ্রচলন;আমাদেরশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণতথা আলেমদেরহত্যা করণ,আমাদের ইতিহাসঐতিহ্যকে আমাদেরযুব সমাজেরস্মরণ থেকেগোপন করণকিংবা স্থানবিশেষ বিকৃতভাবেউপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সাধারণ শিক্ষিতদেরমাঝে দ্বীনেরমৌলিক বিষয়সম্পর্কে বিস্মৃতিও নানারূপসন্দেহ সৃষ্টিকরে।
এর সাথেতাদের আদর্শ,ইতিহাস, ঐতিহ্যযে বর্তমানবিশ্বের সকলেরজন্য অনুকরণীয়,অনুসরণীয় সেকথা অুনধাবনকরাতে বিন্দুমাত্রকসুর করেনি। বৃটিশদেরপ্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিকতা এবং তৎপরবর্তী কর্তৃত্ববাদীরাষ্ট্রের ভূমিকায় অভিনয়কারী আমেরিকার অপ্রত্যক্ষউপনিবেশ সেইএকই ধারাবজায় রেখেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্যায়ে New York এর অদূরে Bretton Woods নামক জায়গায় ১৯৪৪সনে Judeo christen সভ্যতার ধারক ও বাহকগণ সমগ্র বিশ্বেরঅর্থনীতিকে নিজেদের অনুকূলে ঢেলে সাজাতেএবং যাবতীয়মুনাফা ওপ্রবৃদ্ধি যাতে আমেরিকা এবং পাশ্চাত্যেবিশ্বের অনুকূলেপ্রবাহিত হয়েতার নীলনক্সা প্রণয়নকরে।
তারই পরিণতিতে IMF এবং WORLD BANK সৃষ্টিহয়।এই IMF,WORLD BANK জাতিসংঘের ছত্রছায়ায়(যেখানে সেইআমেরিকা এবংপাশ্চাত্যদেরই নিরংকুশ নিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠিত) বিশ্ববানিজ্যব্যবস্থার লেনদেনে এবং পণ্য ওঅর্থ প্রবাহেএমন সবনীতি ওনিয়ম-এরপ্রচলন করেছে,যার পরিণতিতেসম্পদ কেবলতাদের দিকেইপ্রবাহিত হবারব্যবস্থা নিশ্চিতহয়েছে।
পরবর্তীতে অবশ্য অনেকেই বিষয়টি যেপরিস্কার ষড়যন্ত্রতা বুঝতেপারে।কিন্তু ততক্ষণেএদের ষড়যন্ত্রপাকাপোক্ত হয়ে তাদের অনুকূলে বিশালঅর্থ সঞ্চয়েরসুযোগ সৃষ্টিকরে দেয়। অবৈধলুন্ঠিত অর্থেতারা অস্ত্রউৎপাদন, অস্ত্র-ব্যবসা, যুদ্ধ-চাপান, শুধুমাত্রপ্রচার-প্রপাগান্ডারমাধ্যমে দুইভ্রাতৃপ্রতীম প্রতিবেশির মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টিইত্যাকার কলাকৌশলবাকী বিশ্বকেশোষণ করারসুযোগ উত্তরোত্তরবৃদ্ধি করে।
তাদেরএ ষড়যন্ত্রেরসব চাইতেখারাপ পরিণতিহয় মুসলিমবিশ্বে।এখানকার সকলসম্পদের উপরওদের (অর্থাৎপাশ্চাত্যের) নিয়ন্ত্রণ উত্তরাত্তোর বৃদ্ধি পায়। এনিয়ন্ত্রণ এতটাই নিখুত এবং সর্বব্যাপিহলো যেসেপ্টেম্বর ১১ এর পর তারামুজাহিদিনদের সাহায্য করা হয়এ অজুহাতেমধ্যপ্রাচ্য থেকে আমাদের মত দেশগুলোরবিভিন্ন ইসলামি N.G.O তে যে সবসাহায্য আসতোতার সবইতাদের প্রত্যক্ষতত্বাবধানে নিয়ে নেয়।এমনকিব্যক্তিগত একাউন্টগুলোর অর্থ স্থানান্তরেও তারাতাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয়।আমরা যেনামে মাত্রস্বাধীন এবংবাস্তবে পরাধীনএকথা এখনঅনেকেই একটুএকটু বুঝতেশিখছেন।
প্রযুক্তি,শিক্ষা, তথ্যএগুলোর আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেওতারা এমনসব Classified নিয়ম নীতিরপ্রচলন করেযাতে কোনউন্নত প্রযুক্তিইতাদের অনুমোদনেরবাইরে অন্যত্রবিকাশ হওয়াপ্রায় অসম্ভবহয়ে পড়ে। বলাবাহুল্য কোন্দেশ কতটাঅনুমোদন পাবেতা তারা,তাদের আদর্শতথা বিশ্বায়নেরনিয়মগুলোকে কারা নিঃশর্তভাবে মেনে নিচ্ছেসেই হিসাবকরেই দেয়। Super Specialized Technologyএবং War ammunition এর ক্ষেত্রেমুসলিম বিশ্বযাতে কোনভাবেইঅগ্রসর হতেনা পারেএ ব্যাপারেতারা সকলব্যবস্থা গ্রহণকরে।
এসব ক্ষেত্রেসোভিয়েত রাশিয়া-এর নেতৃত্বেসমাজতান্ত্রিক দেশগুলো তাদের সাথে কিছুকাল প্রতিযোগিতাকরেছিল এবংগোটা বিশ্বেকিছুটা সমতাসৃষ্টি করেছিল,৯০ এরদশকে রাশিয়াভেঙ্গে যাওয়াতেঅন্যান্য সমাজতান্ত্রিকদেশও ক্রমেক্রমে Novus Ordo Seclorum এর মুলশ্লোগানগুলোকে তাদের নিজেদের শ্লোগানে পরিণতকরল।সুতরাং গোটাবিশ্ব হয়েপড়ল একমেরু বিশ্বে।
এই একমেরু বিশ্বেরচূড়ান্ত কর্তৃত্বেরঅধিষ্ঠিত হয়েতাদের তিনটিশ্লোগান তথাগণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মুক্তবাজার অর্থনীতিরনিকট পরাভবমানার জন্যসমগ্র শক্তিনিয়োগ করে।
একথা অনস্বীকার্যযে, বর্তমানদুনিয়ার লাগামপাশ্চাত্যের হাতে। এদের রাজনৈতিকশ্লোগান হলগনতন্ত্র; সামাজিক বুলি হল মানবাধিকার;আর তাদেরঅর্থনীতির মূল ভিত্তি হল সুদ। সুতরাংযারাই গণতন্ত্রেরকথা বলবেতাদেরকেই পাশ্চাত্যেরআধিপত্যকে নির্বিরোধ মেনে নিতে হবে। আজহোক কালহোক অচিরেতাদেরকে মানবাধিকারেরপাশ্চাত্য ধারণা এবং সুদী অর্থব্যবস্থারশোষণনীতিতে আত্মাহুতি দিতে হবে।
আমাদের দেশেবর্তমানে কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান,অর্থনীতি ওসমাজ বিজ্ঞানেরসিলেবাসগুলোর দিকে একটুমনযোগ দিলেএকথা বুঝতেকারও কষ্টহবে নাযে এসব সিলেবাস পাশ্চাত্যের অনুকরণেপাশ্চাত্যের আদর্শ শিক্ষা দেওয়ার জন্যইসৃষ্টি হয়েছে। আমাদেরকলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোররাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতন্ত্র সম্পর্কে যা লেখারয়েছে, পাশ্চাত্যদেশীয় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও তাই আছে। আমাদেরদেশের অর্থনীতিবিষয়ে যাপড়ানো হয়তা IMF,WORLD BANK,WTO, GATTS,PRSP ,BRETTON WOODS এর PRESCRIPTION ছাড়াআর কিছুইনয়।
আমাদের দেশেসমাজবিজ্ঞানে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মানবাধিকারের যেধারনা উপস্থাপনকরা হয়তা পাশ্চাত্যথেকে ধারকরা ধারণারচাইতে একচুলও বাইরেনয়।
গনতন্ত্র শুধুসরকার গঠন,সরকার পরিচালনাকিংবা সরকারবিলোপ সাধনেরপ্রক্রিয়া নয়। এটি পাশ্চাত্যেরদীর্ঘ ইতিহাসেরআর্থ-সামাজিকবিবর্তনের সার নির্যাস। এটিএকটি আদর্শেরনাম যাপাশ্চাত্য ধারণ করে, যা পাশ্চাত্যআমাদের উপরচাপায়।এর মধামেপাশ্চাত্য আমাদেরকে বর্তমানেও গোলাম বানিয়েরেখেছে এবংতাদের খেদমতেআমাদের মেধা,আমাদের শ্রম,আমাদের সম্পদকেব্যবহার করছে,আর আমাদেরপরিণত করেছেহত দরিদ্রমেরুদন্ডহীন অনুকরণপ্রিয় জাতিতে।
ইউরোপ ওআমেরিকার ইতিহাসযারা পড়েছেন,যারা সেখানকারআর্থ-সামাজিকআন্দোলন ওবিপ্লবগুলোর যার নির্যাস জেনেছেন তারাসকলেই সাক্ষ্যদিবেন যে,গণতন্ত্র একটিআদর্শের রাজনৈতিকপ্রতিনিধি যার সামাজিক দিককে তারামানবাধিকারের মোড়কে আমাদের নিকট তুলেধরে।এর অর্থনৈতিকপ্রতিনিধি হল সুদ ভিত্তিক IMF,WORLDBANK এর দেয়া ফর্মূলায় নির্মিতমুক্তবাজার অর্থনীতি।

সামির খান
তথ্য সুত্রঃ বিশ্বায়ন, খিলাফা ও তাগুত।
- গণতন্ত্র
- মানবাধিকার
- মুক্তবাজারঅর্থনীতি
এ তিনটি বিষয়প্রতীক আকারেUS ONEDOLLAR এ PYRAMID দ্বারাসংকেতায়িত করা হয়েছে। পাশ্চাত্যেরপ্রতিভু আমেরিকাতথা Judeo Christian Civilization এর ধারকবাহকরা আমাদেরকে তাদের প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশে আবদ্ধকরার কালেইআমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন ও দ্বিমুখী শিক্ষারপ্রচলন;আমাদেরশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণতথা আলেমদেরহত্যা করণ,আমাদের ইতিহাসঐতিহ্যকে আমাদেরযুব সমাজেরস্মরণ থেকেগোপন করণকিংবা স্থানবিশেষ বিকৃতভাবেউপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সাধারণ শিক্ষিতদেরমাঝে দ্বীনেরমৌলিক বিষয়সম্পর্কে বিস্মৃতিও নানারূপসন্দেহ সৃষ্টিকরে।
এর সাথেতাদের আদর্শ,ইতিহাস, ঐতিহ্যযে বর্তমানবিশ্বের সকলেরজন্য অনুকরণীয়,অনুসরণীয় সেকথা অুনধাবনকরাতে বিন্দুমাত্রকসুর করেনি। বৃটিশদেরপ্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিকতা এবং তৎপরবর্তী কর্তৃত্ববাদীরাষ্ট্রের ভূমিকায় অভিনয়কারী আমেরিকার অপ্রত্যক্ষউপনিবেশ সেইএকই ধারাবজায় রেখেছে।
একাজটি বর্তমানেতারা করছেতাদের অত্যন্তউন্নত ওবিশ্বয়কর প্রচারসংস্থাসমূহের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এবং অস্ত্রাগারেরমারাত্মক সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে। এসবই তারাকরেছে অন্যায়ভাবেসমগ্র বিশ্বেরসম্পদ লুণ্ঠনও কুক্ষিগতকরে।সংক্ষেপে কিছুবিষয়ে মনোযোগআকর্ষণ করছি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্যায়ে New York এর অদূরে Bretton Woods নামক জায়গায় ১৯৪৪সনে Judeo christen সভ্যতার ধারক ও বাহকগণ সমগ্র বিশ্বেরঅর্থনীতিকে নিজেদের অনুকূলে ঢেলে সাজাতেএবং যাবতীয়মুনাফা ওপ্রবৃদ্ধি যাতে আমেরিকা এবং পাশ্চাত্যেবিশ্বের অনুকূলেপ্রবাহিত হয়েতার নীলনক্সা প্রণয়নকরে।
তারই পরিণতিতে IMF এবং WORLD BANK সৃষ্টিহয়।এই IMF,WORLD BANK জাতিসংঘের ছত্রছায়ায়(যেখানে সেইআমেরিকা এবংপাশ্চাত্যদেরই নিরংকুশ নিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠিত) বিশ্ববানিজ্যব্যবস্থার লেনদেনে এবং পণ্য ওঅর্থ প্রবাহেএমন সবনীতি ওনিয়ম-এরপ্রচলন করেছে,যার পরিণতিতেসম্পদ কেবলতাদের দিকেইপ্রবাহিত হবারব্যবস্থা নিশ্চিতহয়েছে।
১৯৪৪ সনপরবর্তী বিশ্ববানিজ্য নিয়ন্ত্রণেযতগুলি আন্তর্জাতিকচুক্তি হয়েছেতার সবকয়টিই মুলত ঐ Bretton Woods এর নীল নক্সার ফসল। প্রত্যক্ষঔপনিবেশিকতার যুগে বৃটিশগণ পাশ্চাত্যের সেবাদাসরূপেযে সবপাশ্চাত্যপন্থীর সৃষ্টি করেছিল তাদের ঘাড়েবসে তাদেরকেব্যবহার করারসকল কলাকৌশলনিজেদের নিয়ন্ত্রণেনিয়েই তারাঐ ঔপনিবেশভুক্তদেশগুলোকে ক্রমান্বয়ে স্বাধীন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্ররাষ্ট্র বলেস্বীকৃতি দেয় এবং এরাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব তারা তাদের সেবাদাসদের হাতেইন্যস্ত করে। এইসেবা দাসরাতাদের প্রভুদেরসব কাজকেইমহান কল্যাণকরমনে করতেঅভ্যস্ত থাকায়,BrettonWoods এর ষরযন্ত্রের যাতাকলে কিভাবে তাদেরস্বদেশের সম্পদএদের দিকেঅর্থাৎ আমেরিকাও পাশ্চাত্যেরদিকে প্রবাহিতহচ্ছে তাদেখতে অপারগহয়।
পরবর্তীতে অবশ্য অনেকেই বিষয়টি যেপরিস্কার ষড়যন্ত্রতা বুঝতেপারে।কিন্তু ততক্ষণেএদের ষড়যন্ত্রপাকাপোক্ত হয়ে তাদের অনুকূলে বিশালঅর্থ সঞ্চয়েরসুযোগ সৃষ্টিকরে দেয়। অবৈধলুন্ঠিত অর্থেতারা অস্ত্রউৎপাদন, অস্ত্র-ব্যবসা, যুদ্ধ-চাপান, শুধুমাত্রপ্রচার-প্রপাগান্ডারমাধ্যমে দুইভ্রাতৃপ্রতীম প্রতিবেশির মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টিইত্যাকার কলাকৌশলবাকী বিশ্বকেশোষণ করারসুযোগ উত্তরোত্তরবৃদ্ধি করে।
তাদেরএ ষড়যন্ত্রেরসব চাইতেখারাপ পরিণতিহয় মুসলিমবিশ্বে।এখানকার সকলসম্পদের উপরওদের (অর্থাৎপাশ্চাত্যের) নিয়ন্ত্রণ উত্তরাত্তোর বৃদ্ধি পায়। এনিয়ন্ত্রণ এতটাই নিখুত এবং সর্বব্যাপিহলো যেসেপ্টেম্বর ১১ এর পর তারামুজাহিদিনদের সাহায্য করা হয়এ অজুহাতেমধ্যপ্রাচ্য থেকে আমাদের মত দেশগুলোরবিভিন্ন ইসলামি N.G.O তে যে সবসাহায্য আসতোতার সবইতাদের প্রত্যক্ষতত্বাবধানে নিয়ে নেয়।এমনকিব্যক্তিগত একাউন্টগুলোর অর্থ স্থানান্তরেও তারাতাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয়।আমরা যেনামে মাত্রস্বাধীন এবংবাস্তবে পরাধীনএকথা এখনঅনেকেই একটুএকটু বুঝতেশিখছেন।
সম্পদকুক্ষিগতকরণ ও অস্ত্রবলে বলীয়ান হওয়া- এ দুটিপ্রধান বিষয়েএকচেটিয়া কর্তৃত্বপ্রতিষ্ঠার সাথে সাথে পাশ্চাত্যগণ Technological development এর ক্ষেত্রেওপ্রভূত উন্নতিসাধন করে। এক্ষেত্রেও তারা Patent rights এরমাধ্যমে সারাবিশ্বের সম্পদতাদের দিকেধাবিত করারব্যবস্থা করে।
প্রযুক্তি,শিক্ষা, তথ্যএগুলোর আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেওতারা এমনসব Classified নিয়ম নীতিরপ্রচলন করেযাতে কোনউন্নত প্রযুক্তিইতাদের অনুমোদনেরবাইরে অন্যত্রবিকাশ হওয়াপ্রায় অসম্ভবহয়ে পড়ে। বলাবাহুল্য কোন্দেশ কতটাঅনুমোদন পাবেতা তারা,তাদের আদর্শতথা বিশ্বায়নেরনিয়মগুলোকে কারা নিঃশর্তভাবে মেনে নিচ্ছেসেই হিসাবকরেই দেয়। Super Specialized Technologyএবং War ammunition এর ক্ষেত্রেমুসলিম বিশ্বযাতে কোনভাবেইঅগ্রসর হতেনা পারেএ ব্যাপারেতারা সকলব্যবস্থা গ্রহণকরে।
এসব ক্ষেত্রেসোভিয়েত রাশিয়া-এর নেতৃত্বেসমাজতান্ত্রিক দেশগুলো তাদের সাথে কিছুকাল প্রতিযোগিতাকরেছিল এবংগোটা বিশ্বেকিছুটা সমতাসৃষ্টি করেছিল,৯০ এরদশকে রাশিয়াভেঙ্গে যাওয়াতেঅন্যান্য সমাজতান্ত্রিকদেশও ক্রমেক্রমে Novus Ordo Seclorum এর মুলশ্লোগানগুলোকে তাদের নিজেদের শ্লোগানে পরিণতকরল।সুতরাং গোটাবিশ্ব হয়েপড়ল একমেরু বিশ্বে।
এই একমেরু বিশ্বেরচূড়ান্ত কর্তৃত্বেরঅধিষ্ঠিত হয়েতাদের তিনটিশ্লোগান তথাগণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মুক্তবাজার অর্থনীতিরনিকট পরাভবমানার জন্যসমগ্র শক্তিনিয়োগ করে।
এআলোচনার প্রেক্ষাপটেএটি অবশ্যইপরিস্কার যে,গণতন্ত্রকে যারা কেবলমাত্র সরকার গঠন,সরকার পরিচালনাও সরকারবিলোপসাধনের প্রক্রিয়ার সমার্থক মনে করেনতারা কতবড় মারাত্মক ভুল করেন। গণতন্ত্রযদি শুধুতাই হততা হলেতা সম্ভবতঃখুব ক্ষতিকরহতো না। কিন্তুএ যেবিশাল ষড়যন্ত্রেরসুত্রের সাথেআষ্টেপৃষ্টে বাধা।
একথা অনস্বীকার্যযে, বর্তমানদুনিয়ার লাগামপাশ্চাত্যের হাতে। এদের রাজনৈতিকশ্লোগান হলগনতন্ত্র; সামাজিক বুলি হল মানবাধিকার;আর তাদেরঅর্থনীতির মূল ভিত্তি হল সুদ। সুতরাংযারাই গণতন্ত্রেরকথা বলবেতাদেরকেই পাশ্চাত্যেরআধিপত্যকে নির্বিরোধ মেনে নিতে হবে। আজহোক কালহোক অচিরেতাদেরকে মানবাধিকারেরপাশ্চাত্য ধারণা এবং সুদী অর্থব্যবস্থারশোষণনীতিতে আত্মাহুতি দিতে হবে।
কারণঅনুকুল হাওয়ায়পাল তুলেপ্রতিকুল যাওয়ারভাবনা পাগলেরকিংবা অর্বাচীনের। সুস্থমস্তিষ্ক চিন্তারএ দীনতাও বৈপিরীত্যথেকে মুক্ত।
আমাদের দেশেবর্তমানে কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান,অর্থনীতি ওসমাজ বিজ্ঞানেরসিলেবাসগুলোর দিকে একটুমনযোগ দিলেএকথা বুঝতেকারও কষ্টহবে নাযে এসব সিলেবাস পাশ্চাত্যের অনুকরণেপাশ্চাত্যের আদর্শ শিক্ষা দেওয়ার জন্যইসৃষ্টি হয়েছে। আমাদেরকলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোররাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতন্ত্র সম্পর্কে যা লেখারয়েছে, পাশ্চাত্যদেশীয় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও তাই আছে। আমাদেরদেশের অর্থনীতিবিষয়ে যাপড়ানো হয়তা IMF,WORLD BANK,WTO, GATTS,PRSP ,BRETTON WOODS এর PRESCRIPTION ছাড়াআর কিছুইনয়।
আমাদের দেশেসমাজবিজ্ঞানে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মানবাধিকারের যেধারনা উপস্থাপনকরা হয়তা পাশ্চাত্যথেকে ধারকরা ধারণারচাইতে একচুলও বাইরেনয়।
এমতাবস্থায় গনতন্ত্রকে যারা শুধুমাত্র “সরকারগঠন প্রক্রিয়া” রূপে ইসলামের শুরা-এর সাথেসামঞ্জস্যশীল বলে, ইসলামি জীবন ব্যবস্থারসর্বোচ্চ শৃঙ্খলার প্রতীক “খিলাফাতুল আলামিনহাজিন্ নবুওয়্যাহ”এরধারণাকে বিসর্জনদিতে চাইছেনতারা যেকত বড়বোকার স্বর্গেবাস করেছেনতা বোঝানোরভাষা আমাদেরনেই।
গনতন্ত্র শুধুসরকার গঠন,সরকার পরিচালনাকিংবা সরকারবিলোপ সাধনেরপ্রক্রিয়া নয়। এটি পাশ্চাত্যেরদীর্ঘ ইতিহাসেরআর্থ-সামাজিকবিবর্তনের সার নির্যাস। এটিএকটি আদর্শেরনাম যাপাশ্চাত্য ধারণ করে, যা পাশ্চাত্যআমাদের উপরচাপায়।এর মধামেপাশ্চাত্য আমাদেরকে বর্তমানেও গোলাম বানিয়েরেখেছে এবংতাদের খেদমতেআমাদের মেধা,আমাদের শ্রম,আমাদের সম্পদকেব্যবহার করছে,আর আমাদেরপরিণত করেছেহত দরিদ্রমেরুদন্ডহীন অনুকরণপ্রিয় জাতিতে।
এই Novus Orddo Seclorum এর সমন্বিত শ্লোগান এরঅংশ হিসাবেযে সবইসলামি চিন্তাবিদগণতন্ত্রকে বুঝেছেন, তারা কখনও গণতন্ত্রেরসাথে ইসলামেরসামান্যতম মিলও খুজে পাবেন না। পক্ষান্তরে,যে সবইসলামপন্থী খন্ডিতভাবে খলিফা মনোনয়নে জনগণেরপরামর্শকে গণতন্ত্রের সাথে এক করেদেখেছেন, যাদেরসমগ্র মনোযোগকেবল এতটুকুতেইব্যস্ত তারাইকেবল গণতান্ত্রিকব্যবস্থাকে নির্দোষ ভাবতে পারেন।
ইউরোপ ওআমেরিকার ইতিহাসযারা পড়েছেন,যারা সেখানকারআর্থ-সামাজিকআন্দোলন ওবিপ্লবগুলোর যার নির্যাস জেনেছেন তারাসকলেই সাক্ষ্যদিবেন যে,গণতন্ত্র একটিআদর্শের রাজনৈতিকপ্রতিনিধি যার সামাজিক দিককে তারামানবাধিকারের মোড়কে আমাদের নিকট তুলেধরে।এর অর্থনৈতিকপ্রতিনিধি হল সুদ ভিত্তিক IMF,WORLDBANK এর দেয়া ফর্মূলায় নির্মিতমুক্তবাজার অর্থনীতি।

তাই পাশ্চাত্যযখন গণতন্ত্রফেরি করেতখন তারাএকযোগে মানবাধিকারেরকথা বলেএবং মুক্তবাজার অর্থনীতিরকথাও বলে। তারাশুধু বলেনা বরংবাস্তবে তারাতার প্রচলনকরেছে এবংতা টিকিয়েরাখার জন্যইতারা তাদেরসকল শক্তিনিয়োগ করছে। এখনকোন ইসলামপন্থীযদি ইসলামপ্রতিষ্ঠার দাবীতে অসচেতন ইসলামি জনতাকেঐক্যবদ্ধ করেএবং নিজেদেরমূল আদর্শেরপ্রতীক খিলাফাহকেগণতন্ত্রের শ্লোগানের আড়ালে লুকিয়ে ফেলেতখন তিনিআর যাইপ্রতিষ্ঠিত করেন না কেন ইসলামকেযে প্রতিষ্ঠিতকরেছেন নাএকথা নিশ্চিন্তেবলা যাবে।
সামির খান
তথ্য সুত্রঃ বিশ্বায়ন, খিলাফা ও তাগুত।
গণতন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন - প্রথম পর্ব:https://www.facebook.com/notes/samir-khan/গণতন্ত্রের-মুখোশ-উন্মোচন-প্রথম-পর্ব/651325198246391
গনতন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন-২ ডাউন লোড করতেঃhttps://www.mediafire.com/?0dasq7w4j9otam6
গণতন্ত্রঃ পশ্চিমা ধারণা
গনতন্ত্রের ব্যাপারে খোদ পশ্চিমালেখকদের কি ধরনা তা দুটি প্রবন্ধ থেকে তুলে ধরা হল।
প্রথম প্রবন্ধঃ এন্সাইক্লোপেডিয়া বৃটানিকা
গনতন্ত্রশব্দটির অর্থ জনগণেরশাসন (গ্রীকDemos অর্থ “গণ”এবং Kratos অর্থ “শাসন”)।কিন্তু সমসাময়িক ব্যবহারে এটি বিভিন্নধারণা বহন করে।
১. প্রত্যক্ষগণতন্ত্র-
এটি এমন একটি সরকারগঠন পদ্ধতি যেখানে দেশের সকল নাগরিকসংখ্যাগরিষ্ঠের শাসননীতিকে মেনে নেয়।
২. প্রতিনিধিত্বমূলকগণতন্ত্র-
এটি এমনএক সরকার গঠন পদ্ধতিযেখানে দেশের নাগরিকগণ সশরীরে নয় বরংতাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে।
৩.সাংবিধানিকগণতন্ত্র-
এমন একটিপ্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন কার্যকরহয় সাংবিধানিক অবকাঠামোর মাধ্যমে। ঐ সংবিধানসংখ্যালঘিষ্ঠের নির্দিষ্ট কতিপয় ব্যক্তিগত ও সামষ্ঠিকঅধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করে। অধিকারগুলোহচ্ছে বাক-স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ইত্যাদি। একে উদারনৈতিকগণতন্ত্র কিংবা সাংবিধানিক গণতন্ত্র বলে।
৪. সামাজিকঅথবা অর্থনৈতিক গণতন্ত্র–
যে সামাজিকরাজনৈতিক পদ্ধতি সামাজিক ও অথবাঅর্থনৈতিক স্তরগুলো ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টাকরে, বিশেষতঃ সেসবব্যবধান যা ব্যক্তিগতসম্পদের অসম-বন্টনেরকারণে উদ্ভুত-তাকেসামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক গণতন্ত্র বলে, যদিও সরকারের পদ্ধতিটি পূর্বোক্ত তিনটির কোনটির মত নয়।
গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় প্রাচীন গ্রীকের নগর-রাষ্ট্রে। তখন রাষ্ট্রের সকল নাগরিকপ্রত্যক্ষভাবে সংসদে অংশগ্রহণ করত। এমনটিসম্ভব হতো এ কারণেই যে তখনপুরো দেশের নাগরিক সংখ্যা খুবই কম ছিল। সাধারণত ১০,০০০এর বেশি হত না। তাছাড়া নারী এবংদাসদের কোন রাজনৈতিকঅধিকার স্বীকৃত ছিল না।
নাগরিকগণ বিভিন্ন প্রকার নির্বাহী অফিস ও বিচার কার্যালয়ে অংশগ্রহণ করতে পারত। এসবের কতক পদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হতো। আবারকতক পদ লটারিরমাধ্যমে নির্ধারিত হতো। সেখানেক্ষমতার ভাগাভাগি ছিলো না। সকল কর্মকর্তাই গণসংসদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল ছিল। এ গণসংসদই আইন প্রণয়ন, নির্বাহী এবং বিচারকার্যসম্পাদন করতো।
প্রাচীন গ্রীক-গণতন্ত্রছিল ইতিহাসের ক্ষণস্থায়ী ঘটনা। এর তেমন কোন প্রত্যক্ষপ্রভাব বর্তমান আধুনিক সাংবিধানিক গণতন্ত্রের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিকদিকে পরিলক্ষিত হয় না। গ্রীক নগর-রাষ্ট্রেরপতনের পর থেকেবর্তমান সংসদীয় গণতন্ত্র পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান প্রায় ২০০০ বছর। আধুনিক গণতান্ত্রিক ধারণাগুলোর বেশিরভাগ অস্তিত্ব লাভ করেছেমধ্যযুগীয় কতিপয় প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা থেকে, যার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে-
১. ক্ষমতার চর্চায় ঐশ্বরিক, প্রাকৃতিক ও প্রথাগত নিয়ন্ত্রণ।
২. রাজা রাজন্যদের শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা চর্চায় বিভিন্ন বুর্জোয়া ও সামষ্টিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠদের পরামর্শ গ্রহণ। বর্তমান আধুনিক সংসদ ও আইন সভার জন্ম হয়েছিল এসব সামষ্টিক স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধিত্ব সংগ্রহের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছিলো। জন্মগত অধিকার-এর ধারণা, রাজনৈতিক সাম্যের ধারণা,যা ফরাসী বিপ্লবের ঘোষণা ও আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণায় যথাযথভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এ সময়ের দু’টি প্রধান দলিল হল- আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা (১৭৭৬) এবং ফ্রান্সের মানবাধিকার ও নাগরিকাধিকারের ঘোষণা পত্র (১৭৮৯)।
ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দির গণতান্ত্রিক সরকারের কেন্দ্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভকরেছে মুক্ত স্বাধীন সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গড়া প্রতিনিধিত্বমুলক সংসদের মধ্য দিয়ে। পাশ্চাত্যেরগণতন্ত্রের সাথে অবধারিতহয়ে আছে বিভিন্নকার্যালয়ের জন্যে প্রতিযোগিতা,
· বাক-স্বাধীনতা,
· অবাধ-মুক্ত সংবাদপত্র
· আইনেরশাসন।
কম্যুনিস্টদের, “গণপ্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র”এসব নীতিমালা প্রত্যাখ্যান করে।তাদের মুখপাত্ররা যুক্তি দেখায় যে উৎপাদনেরউপাদানের সামষ্টিক মালিকানাই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর নিশ্চয়তা বিধায়ক।
দ্বিতীয় প্রবন্ধঃ এম পায়াস-এর পর্যালোচনা
গণতন্ত্রঃ
(Demos অর্থ ‘জনগণ’আর Kretion অর্থ ‘শাসন’,এ দুয়ে মিলেDemocracy অর্থজনগণের শাসন), একটি রাজনৈতিক পদ্ধতি যাতে রাষ্ট্রেরজনগণ নিজেদের জন্যে পছন্দ করা সরকারগঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। আধুনিকগণতন্ত্রের সংখ্যাগরিষ্ঠের নির্বাচিত প্রতিনিধির দ্বারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতার প্রয়োগ করা হয়। এ নির্বাচিত প্রতিনিধির দ্বারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতার প্রয়োগ করা হয়। এ নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ অনেক সময়আইনসম্মত রেফারেন্ডাম এর মাধ্যমে আরও কিছু মনোনীতদের সাহায্য গ্রহণ করে। এ মনোনীতগণ আবার মৌলিকভাবেযারা মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের নিকট দায়বদ্ধথাকেন। কতক গণতন্ত্রে যেমন যুক্তরাষ্ট্রে,সরকার প্রধান এবং সংসদেরসদস্যগণ উভয়েই নির্বাচিত হন। আদর্শশাসনতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে যেমন যুক্তরাজ্যেএবং নরওয়েতে, কেবলমাত্র সংসদেরসদস্যগণ নির্বাচিত হন এবংএ সাংসদগণের মধ্যে থেকেই মন্ত্রীপরিষদ এবং প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট করা হয়।
যদিও অনেকসময় গণতন্ত্র এবং প্রজাতন্ত্রএকটির স্থলে অপরটি ব্যবহার হয়, তথাপী এ দু’টি শব্দ সমার্থকনয়। উভয় পদ্ধতিতেইনিবার্চিত সদস্যদের নিকট সরকারগঠনের ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। প্রজাতন্ত্রে এ নির্বাচিতপ্রতিনিধিগণ দেশের প্রয়োজন ও স্বার্থেনিজ বিবেকের রায় অনুযায়ীকাজ করেন। কিন্তুগণতন্ত্রে অনেক সময়নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ তাদের স্বীয় মতামতকে দমন করেরেখে তারা যাদেরনির্বাচিত হয়েছেন তাদের নির্দিষ্ট মতামতের প্রত্যক্ষ প্রতিফলন করেন।
প্রাচীন গ্রীস এবং রোমের গণতন্ত্রঃ
খৃষ্টপূর্ব যুগের গণতন্ত্রে জনগণের শাসন গুরুত্বপূর্ণভূমিকা পালন করে। ক্লাসিকেল গ্রীক ও রোমীয়প্রজাতন্ত্রের প্রাথমিক কালের গণতন্ত্র বর্তমান আধুনিক কালের গণতন্ত্রের মত ছিলনা। তখন ছিলপ্রত্যক্ষ গণতন্ত্র, যেখানে রাষ্ট্রের সকল নাগরিক সংসদে কথা বলতেএবং ভোট দিতেপারতো, অনেকটা নিউ ইংল্যান্ডটাউন সভার মত। নগর রাষ্ট্রের ক্ষুদ্রায়তনের কারণে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার অজানা ছিল কিংবাঅপ্রয়োজনীয় ছিল। (প্রায় সর্ব ক্ষেত্রেই এ ধরনেরনগর রাষ্ট্রের নাগরিক সংখ্যা কখনই ১০,০০০ এর বেশিছিল না।) প্রাচীন গণতন্ত্রেরসকল ব্যক্তির সমানাধিকার স্বীকৃত ছিল না। বেশির ভাগ জনতাবিশেষ করে নারীও দাসগণ যারা সংখ্যায়অধিক ছিল, রাজনৈতিক অধিকারলাভ করতো না। এথেন্সে, যা ছিল সর্ব বৃহৎ নগররাষ্ট্র, কেবল নগর জাতদেরই সার্বজনীন ভোটাধিকার ছিল। রোমীয়গণতন্ত্রেও গ্রীকের মত ছিলযদিও রোমীয়গণ কখনও কখনওঅরোমক জাতদেরও নাগরিকত্ব প্রদান করতো।
বর্তমান আধুনিক গণতন্ত্রের তাত্ত্বিক উন্নয়নে রোমীয় দর্শন যা জনগণকেঐশ্বরীয় নীতির অধীন মনেকরতো এবং খৃষ্টীয়ও ইয়াহুদী ধর্মবিশ্বাস যেখানে সমাজের অবহেলিতদের ন্যায্য অধিকার ও স্রষ্টারনিকট সকলের সমানাধিকার বিষয়ে জোর দেয়াহতো; এ দু’টি বিষয় যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।
রোমীয় প্রজাতন্ত্রের সম্রাটের একানায়কত্বে শেষ হয়। ইটালি, জার্মেনি এবংফ্লেন্ডারসের ন্যায় মুক্ত নগরগুলো গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রক্ষা করে চলেএবং কিছু কিছুগণতান্ত্রিক নিয়ম-বিধানমধ্যযুগেও প্রবর্তন করে।
সমাজে দাসদের আধিক্য কমতে থাকে। সামন্তবাদের ক্ষয়িষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে মধ্যবিত্ত বণিক শ্রেণীরউত্থান ঘটে। সরকারও সরকার পদ্ধতিতে মাতা ঘামানোরজন্য প্রয়োজনীয় টাকা এবংঅবসর দু’ই এ মধ্যবিত্তবণিক শ্রেণীর করায়ত্ব ছিল। এর ফলে প্রাচীন রোমীয় ও গ্রীকদর্শনের স্বাধীন চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটল। রেনেসারযুগে সামাজিক ও রাজনৈতিকসমানাধিকার-এর ধারণা পুনঃ সংজ্ঞায়িতহল। তখন মানবতাবাদ-এর উন্নয়ন ঘটল। পরবর্তীসংস্কার যুগে ধর্মীয়স্বাধীনতার সংগ্রাম সফল হল।
৩. পশ্চিমইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রঃ
ইংল্যান্ডের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন রাজাচার্লস-প্রথম-এর ফাসী হয় (১৬৪২) তখন ইউরোপীয় একনায়ক সরকারগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত রাজনৈতিক ও বৈপ্লবিককর্মকান্ডগুলোর মধ্য দিয়েবর্তমান আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ কর্মকান্ডগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেইঅনুপ্রাণিত ও পথ নির্দেশনা লাভ করেরাজনৈতিক দার্শনিকদের দ্বারা। এদের মধ্যেউল্লেখযোগ্য ছিলেন ফরাসী দার্শনিক মন্টেস্কো, জা জাক, রুশো এবংআমেরিকার মুখপাত্র টমান জেফারসনও জেমস ম্যাডিসন। ঊনবিংশ শতাব্দি শেষের প্রাক্কালেই উল্লেখযোগ্য সকল ইউরোপীয়রাজতন্ত্রই সাংবিধানিক নিয়মনীতি গ্রহণ করে। এতেরাজার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা হয় এবং জনগণকে বেশ পরিমাণআদলে প্রতিনিধিত্বমূলক আইন পরিষদপ্রতিষ্ঠিত হয়। যদিওফরাসী বিপ্লব শক্তিশালি প্রভাব ফেলে, বৃটিশ রাজনীতি এককভাবে বিশ্বের সকল গণতন্ত্রেরউপর প্রভূত্ব করে। পরবর্তীতেযুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সফলতা অনেকের দৃষ্টিতে অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়।
আধুনিক গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা যা ব্যক্তিকেতার নিজস্ব বিষয় পরিচালনারস্বাধীনতা ও দায়িত্বদেয়; আইনের চোখে সকলের সমানাধিকার; প্রাপ্ত বয়স্কেরসার্বজনীন ভোটাধিকার এবং সবারজন্য শিক্ষা। এ সব বৈশিষ্ট্য কতগুলো মহান ঐতিহাসিকদলিলে এ সব বিষয় দাবী করাহয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণায় গুরুত্ব সহকারে দাবী করাহয় জীবনের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকারএবং সব্বোর্চ ব্যক্তি সুখের অধিকার। ব্যক্তি স্বাধিনতা এবং আইনেরচোখে সকলের সমতার নীতি সত্যায়িতহয় ফরাসী ঘোষণায়; স্বাধীনতার চারমূলনীতি ঘোষিত হয়েছে আটলান্টিক চার্টারে। বিংশ শতাব্দিরমাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সামান্য কিছু ব্যতিক্রমছাড়া দুনিয়ার সকল দেশঅন্ততঃ তাত্ত্বিকভাবে এবং বাস্তবেকিছুটা ভিন্নতা সহকারে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিকে গ্রহণ করেছে। যদিও গণতন্ত্রেরআদর্শের ব্যাপক প্রচার প্রসার হয়েছে তথাপি বাস্তবে তার পূর্ণঅনুসরণ বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবেহয়েছে।
আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা
জুলাই ৪,১৭৭৬; যুক্তরাষ্ট্রে তেরটি প্রদেশের সর্বসম্মত ঘোষণা
এই একটিসুবিখ্যাত দলিল। এ দলিলে তৎকালীন ব্রিটিশ রাজার অপকর্মের এক বিরাট তালিকা রয়েছে।তালিকাটি বাদ দিয়ে সংক্ষেপে বিষয় সংশ্লিষ্ট অংশ বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হল।
চলমান মানবতার ইতিহাসে একটি জনগোষ্ঠিরজন্য তার উপরআরোপিত রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর ঘোষণার প্রয়োজন হয়। যে রাজনৈতিক বন্ধন তাদের পরস্পরকে সংযোজিত রেখেছে তাকে আলাদাকরে পৃথিবীর বিভিন্ন শক্তি সম মর্যাদার - যা প্রকৃতি তাদের দান করেছে - ভিত্তিতে অবস্থান নিতে পারে। বিশ্ব জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর নিমিত্তে এ ধরনেরসম্পর্ক ছিন্ন করার আশুকারণ ব্যাখ্যা করা তাদেরদায়িত্ব।
আমরা এ সত্যতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিশ্বাস করি যে, সকল মানুষই সৃষ্টগতভাবে এক এবংতারা সকলেই জন্মগতভাবে কতগুলো অবিভেদ্য অধিকার প্রাপ্ত। এ অবিভেদ্যঅধিকারগুলো হচ্ছে জীবনের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকারএবং সুখ সম্ভোগেরঅধিকার। এ সব অধিকারকে সমুন্নত রাখতে মানব সমাজেসরকার ব্যবস্থার প্রচলন ঘটেছে। সরকারগুলো অবশ্যই জনগণের নিকট থেকেন্যায়সঙ্গতভাবে সমর্থন আদায় করেগঠিত হওয়া উচিত। এটিও নিশ্চিত যে, যখনই যে কোন সরকার এ লক্ষ্যঅর্জনে ব্যর্থ হয় কিংবাএ লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধাহয় তখনই সরকারেরঅধীনস্তদের এ অধিকারসংরক্ষিত যে, তারা ঐ সরকারকে পরিবর্তন করে কিংবাবিলুপ্ত করে নতুনসরকার গঠন করে। সরকার ভেঙ্গে দেয়া কিংবাপরিবর্তন করার ভিত্তিএমন সব নীতিও ক্ষমতার উপর ন্যস্তহওয়া প্রয়োজন যাতে ঐ জনগোষ্ঠির নিরাপত্তা ও সুখ-শান্তির কোনবাঁধা না ঘটে। একনায়কশক্তির স্বৈরশাসনে মানবতার অধিকার ভুলুন্ঠিত হয়, যেমন ভুলুন্ঠিত হয় ঔপনিবেশিক শক্তির অত্যাচারমূলক শাসনে।
বর্তমান গ্রেট ব্রিটেনের রাজার ইতিহাস হল ক্রমাগতক্ষমতা কুক্ষিগতকরণ এবং বিভিন্নউপনিবেশভুক্ত জনগোষ্ঠির অধিকার দলন।......................(রাজার অপকর্মের একটা লম্বাতালিকা পেশের পর বলাহচ্ছে)...................................
অত্যাচারের প্রতিটি স্তরে আমরা অত্যন্তবিনয়ের সাথে তারপ্রতিকার প্রার্থনা করেছি। আমাদের বারংবারের প্রার্থনার জওয়াব এসেছে বারংবার অত্যাচারের মাধ্যমে। একজন রাজাযার সকল কাজেরবৈশিষ্ট্যই হচ্ছে অত্যাচার, তিনি মুক্ত স্বাধীন জনগোষ্ঠির শাসক হওয়ারঅযোগ্য। এমনকি আমরা বৃটিশভ্রাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সমর্থ হইনি। আমরাসময় সময় তাদেরকেআইনগত প্রতিবিধানের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছি। আমরা আমাদেরবিদেশ প্রবাসের অবস্থা তাদেরকে বুঝিয়েছি। আমরা তাদেরস্থানীয় বিচার ব্যবস্থা ও মহানুভবতারদরবারে আবেদন করেছি যে এরূপঅব্যবস্থা ও অত্যাচারচলতে থাকলে তার পরিণতিতেআমাদের সাথে তাদেরযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্যহবে। তারাও আমাদের প্রতি সৌভ্রাতৃত্ব দেখাতে বধিরের ন্যায় আচরণ করেছে। সুতরাং আমরা আমাদেরএকান্ত প্রয়োজনে তাদের সাথে বিচ্ছিন্নতারঘোষণা দিতে বাধ্যহলাম। আমরা তাদেরকেপৃথিবীর অপরাপর মানব গোষ্ঠিরন্যায় যুদ্ধে শত্র জ্ঞান করবো এবংশান্তিতে বন্ধু জ্ঞান করবো।
অতএব আমরা, যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রদেশেরপ্রতিনিধিগণ একটি সাধারণসভায় একত্র হয়ে বিশ্বেরচূড়ান্ত বিচার ব্যবস্থার সমীপে আমাদের এই উপনিবেশভুক্তসকল মহৎ লোকদেরআন্তরিক ইচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়ে একটি পূতপবিত্র ঘোষণায় জানাচ্ছি যে, আমাদের এই উপনিবেশ এখন থেকেমুক্ত স্বাধীন। আমরা বৃটিশরাজ্যের সকল ক্ষমতাথেকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত। এখন থেকেআমাদের সাথে বৃটিশেরসকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। সম্পূর্ণ মুক্ত স্বাধীন দেশের ন্যায় আমাদেরও যুদ্ধ ঘোষণার, শান্তি চুক্তি করার, জোট বাধার, বাণিজ্যিক চুক্তি করার অধিকারসংরক্ষিত। এই ঘোষণারসমর্থনে আমরা পরস্পরেআমাদের জীবন, ভাগ্য এবং পবিত্র সম্মানের কসম খেয়েশপথ নিচ্ছি। [অতঃপর ঐ শর্তটিতে প্রদেশের প্রতিনিধিদের নাম এবংতারা যে প্রদেশেপ্রতিনিধিত্ব করেন তারতালিকা দেয়া হয়েছে।]
ফরাসী বিপ্লবঃ মানবাধিকার ঘোষণা
ফরাসী জন প্রতিনিধিগণজাতীয় পরিষদে সংঘবদ্ধ হয়েছে এ মৌলিকবিশ্বাসে যে - গণ বিপর্যয় ও সরকারী দুর্নীতির মূল কারণহল অজ্ঞতা, অবহেলা এবং অপরের অধিকারে হস্তক্ষেপ। এ পরিষদসিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন একটিপবিত্র ঘোষণার - যার মাধ্যমে মানুষের প্রতি প্রকৃতি প্রদত্ত, অবিলোপযোগ্য, মহানমানবাধিকারগুলো সার্বক্ষণিকভাবে সমাজের সকলের সম্মুখে প্রতিভাত হয় এবংতাদেরকে সার্বক্ষণিকভাবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যস্বরণ করিয়ে দেয় যাতেযে কোন মুহূর্তেসকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা ও কার্যনির্বাহী ক্ষমতাকে সকল রাজনৈতিক সংস্থার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যেরসাথে তুলনামূলকভাবে বিচার করা যায়এবং অধিকতর শ্রদ্ধাপূর্ণ আনুগত্য অর্জন করা যায়। সর্বশেষে, গণ অসন্তোষের প্রতিবিধানে সাংবিধানিক স্থিরতাই হল সকলশান্তির কারণ। এ কারণে জাতীয় পরিষদ সর্বশক্তিমানের উপস্থিতিতে এবং তারঅনুকূল্যে নিম্নের মানবাধিকার ও নাগরিকাধিকারগুলোর স্বীকৃতি দেয় ও ঘোষণাদেয়।
ধারাসমূহঃ
১. মানুষ আজন্ম মুক্ত, স্বাধীন এবংঅধিকারের দিক থেকেসকলে সমান। সামাজিকমর্যাদার ভেদ কেবলমাত্রপ্রকৃতিদত্ত যোগ্যতার কারণে নির্ধারিত হয়।
২. সকল রাজনৈতিক সংস্থার উদ্দেশ্য হল মানুষেরএই স্বভাবগত, অবিলোপযোগ্য অধিকারেরসংরক্ষণ করা। এই অধিকারগুলো হচ্ছে- স্বাধীনতা, সম্পত্তিরভোগ-দখল, নিরাপত্তা এবং নির্যাতনেরপ্রতিরোধ করার অধিকার।
৩. সার্বভৌমত্বের সকলবিষয় অত্যাবশ্যকীয়ভাবে জাতিসত্তার উপর ন্যস্ত। কোন ব্যক্তি বা সত্তাজাতির অনুমোদনের বাইরে কোন অধিকারভোগ করতে পারেনা।
৪. স্বাধীনতা অর্থহল অন্যের ক্ষতি হয় না এমন যে কোনকিছু করার অধিকার। সুতরাং প্রতিটি মানুষের প্রকৃতিদত্ত অধিকার ভোগের পথে কেবলসেসব বিষয়ই বাধারুপে স্বীকৃত যা সমাজেরঅন্যদের সেই একইঅধিকার ভোগের নিশ্চয়তা দেয় না। এ সীমাবদ্ধতা কেবলমাত্র আইন দ্বারাইনির্ধারিত হতে পারে।
৫. আইন কেবল সেসব বিষয় নিষিদ্ধকরতে পারে যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আইনে যা নিষিদ্ধনয় তা করতেকাউকে বাধা দেয়াযাবে না এবংকাউকে এমন কিছুকরতে বাধ্য করা যাবেনা যা আইনদ্বারা নির্দিষ্ট নয়।
৬. জনগণের সাধারণ ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হল আইন। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে যে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা প্রতিনিধির মাধ্যমে আইন প্রণয়নেঅংশগ্রহণ করে। কি শান্তি, কি নিরাপত্তা, সর্বক্ষেত্রে সকলের জন্যই এই অধিকারসমান। আইনের চোখে সকলনাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিতকরণে প্রতিটি নাগরিক তাদের যোগ্যতানুযায়ী সকল সম্মানপাওয়ার কিংবা জনগুরুত্বপূর্ণ পদে বহালহবার এবং পেশাগ্রহণ করার সমানঅধিকার সংরক্ষণ করে। ব্যক্তিগতযোগ্যতা কিংবা মেধার পার্থক্য ছাড়া কোনপ্রকার ভেদনীতি অগ্রহণযোগ্য।
৭. আইন দ্বারা সংজ্ঞায়িত কারণ ব্যতিতকেউ অভিযুক্ত হবে না, গ্রেফতার হবে না কিংবা কারারুদ্ধ হবে না। কেউ যদি এ আদেশের বরখেলাপ কোন অনুরোধকরে, কার্য সম্পাদন করে কিংবা কার্য-সম্পাদনেরকারণ হয় তাহলেতাকে শাস্তি দেয়া হবে। আইনের প্রয়োজনে কোন নাগরিকেরপ্রতি সমন জারিহলে কিংবা গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি হলেতার উচিত অনতিবিলম্বেআইনের নিকট নিজেকেসোপর্দ করা, কারণ এর প্রতি কোনরূপ বাধা সৃষ্টিকরাই হল অপরাধ।
৮. আইন কেবলমাত্র সেই শাস্তিই নির্ধারণ করবে যা কার্যতঃই অত্যাবশ্যক। কেউই কোনশাস্তি ভোগ করবেনা যতক্ষণ না তারদ্বারা আইনের বিপরীত কোন অপরাধসংঘটিত হয় এবংঅপরাধ সংঘটনের পূর্বেই আইনটি নির্দিষ্ট হয় ও প্রচারিত হয়।
৯. যেহেতু সকল মানুষকে নির্দোষ ধরা হয় যতক্ষণ না সে দোষ প্রমানিত হয়, এমতাবস্থায় গ্রেফতারঅপরিহার্য হলে, বন্দীর নিরাপত্তার প্রয়োজন ব্যতীত সকল রুক্ষব্যবহার আইন দ্বারাঅবদমিত থাকবে।
১০. কাউকে তার মতামতের কারণে তিরস্কার করা হবেনা, এমনকি তা তার ধর্ম মত হলেও, যতক্ষণ না তার ঐ মত জন অসন্তোষ এবং আইনদ্বারা প্রতিষ্ঠিত শৃঙ্খলার বিপরীত হয়।
১১. চিন্তার স্বাধীনবিনিময়, মহান মানবীয় অধিকারগুলোর অন্যতম; তাই প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে কথা বলতে, লিখতে ছাপাতে পারবে, কেবলমাত্র আইনেরদ্বারা সংজ্ঞায়িত অপব্যবহার এর জন্যদায়ী থাকবে।
১২. মানবাধিকার এবংনাগরিক অধিকারের নিরাপত্তা বিধানের জন্য জনশক্তিরপ্রয়োজন। এই জনশক্তিরদায়িত্বে নিয়োজিতদের ব্যক্তিগত সুযোগের জন্য নয় বরং দেশের সকল কল্যাণেরজন্যই এই জনবলগঠিত হবে।
১৩. প্রশাসন পরিচালনাএবং শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষণাবেক্ষণের জন্য সর্বসাধারণেরঅর্থনৈতিক দান-অনুদানঅত্যাবশ্যক; এই অনুদান সকল নাগরিকের নিকট তাদেরউপায়-উপকরণেরঅনুপাতে সামঞ্জস্যশীলভাবে ধার্য হবে।
১৪. প্রত্যেক নাগরিকেরঅধিকার রয়েছে যে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা প্রতিনিধির মাধ্যমে তার সিদ্ধান্তজানাতে যার দ্বারাকর ধার্যকরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব এবং স্বাধীনভাবেতার পরিমাণ নির্ধারণ সম্ভব। কোন খাতেতা ব্যয় হবে, কি অনুপাতে কিভাবে তা আদায়হবে এবং কত সময়ের জন্য তা প্রযোজ্য হবে এসবনির্ধারণের অধিকারও সকলের জন্য সংরক্ষিত।
১৫. সমাজের অধিকার রয়েছে প্রশাসনিক কাজে প্রতিটিনাগরিককে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব দেয়ার।
১৬. যে সমাজের আইনের প্রয়োগ অনিশ্চিত, ক্ষমতার বিভাজনঅসংজ্ঞায়িত তার কোনসংবিধান নেই।
১৭. যেহেতু সম্পত্তির অধিকার একটি অবিভেদ্যপবিত্র অধিকার তাই কাউকেএ থেকে বঞ্চিতকরা যাবে না। তবে ব্যতিক্রম হল- যদি বৃহত্তর জনকল্যাণে উক্ত বঞ্চনাঅবধারিত হয়, যা আইনের মাধ্যমেই স্থিরীকৃত হয় এবংআইনও তাই চায়এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থকে তার ক্ষতিরসমপরিমাণ বিনিময় দিয়ে দিতেহবে।
বিশেষদ্রষ্টব্যঃ
এ ধারাগুলোর মধ্যে ৩,৪,৫ ও ৬ নং ধারা ধর্ম নিরপেক্ষ মানব রচিত আইনের সার্বভৌমত্তকে নিশ্চিত করে।এখানে, রাষ্ট্র , দ্বীনকে নিয়ন্ত্রণ করার সর্বময় অধিকার সংরক্ষণ করে। দ্বীন,রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করার কোন অধিকার এখানে স্বীকৃত নয়। মানুষগণ, নিজেদের মধ্যে,সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে যা কিছু হালাল বা বৈধ করবে কিংবা হারাম বা নিষিদ্ধ করবেতাই এখানে আইনে স্বীকৃতি লাভ করবে। এই উপরভিত্তি করেই পাশ্চাত্য সমাজে মদ, জুয়া, দেহ বেবসা, লিভ টুগেদার, সমকামি বিবাহেরঅধিকার সহ যাবতীয় দ্বীন- ইসলাম, বিরুদ্ধ বিষয় সংবিধান স্বীকৃতি লাভ করেছে।
ধারা-৪ এ স্বাধীনতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কেবল অন্য জনেরঅনুরূপ অধিকার বাঁধা হয় এমন কাজকে নিষিদ্ধ বলে হয়েছে। অথচ, এমন অনেক অপরাধ সম্ভব যা উপরোক্ত নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেই সংঘটনকরা সম্ভব। এ জাতীয়
অপরাধগুলোর একটি ও আল্লাহ্র সর্বময় কর্তৃত মেনে নেয়া ছাড়া এবং অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কার্যকর করা ছাড়া দমন করাসম্ভব না । কথিত গনতান্ত্রিক সংবিধান এবংরাষ্ট্র তাই কাঙ্খিত সুস্থ সমাজ বিকাশ ও প্রকৃত সভ্যতার লালনে অক্ষম। নারীস্বাধীনতার না মে অশালীনতা , বেহায়াপনা সহ সকল অনাচার আইনের আশ্রয়ে বিকাশ লাভকরছে।
আমাদের দেশ তথা মুসলিম দেশ গুলোর তথাকথিত ধমনিরপেক্ষতাবাদিদের সুর ও সমর্থনঐ একই প্রকার। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ জাতিসংঘের যে সব মানবাধিকার সংস্থা কাজ করছে টারা সকলেই মানিব রচিত আইন যাপশ্চিমা দেশ গুলতে স্বীকৃতি লাভ করেছে এর অধীনে যে সব স্বাধীনতা ও অধিকার দেওয়াহয়েছে তার রক্ষনা-বেক্ষনের কাজই করেযাচ্ছে। আমাদের দেশের প্রচলিত পাঠ্যসূচীতে ঐ একই বিষয় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। সুতরাং,গনত্রন্ত্র এ সব বিষের সাথে সামঞ্জস্যশীল । এসব বিষয় কে ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা আর ইসলাম কে অস্বীকারকরা যে এক, এ কথা বুঝতে অপারগ হবেন কেবল সেই বেক্তি বা বেক্তিবর্গ যিনি বা যারা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ভুলে দ্বিমুখীআচারনের নীতি অবলম্বন করেছেন ।

গনতন্ত্রঃপাশ্চাত্যের ভাবশিষ্যরা যা বলেন
সংসদীয় গণতন্ত্র
বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ-গনত্রন্রের উত্তরণ এবং গনত্রন্তের বিনির্মাণ –পৃষ্ঠা৯২-৯৬
কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সংসদীয়গণতন্ত্র। .................
গণতন্ত্রের অনেকগুলোকার্যকর ধরন রয়েছে। তত্ত্বীয় ও বাস্তবঅর্র্থে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার গঠন পদ্ধতিনয় বরং এই পদ্ধতির বাইরে আরও কিছুবিষয় জড়িত করে। যেমন বিখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানীHernShaw বলেন- “গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার গঠন পদ্ধতিরনাম নয়। এটিএক প্রকার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা এবং এটিএক ধরনের সমাজ ব্যবস্থাও। রাষ্ট্রিয় ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র এমন একটিপদ্ধতি যা সরকারগঠন, সরকার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকার বিলোপের বিষয় নির্ধারণকরে।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
গণতন্ত্র একটিআদর্শের রাজনৈতিক শ্লোগান । গণতন্ত্র কে খণ্ডিত ভাবভে সরকার গঠন আব সরকারবিলোপের হাতিয়ার হিসেবে বলতে গেলে বলবো ‘ বনেরা বলে শিশুরা মাতৃকোঁড়ে।গণতন্ত্র যে একটি আদর্শ এ কথা পাশ্চাত্য খোলাখুলি ভাবেই বলে এবংআমাদের দেশে যারা প্রকৃত গণতন্ত্রমনা তারাও একে আদর্শ রুপে গ্রহণ করে
গণতান্ত্রিক সরকার তখনই সর্বোত্তমভাবে কার্যকর হয়, যখন যে সমাজ ও রাষ্ট্রঐ ব্যবস্থাকে ধারণ করে, সে সমাজ ও রাষ্ট্র, তত্ত্বীয় ও বাস্তব অর্থে, একই মানসিকতা তথা গণতান্ত্রিক জীবন পদ্ধতিতেঅভ্যস্ত হয়। ঐ জীবন পদ্ধতির মূলে থাকেসংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। তবেসংখ্যালঘিষ্ঠের অধিকার চর্চা, সংরক্ষণ ও আশংকামুক্ত রাখা হয় সাংবিধানিক রক্ষাকবচের মাধ্যমে। তাই সাংবিধানিকস্থায়িত্ব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির মর্মমূল।
ঐ গণতান্ত্রিকরাজনৈতিক সংস্কৃতি আবার গণতান্ত্রিকসরকার পদ্ধতিসমূহের ভিন্নতা থেকে উদ্ভূতবিষয়ের সাথে সমঝোতারমাধ্যমে গড়ে ওঠে। আধুনিককালে বিশাল জনসংখ্যার প্রেক্ষাপটে প্রাচীন গ্রীসে বিকশিত প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নগর-রাষ্ট্রব্যবস্থা অবাস্তব। তাই আজকালসকল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই অপ্রত্যক্ষ। এটি অবশ্যইপ্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা যা প্রেসিডেন্টপদ্ধতি কিংবা সংসদীয় পদ্ধতি অবলম্বন করে। সরকারেরতিনটি মৌলিক বিভাগ-শাসনবিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের ক্ষমতা চর্চার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি অবশ্যই উন্নততর ও পরিচ্ছন্নতরসুযোগ সৃষ্টি করে এবংএতে অধিকতর কল্যাণকর Checkand Balance প্রতিষ্ঠিত হয়।
যেহেতু সংসদীয় কেবিনেট পদ্ধতিতে আইন সভাও কার্যনির্বাহী বিভাগের মধ্যে আংশিক মিশ্রণ থাকে তাইএতে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যেঅধিকতর সমঝোতা ও সহযোগীতারদাবী রাখে। সরকারপ্রধান এবং কেবিনেটআইন সভার অত্যবশ্যকীয়অংশীদার এবং উভয়েযৌথভাবে আইন সভারনিকট দায়বদ্ধ। তাই এই বিশেষ পদ্ধতিতে কেবলমাত্র সহযোগী ও সহকর্মীসংসদ সর্বোত্তম সরকারী ব্যবস্থাপনা দিতে পারে। স্বাধীন সদা সতর্কবিচার ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক সমাজের চাই তা প্রেসিডেন্সিয়াল হোক কিংবাসংসদীয় হোক উভয়পদ্ধতিতেই দৃঢ়তা ও সুসংবদ্ধতানিশ্চিত করে। এটিইঅব্যর্থভাবে গণতান্ত্রিক ও সংসদীয়জীবন পদ্ধতির মূলনীতি, তথা আইনের শাসন, আইনের চোখে সকলের সাম্যতা নিশ্চিত করে। অবশ্যবিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও শক্তিচুড়ান্তভাবে নির্ভর করে অন্যসব সরকারী ও বেসরকারীসংস্থা ও সংগঠনসমূহেরশক্তি ও সুসংবদ্ধতারউপর।
সংসদীয় পদ্ধতিতে সংসদ সাধারণত সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। যেমন বৃটিশপার্লামেন্ট- যাকে যথার্থই সংসদীয় পদ্ধতির জনক বলেঅভিহিত করা হয় এবং অন্যান্য দেশ যাকেআদর্শ বলে গণ্যকরে সার্বভ্যেমত্বের অধিকার ভোগ করে। বৃটিশ পার্লামেন্ট ঠিক আইনসম্মতপদ্ধতিতে সৃষ্টি হয়নি। এটিসে দেশের বহু শতাব্দিররাজনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে-যা শুরু হয়েছিল ত্রয়োদশ শতাব্দীতে। বলা হয় Parliament শব্দটি Parley থেকেউদ্ভুত হয়েছে। অর্থ আলোচনাও পরামর্শ।
হেনরি তৃতিয় - যার শাসনকালের শেষ ভাগকে সংসদীয় পদ্ধতির বীজ বপনকাল বলা হয়- জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রভাবশালী Baron দের সাথে পরামর্শ (Parley ) করতেন। বর্তমান সংসদীয় পদ্ধতির নিয়মতান্ত্রিক পরামর্শ সভা ১২৬৫খৃষ্টাব্দ থেকে নিয়মিতভাবেহয়ে আসছে। হেনরীরমৃত্যুতে তার পুত্রএডওয়ার্ড প্রথমও একই উৎসাহনিয়ে নিয়মিত পরামর্শ সভা - Parley তে বসতেন। রাজার ক্ষমতায় নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ব্যরনগণসক্রিয় হত, অপরদিকে রাজস্বধার্য করার জন্যরাজাকে ব্যারনদের উপর নির্ভরকরতে হত। এ সংসদীয় পদ্ধতি মহা বিপর্যয়েপড়ে যখন স্টুয়ার্টডাইনেষ্টি-এর রাজাগণ অতি প্রাকৃতিকডিভাইন ক্ষমতার অধিকারের দাবী তুলল। রাজা চার্লস অসংখ্য বার সংসদবিলোপ করলেন, যার পরিণতিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হল এবং যার শেষপর্যায়ে সংসদীয় পদ্ধতির বিজয় ঘোষিতহল এবং রাজারপরাজয় ও মৃত্যুদন্ডকার্যকর হল ১৬৪৯খৃষ্টাব্দে। অতঃপর ১৬৮৮ খৃষ্টাব্দেররক্তপাতহীন বিল্পবের মাধ্যমে সংসদের ক্ষমতা ও মর্যাদাসুসংহত হল এবংমানবাধিকার বিল পাশহল। এ ক্ষমতাও মর্যাদা আরও কয়েকধাপ উন্নতি লাভ করলোএকটি ঐতিহাসিক দৈবক্রমে। হ্যানোভারিয়ান রাজবংশের দুই রাজা, জর্জ-প্রথমএবং জর্জ-দ্বিতীয়ইংরেজি জানতেন না। তাইতারা মন্ত্রী পরিষদের সভাপতিত্ব করতে এবংপ্রসাশনিক খুটিনাটি বিষয় তদারককরতে উৎসাহী ছিলেন না, এ বিষয়গুলো একজন অভিজ্ঞ মন্ত্রীর তত্বাবধানে ছেড়ে দেয়াহলো, যাকে কালক্রমে প্রধান মন্ত্রী বলা হতেলাগলো এবং কার্যতঃএই প্রধান মন্ত্রীর সরকার প্রধান রূপ ধারণকরলো। এভাবেই ক্যাবিনেট (মন্ত্রী পরিষদ) সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বৃটিশেরউপনিবেশগুলোর প্রতিটিকে যখন রাজ্যহিসেবে একজন রাজারঅধীনে দেয়া হয়, যেমন ১৮৬৭ সনেকানাডাকে এবং ১৯০১সনে অস্ট্রেলিয়াকে তখন এই মন্ত্রীসভা শাসিত সরকার পদ্ধতিকে ঐসব রাজ্যেপ্রোথিত করা হয় এবং দেখা গেলএ পদ্ধতির সরকারগুলো ভালই ফর দিচ্ছে। ১৯৪৭ সনেযখন ভারত ভাগহয়ে পাকিস্তান এবং ইন্ডিয়ানামে দু’টি রাজ্যে পরিণত হল তখনক্ষমতা হস্তান্তর কালে সেইএকই পদ্ধতির সংসদীয় গণতন্ত্র উভয় রাজ্যেআশা করা গিয়েছিল। এই পদ্ধতি ইন্ডিয়াতে ফলপ্রসূ হল কিন্তুপাকিস্তানে তা শোচনীয়ভাবেঅকার্যকর প্রমাণিত হয়। ঐক্যবদ্ধপাকিস্তানের অস্তিত্বের ২৪ বছরেরমধ্যে প্রথম দশ বছরসংসদীয় গণতন্ত্র কোনভাবে টিকেছিলো। বাকী সময়গুলোসামরিক ও একনায়কসরকারের শাসনেই শেষ হলো। স্বাধীন বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র কেবল তিনবছর টিকেছিলো, ১১ই জানুয়ারী ১৯৭২ থেকে ২৫শেজানুয়ারী ১৯৭৫ পর্যন্ত। এ পদ্ধতিটি পরবর্তীতে ৮ মাসেরজন্য একদলীয় পেসিডেন্ট পদ্ধতিতে পরিণত হল। এরপর১৯৯১ সালের মার্চ মাসে গণতন্ত্রপুনরুদ্ধার পর্যন্ত এখানে সামরিক ও একনায়কসরকার ব্যবস্থা চলছিলো। অবশ্য তার ৬ মাস পর সেপ্টেম্বর১৯৯১ থেকে সংবিধানেরদ্বাদশতম সংশোধনীয় মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এ পদ্ধতি এখনও চলছে, তবে প্রশ্ন হল এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়াসম্পর্কে।
আমি যেমনপ্রথমেই বলেছিলাম, একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকার-“সংখা