শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০১৪

আরবী ভাষাকে অবহেলা ও মুসলিমদের বিপর্যয়


আরবী ভাষাকে অবহেলাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমদেরবিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।।
---------------------------------------------------------

আরবী ভাষা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আজকের মুসলিম সংখ্যালঘু অঞ্চলগুলোর মুসলমানদের দিকে একবার তাকালেই বোঝা যায়। অথচ এ অঞ্চলগুলোর মধ্যে অনেক দেশই আছে যেগুলোকে মুসলমানেরা ৫০০-১০০০ বছর অবধি শাসন করেছেন। কিন্তু তারপরও সেখানকার সিংহভাগ লোকই অমুসলিম থেকে গেছে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য অমুসলিম শক্তির প্ররোচনায় পড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাদেরকে সেখান থেকে তাড়িয়েছে।

যেমন উসমানী খিলাফত ইউরোপের অধিকাংশ এলাকাই ৫০০ প্লাস বছর ধরে শাসন করেছিলো। ইউরোপের গ্রীস, বুলগেরিয়া, আর্মেনিয়া, হাংগেরী, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন, রোমানিয়া, বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, এস্তোনিয়া থেকে শুরু করে গোটা পূর্ব ইউরোপই কিন্তু এই খিলাফতের অধীনে ছিল।

আবার দেখেন এই ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিমরা প্রায় ১০০০ বছর ধরে শাসন করলেন। কিন্তু বেশীরভাগ লোক মুসলিম হোল না।

মধ্য আফ্রিকার অনেক দেশেও কিন্তু ইসলামী খিলাফতের অধীনে চলে এসেছিলো যার মধ্যে কিছু প্রায় পুরোটাই মুসলিম হয়েছে বাকীগুলো হয় নাই।

আজ ওইসব দেশগুলোর মুসলমানেরা একসময়ের শাসিত, জিজিয়া দিয়ে নিরাপত্তা লাভ করা অমুসলিমদের কাছেই মার খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আজ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র(CFR) এর অবস্থা দেখেন। খ্রিস্টানরা মুসলমানদের নিয়ে ক্যানিবাল করছে তাদের হত্যা করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিরে ছিরে কাচা চিবিয়ে খাচ্ছে। ইউক্রেনের ক্রিমিয়ান তাতার মুসলিমরা বারবার রাশিয়ার কাছে নির্যাতিত হয়েছেন। সম্প্রতি আবার সেখানে রাশিয়ান আগ্রাসন তাদেরকে শঙ্কিত করে তুলেছে। ভারতের কথা আর কি বলবো। ভারতের মুসলমানেরা যে কিরকম মানবেতর অবস্থায় আছেন তা সচেতন সবাই জানেন।

এখন অনেকের মধ্যে প্রশ্ন আসতে পারে এই দুর্দশার সাথে আরবী ভাষার সম্পর্কটা কোথায়??? আমি বলবো আছে, খুবই গভীর সম্পর্ক আছে।

আমরা যদি একটু লক্ষ্য করে দেখি তাহলে দেখবো যে ইসলামের প্রথম যুগে মানে খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে এবং উমাইয়া খিলাফতের সময় যে দেশগুলো মুসলমানেরা জয় করেছিলেন সেখানে তারা কেবল ইসলাম নিয়ে যাননি। ইসলামের সাথে সাথে আরবী ভাষাও বহন করে নিয়ে গিয়েছেন। শিক্ষা বেবস্থা আরবীতে ছিল, সরকারী কাজকর্ম আরবীতে হোত আর সেই সাথে বিশাল সংখ্যক আরব সেখানে গিয়ে বসতী গাড়তেন। ফলে পুরো পরিবেশটাই আরবী হয়ে যেতো। আর স্থানীয় জনগণের ওপর এর প্রভাব ছিল জাদুর মত, সিমপ্লি ম্যাজিকাল।

এই আরবীর ভাষাই জনগণের একটা বিশাল অংশকে মুসলিম হতে বাধ্য করেছিলো। কারণ আরবীর ব্যাপক প্রচলনের কারণে তাদের জন্য কোরআন সুন্নাহ বোঝাও যেমন সহজ হয়ে যেতো ঠিক তেমনি কোরআন এবং সুন্নাহও বিজিত এলাকার মানুষের মনের মধ্যে খুব দ্রুত আসন গেঁড়ে নিতো।

অন্যদিকে আব্বাসী খিলাফতের সময় থেকেই আরবীর প্রতি অবহেলা শুরু হয়েছিলো যদিও প্রথম দিকে তা অতটা বোঝা যায়নি। কিন্তু শেষের দিকে এসে ফার্সি এবং তুর্কীর প্রভাব বেড়ে যায়। আর উসমানী খিলাফত তো আরবীকে চরমভাব অবহেলা করে। ইউরোপের বিজিত দেশগুলোতে তারা আরবী ভাষাকে বহন করেনি। যার কারণে ৫০০ বছর ইসলামের অধীনে থাকার পরেও সেখানকার অধিকাংশ লোক ইসলামে দীক্ষিত হননি। এটা কেবল তাদের দোষ ছিল না বরং রাষ্ট্রও জন্য দায়ী ছিল। কারণ রাষ্ট্র সেসময় ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব বহন করার মূল উপাদান আরবী ভাষাকেই তাদের কাছে বহন করে নিয়ে যায়নি।

একই অবস্থা ছিল আমাদের এই সাবকন্টিনেন্টের। এখানেও শুরুর দিকের কিছু সময় বাদ দিলে প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই আফগান,তুর্কী এবং মোগলরা শাসন করেছে। এরাও আরবীকে সামগ্রিকভাবে ছড়িয়ে দেয়নি। মোগলদের গোটা সময়টাতেই ফার্সি ছিল অফিসিয়াল ভাষা। এমনকি হিন্দুরাও ফার্সি শিখতো।

তো এর ফল যা হবার কথা ছিল তাই হোল। পাঁচশ বছর ধরে মুসলমানদের অধীনে থাকার পরও এই অঞ্চলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসলামের ছায়ায় আসার সৌভাগ্য লাভ করলো না। আর আজকে এরাই সেখানকার মুসলমানদের বেদম মার দিচ্ছে।

আমার প্রিয় একজন শায়খ(রহঃ) যার চিন্তা ধারণা থেকেই আরবীর এই মাকাম বুঝতে শিখেছিলাম কতই না সুন্দর বলেছিলেন مزج الطاقة العربية بالطاقة الاسلامية অর্থাৎ, ''ইসলাম এবং আরবী ভাষার শক্তি একসাথে মিশে আছে।'' বহু বছর আগে এই কথাগুলো থিওরিটিকালি পড়তাম পরবর্তীতে নিজেই এই লাইনটা পড়িয়েছি ব্যাখ্যা করেছি অনেককে। কিন্তু আজ যখন ক্রিমিয়া, ভারতসহ আরোসব দেশগুলোর দিকে দেখি তখন শায়খের(রহঃ) কথাগুলোর যথার্থতা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়।

এখন বুঝুন আরবীর মূল্য কত।


 গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইন পরিবর্তনের পদ্ধতি হল, বিল উত্থাপন ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনুসরণ করা। এখন আপনি যদি এই প্রক্রিয়ায় বিল উত্থাপন ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে মদ নিষিদ্ধ করেন, তাও তা হবে একপ্রকার মানবরচিত আইন। কারন এটার breeding process এটাকে তাই বলছে। আমরা বলবো এটা এক প্রকার মানবরচিত আইন কিন্তু ঘটনাক্রমে এটা শরীয়াহ আইনের সাথে মিলে গেছে। “ব্যভিচারের ফলে যে বাচ্চা হবে তাকে তো জারজ সন্তানই বলা হবে, যদিও ঘটা করে গরু জাবাই দিয়ে তার আকীকা করা হোক কিংবা জব্বরসই একখান আরবী নাম রাখা হোক!”


ইসলাম কয়েকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান সর্বস্ব ব্যাপার হয়ে দারিয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া, রমযানের রোযা রাখা, হজ্ব করা, লম্বা জামা ও টুপি পড়া এবং জুম্মার নামাজের পর লম্বা দোয়া করা ইত্যাদিকেই বর্তমানে ইসলামের বিধিবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের প্রাত্যহিক কার্যাবলীর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।
তাই যদি হোত কোরআন ৫ পাতায় আসতো, নামাজ পড়ো, যাকাত দাও, হজ্ব কর, ইসলাম শেষ.....!
ইসলাম, জীবনযাপন উপযোগী ব্যাপক সমাধান ও আইন প্রনয়ন করেছে। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক জীবন সহ সবকিছুতেই ইসলাম সুস্পষ্ট আইন ও বিধান প্রদান করেছে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন