বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৩

"আল্লাহুম্মা আলাইকা বি হাসিনা"


জানিনা ৭১এ পাকবাহিনী কিভাবে মানুষ মেরেছে। তবে আমার এলাকা সীতাকুন্ডে আওয়ামীলীগ যেভাবে গুম, খুন করছে তা একটি যুদ্ধ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট। পারভেজ ভাই, আমিন ভাই একের পর এক পরিচিত মুখগুলোকে নির্মমভাবে খুন হতে দেখছি।

ও আল্লাহ, এদেরকে আমি নিজ চোখে দেখেছি। এত নির্মম হত্যার শিকার হওয়ার মত অপরাধ উনারা করেন নি।

ও আল্লাহ, এই আওয়ামী কুফরী শক্তিকে ধ্বংস করে দিন। এরা মনুষ্যত্বের সবটুকু হারিয়ে ফেলেছে।

ও আল্লাহ, আমাদের ভাইদেরকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির কুফল বুঝার তৌফিক দিন।

"আল্লাহুম্মা আলাইকা বি হাসিনা"


সকল ক্ষমতা জনগণের,জনগণের ভোটেই সরকার পরিবর্তন হয় তা মূলত eye wash ছাড়া আর কিছু না। নির্বাচনের পূর্ব মূহুর্তে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী করা হয়, দেশের একমাত্র সমস্যা হলো একটা সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নির্বাচন হলেই সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আওয়ামীলীগ বা বি,এন,পি যে দলই ক্ষমতায় আসুক সীমান্তে হত্যাকান্ড কি বন্ধ হবে, দ্রব্যমূল্যের দাম কি জনগনের হাতের নাগালে আসবে,ইসলামী আকিদা কি সুরক্ষিত থাকবে, আমাদের নদীগুলোতে কি প্রাণ সঞ্চার হবে, জনগনের জান-মালের নিরাপত্তা কি নিশ্চিত হবে, যদি উত্তর হয় ‘না’, তবে কিসের এই সাজানো নির্বাচন, কার জন্য এই নির্বাচন, আমাদের ছুড়ে ফেলে দেয়া দরকার এই নির্বাচনকে। খালেদা-হাসিনা নিপাত যাক....
আল্লাহ্‌ বলেন -

২ - ১১) আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।

২ - ১২) মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা চিন্তা করে না।

 বিষয়টা এরকম না ভাই জামাত-বিএনপি যেই হোক না জুলুম হলে উল্লাস করার কিছু নাই, তাদের পদ্বতিতে সমস্যা আছে তা আমরা সবাই জানি, তারা কুফরকেই বরং সাহায্য করছে ইসলামের নামে.........
 আমি জানি জামাত ক্ষমতায় গেলে প্রথম আমাকেই মাইর দিবে। কারণ আমি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলি। তবুও এইমুহূর্তে তারা মজলুম।
আমিও তো এইসকল জাতি রাষ্ট্রের বিরোধিতা করি। তাই বলে রাজনীতি করতে পারব না? রাসূল(সাঃ) ও তো জাতিরাষ্ট্রের বিরোধী ছিলেন। আপনি তো সেই কথাই বলছেন যা আবু জাহলরা বলত।

 এখানে জুলুমের কথা কইত্থেকে আসলো??
এটা পাল্টাপাল্টি মারার ঘটনার একটা অংশ। এক ইনিংস শেষ হয়েছে আরেক ইনিংস শুরু হবে।
ফেসবুকেই দেখছি, তারা শপথ নিচ্ছে, খুনের বদলা খুন হবে, একটা লাশের বদলা দশ লাশ হবে। এটার নাম নাকি কিসাস!!
আমি জানি তারা এসব বাস্তবায়নও করবে, আগেও তারা করেছে। এখানে তাই জুলুমের প্রশ্নটা অবান্তর।

তাছাড়া, গত কয়েকমাসে যেভাবে ধারাবাহিক ভাবে জনগণের সম্পত্তি বিএনপি-জামাত মিলে সীতাকুন্ডে ধ্বংস করেছে, সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ডাকাতি করেছে সেগুলোও দেখেছি। সাম্প্রতিক সময়ে এদের বাড়াবাড়ি কোন অংশেই কম ছিলো নাহ।

দু'পক্ষই নিপাত যাক, এই অর্থহীন রক্তের হোলিখেলা বন্ধ হোক।
আমি এটা নিয়ে কোন বিতর্কে যেতে চাই নাহ। এরপর আর কমেন্ট করবো না।

 শুধু জামাত ধ্বংস হয়ে কি লাভ হবে??
জামাত আর আওয়ামীলীগের মধ্যে মিথোজীবিতার সম্পর্ক আছে। অস্তিত্ব আর রাজনীতির জন্য একজন আরেকজনের উপর নির্ভরশীল। ধ্বংস হলে দু'জনেই হবে কারণ তখন তাদের সিস্টেম থাকবে নাহ। আর নাহলে এভাবেই চলবে, কারণ বর্তমান সিস্টেম তাদের দু'দলকেই বহাল রাখবে।

 ১। মানুষের জন্য

ক) আল্লাহর আইন সরাসরি অস্বীকার করে, মানুষকেই আইন দেওয়ার একমাত্র অধিকারী মনে করে।

খ) আল্লাহর আইন আছে এটা স্বীকার করে, কিন্তু উপযোগী মনে করে না। মানুষের আইন উপযোগী মনে করে।
গ) আল্লাহর আইনকে উপযোগী মনে করে, কিন্তু মানুষের আইন বেশি উপযোগী মনে করে।
ঘ) দুটোই সমান মনে করে।
ঙ) আল্লাহর আইনকে বেশি উপযোগী মনে করে, তবে মানুষের আইনে চলতে আপত্তি নেই।
চ) মানুষের আইনকে সরাসরি সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার করে।

এদের কোনক্ষেত্রে শরীয়াহ গত হুকুম কি? কাফির, জালিম, মুশরিক, ফাসিক, মুনাফিক, মুমিন?

২) উপরের বিষয়ে
ক) আওয়ামীলীগের অবস্থান কি হবে এবং জামাতের অবস্থান কি হবে?

৩) পাল্টা পাল্টি খুন অন্যায়ভাবে সংঘটিত হতে থাকলে একজন মুমিন তা সমর্থন করতে পারে কিনা বা উল্লসিত হতে পারেন কিনা? এমনকি যদি তারা ঈমানদার নাও হয়। 

 গণতন্ত্রের লিখিত তত্ত্ব
হচ্ছে জনপ্রতিনিধির দ্বারা জনগনের
মতামতের প্রতিফলন ঘটানো। অথচ
প্রকৃত এবং অলিখিত তত্ব হচ্ছে,
জনপ্রতিনিধির মতামতকেই জনগনের মুখ
দিয়ে বের করে আনা। চাই মিডিয়ার
ধাপ্পাবাজির মাধ্যমে জনগণের
মগজধোলাই করে, না হলে লাঠিয়াল বাহিনীর
মাধ্যমে বেদম প্রহার করে। একেই
বলে তথা কথিত গণ-সচেতনতা ....!

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৩


কেন বাংলাদেশে দ্বীন বিজয়ী হচ্ছে না ? আমাদের পিছিয়ে পড়ার কারণ সমূহ কি কি ?


১।
আমরা কি আল্লাহর বদলীর সুন্নায় পড়ে গেছি?
"হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী,মহাজ্ঞানী। (আল মায়িদাহ ৫ : ৫৪)

এখানে আল্লাহর প্রিয় দলের ৪ টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছেঃ
খ) তারা আল্লহকে ভালোবাসবে –
গ) তারা মুসলমানদের প্রতি হবে নম্র – অর্থ তাদেরকে রক্ষা করা, তাদের বিপদে উদ্ধার করার চেষ্টা করা, তাদের প্রতি সদয় হওয়া। অথচ আমাদের দৃষ্টিভংগী কুফফারদের বিভিন্ন প্রচারের মাধ্যমে এতটা সংকীর্ণ হয়ে গেছে যেঃ মুসল্মান বলতে আমরা শুধু নিজ নিজ দেশের মুসলমান বুঝে থাকি। অথচ মুসলিম ভূমিসমূহকে পার্থক্যকারী মানচিত্রে অংকিত এসব বর্ডার কখনো আল্লাহর দ্বীনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এমনকি আমরা মুসলিম উম্মাহর বর্ডারও ভালো ভাবে চিনি না। যে যার দেশের বর্ডার উল্লেখ করি। আসলে আমাদের বর্ডার হলোঃ

মুসলমানদের ম্যাপ শুরু হয়েছে ইসলামিক স্পেইন থেকে, মস্কো একসময় আমাদের ম্যাপের অংশ ছিলো, কাজাখস্থান, কিরিগিস্থান, তুর্কমেনিস্থান, সিমালে তুর্কমেনিস্থান (বর্তমান চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ), ভারত, বাংলাদেশ, আরাকান, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সোমালিয়া, সুদান, মালি, আলজেরিয়া, মরক্কো। এই হলো আমাদ্বর বর্ডার। এর মাঝখানে রয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্থান, আফগানিস্থান, এবং আফ্রিকার সুদান, মিশর, লিবিয়া প্রভৃতি দেশ।
ঘ) তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে – অর্থ তাদের থেকে জিযিয়া নেয়া, বছরে ১/২ বার তাদের উপর আক্রমণ পরিচালনা করা ইত্যাদি।

২। আমাদের এখানে দ্বীনের আনসার অনুপস্থিত।

দ্বীন কায়েমের অন্যতম পদ্ধতি হলো হিজরত ও জিহাদ। কিন্তু যদি আনসার না থাকে তাহলে হিজরত করে মুসলমানরা যাবে কোথায়? তাই দ্বীনের আনসার থাকাও ফরজ। আল্লাহ বলেনঃ
"যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই সফলকাম।
তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাদের পরওয়ারদেগার স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, সেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি।

"তথায় তারা থাকবে চিরদিন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে আছে মহাপুরস্কার। (সূরা আত তাওবা, ৯ :২০-২২)
আল্লাহ আরো বলেছেনঃ
"আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়। (আল বাকারাহ ২:২১৮)

"এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।

"যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত,তারাই সফলকাম।

"আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা,আপনি দয়ালু,পরম করুণাময়। (আল হাশর ৫৯ :৮-১০)

"এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সেসবই দেখেন।

"আর যারা কাফের তারা পারস্পরিক সহযোগী, বন্ধু। তোমরা যদি এমন ব্যবস্থা না কর, তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বিস্তার লাভ করবে এবং দেশময় বড়ই অকল্যাণ হবে।
"আর যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়েছে এবং আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহায়তা করেছে, তাঁরা হলো সত্যিকার মুসলমান। তাঁদের জন্যে রয়েছে, ক্ষমা ও সম্মানজনক রুযী। (আল আনফাল ৮ :৭২-৭৪)

রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
"হিজরত বন্ধ হবে না যতক্ষণ না তাওবা কবুল হয়, আর তাওবা ফিরিয়ে দেয়া হবে না যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত না হয়। (মুসনাদে আহমাদ)
সুতরাং হিজরত কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। কিন্তু যদি আনসার না থাকে তাহলে হিজরত হবে কিভাবে? কার কাছে? তাই আমাদের সবার আনসার হিসেবে কাজ করার মানষিকতা তৈরী করতে হবে। শুধু হিজরত করে এই দেশ ছেড়ে চলে যাবার মানষিকতা থকলে হবে না।
রাসুল (সাঃ) যখন বিভিন্ন গোত্রের কাছে নুসরত চাইতেন তখন তাকে আশ্রয় দেয়ার ও তাকে সাহায্য করার আহবান করতেন তিনি যখন বনী সায়াসায় এর কাছে গেলেনঃ তখন তারা বললোঃ আপনি আমাদেরকে কিসের দিকে আহবান করছেন, হে আরব ভাই? রাসুল (সাঃ) বলেছিলেনঃ ‘আমি আপনাদেরকে এই সাক্ষ্য এর দিকে আহবান জানাইযে আল্লাহ ছাড়া ইবাদাত লাভের যোগ্য আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। এবং তোমরা আমাকে আশ্রয় দিবে ও সাহায্য করবে”।
একইভাবে মদীনার আনসাররাও রাসুল (সাঃ) কে আশ্রয় দেয়ার ও সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
হজরত জাবের (রাঃ) বর্ণিত, “সমবেত ৭০ জন লোক বায়াতের জন্য উঠলে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী আসয়াদ ইবনে যুরারা (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর হাত ধরে বললেন, ইয়াসরিববাসী একটু থামো। আমরা তাঁর কাছে উটের বুক শুকানো দূরত্ব অতিক্রম করে এই বিশ্বাস নিয়ে এসেছি যে, তিনি আল্লাহর রাসুল। আজ তাকে মক্কা থেকে নিয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, সমগ্র আরবের সাথে শত্রুতা, তোমাদের বিশিষ্ট নেতাদের নিহত হওয়া ও তলোয়ারের ঝনঝনানি। কাজেই এসব যদি সহ্য করতে পারো তবেই তাঁকে নিয়ে যাও। তোমাদের এ কাজের বিনিময় আল্লাহর কাছে রয়েছে। আর যদি নিজের প্রাণ তোমাদের কাছে প্রিয় হয়ে থাকে, তবে তাঁকে এখানেই ছেড়ে যাও। এটা হবে আল্লাহর কাছে তোমাদের অধিক গ্রহণযোগ্য ওযর”। – মুসনাদে আহমদ।
ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, “লোকেরা বায়াতের জন্য সমবেত হওয়ার পর হজরত আব্বাস ইবনে ওবাদা ইব্নে নাযলা (রাঃ) বললেন, তোমারা জানো, তোমরা কিসের উপর বায়াত করছো? সবাই বললো, হ্যা জানি। তোমরা তাঁর হাতে কালো ও লাল লোকদের সাথে যুদ্ধ করার বায়াত করছো। যদি তোমরা মনে করে থাকো, যখন তোমাদের ধন-সম্পদ বিনষ্ট করা হবে, তোমাদের অভিজাত নেতৃস্থানীয় লোকদের হত্যা করা হবে, তখন তোমরা তাঁকে পরিত্যাগ করবে, তবে এখনই তাঁকে পরিত্যাগ করো”। [আর রাহীকুল মাখতুম, পৃষ্টাঃ ১৭৪]
এভাবে পুরো দুনিয়ার সাথে শত্রুতা করে হলেও মদীনাতে আনসাররা নিজেদের ও নিজ পরিবারের গায়ে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত মুসলমনাদেরকে রক্ষা করার জন্য তৈরী হয়ে যান।
এদেশে একজন আনসারের কাজ কি কি হবে? এই দেশে একজন আনসারের কাজ হবে যেকোন ২/৩ জন মুহাজির ভাইকে নিজ ঘরে থাকার জন্য আশ্রয় দেয়া ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা। যদি কোন আনসার অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে মুহাজির ভাইদের খাবার সংস্থান করতে না পারেন, শুধু থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে সেটাও চলবে। তবে দুটোই প্রদান করতে পারলে ভালো। এক্ষেত্রে তিনি নিজে বাড়ীর মালিক হতে হবে, তা না হলে মুর্তাদদের প্রেসারে অনেক সময় বাড়ীর মালিকরা তথ্য ফাঁস করে দেয়। কিন্তু এই বাড়ী যে শহরে হতে হবে কিংবা বিল্ডিং হতে হবে, এমনটা জরুরী নয়। সেটা গ্রামেও হতে পারে, টিনের ঘরও হতে পারে।
আর সাধারণত মুহাজিররা এমন এক সময় আনসারদের বাসায় চলে যাবেন, যখন মূল যুদ্ধ শুরু হবার সময়। অস্ত্র সহ তারা সেখানে অবস্থান নিবেন। তাই কোন কারণে মুর্তাদ সরকারের বাহিনী আসলেও তাদের দাত ভাংগা জবাব দেয়া যাবে। এছাড়াও বিশেষ প্রয়োজনে এখনও কোন কোন ভাই এর নিরাপত্তা সমস্যার কারণে কোন আনসারের বাড়ীতে গিয়ে থাকতে হতে পারে।
মুহাজির যে শুধু বিদেশ থেকে আসবেন সেটা নয়, দেশের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়ও একজন মুসলিম মুহাজির হিসেবে চলে আসতে পারেন। তাই আনসারদেরকে দেশী ও বিদেশী উভয় ধরনের মুহাজিরদেরকে আশ্রয় দেয়া ও সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সহজেই অনুমেয়, এখন আনসারদেরকে নিজের পরিবার-পরিজনকে আল্লাহর জন্য এই রকম কুরবানী করার জন্য, কষ্ট করার জন্য মানষিক ভাবে তৈরী করতে হবে। দাওয়াহ দিতে হবে। আর আনসাররা যেহেতু নিজে গৃহকর্তা হবেন, তাই এই ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছাই হওয়া উচিত চূড়ান্ত।
আনসারদের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার জন্য মূল মহাসড়ক বাদ দিয়ে ভিন্ন পথে, ভিতরের পথ দিয়ে যাওয়ার জন্য চ্যানেল চালু করা। যাতে অস্ত্র কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে ঐ সব পথ দিয়ে তারা গাইড করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নিয়ে যেতে পারেন।
বর্তমানে যে ৮ টা দেশে শক্তি সহ মুসলিমরা অবস্থান করছেন সে সব দেশে আনসাররা এভাবেই মুহাজিরদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। যেমনঃ ইয়েমেনে আনসার আশ শারীয়াহ, মালিতে আনসার আদ দ্বীন।___চলবে

:- ম্যাপ

[ গণতন্ত্রে লাত্থি মারো - শরীয়াহ কায়েম কর ]



শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৩

খিলাফত/ইসলামী রাষ্ট্র/ইমামত কুফরকে কুফর বলে যারা কুফরি কাজ করে



[স্টেটাস্টি না পরে কেউ লাইক দিবেন না, আমার লাইকার দরকার নেই, পাঠক এবং মন্তব্যকারী আবশ্যক..]

>>> সেকুলারিজমের প্রবর্তক অভঙ্গ নাস্তিকদের গুরু কার্ল মার্ক্স তার এক গ্রন্থে বলেছেন, "বিবাহ এমন একটি প্রথা, যেখানে এক নারীই তার দেহের বিনিময়ে স্বামীর কাছ থেকে সকল ধরনের সুবিধা নিয়ে থাকে, এটি পতিতাবৃত্তি থেকে কোনো অংশে কম নয়..
শুধু তাই নয়.. ঊনি আরও বলেছেন, " নারী বাচ্চা উৎপাদনের যন্ত্র বৈ আর কিছুই নয়..

ার মানে উনার যুক্তিতে উনি মেনেই নিয়েছেন যে উনি পতিতার ছেলে, আর যারা তাকে অনুসরন করে তারাও বাস্টার্ড ...

অথচ ইসলাম ধর্মে , বিবাহ হচ্ছে নারী পুরুষের সব থেকে পবিত্র সম্পর্ক...
সেকুলার মুসলিম, বিবাহিত ব্যাচেলর এর মতও...
সেকুলারিজম এবং ইসলাম একসাথে থাকতে পারেনা
তাই যারা দাবি করে, আমি ধর্মনিরপেক্ষ সেকুলার মুসলিম, তাদের কশাইয়া থাব্রা মারবেন....


  কুফরকে কুফর বলে যারা কুফরি কাজ করে তারা এই দিক থেকে অনেক সৎ সেই সমস্ত লোকদের থেকে যারা কুফরকে ইসলাম বলে মানুষকে তাদের দিকে ডাকে। কেন? কারণ তারা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে এই বলে যে আমরা কুফরি করছি। আমরা ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছি। এই দলে ওই লোকই যাবে যারা সত্যিকার অর্থেই মুরতাদ হয়েছে। মুসলিমদের জন্য এইটা অনেক সহজ হয় তাদের শত্রুকে চিনে নিতে।

কিন্তু যারা শব্দ নিয়ে খেলা করে, ইসলামিক পরিভাষা নিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেয়, কুফরকে ইসলাম বলে, শিরককে হালাল করার জন্য ভুল দলিল দেয়, হারামকে হালাল করার জন্য নাম পরিবর্তন করে, হারাম কাজের আগে একটা "ইসলামিক" লাগিয়ে দেয়, তাদেরকে সাধা মাটা মুসলিমরা চিনতে পারে না। তারা ওইসমস্ত কাফিরদের থেকে ভয়ানক হয়ে থাকে কারণ মুসলিমরা তখন হারাম কাজটাকে হালাল মনে করে তাদের দলে ভিড়বে আর হারামে লিপ্ত হবে এবং ধ্বংস হবে।

- বিশ্ব মুসলিমাহ সুন্দরী প্রতিযোগিতা
- হিজাবী গার্লফ্রেন্ড
- ইসলামিক স্টেট অফ ইরান
- পবিত্র সংবিধান
- শহীদ রাজিব হায়দার
- শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ...

এরা প্রত্যেকেই আমাকে চিন্তায় ফেলে দেয়!!


 এই জাতি আবারও নেশায় বুঁদ হইয়া সেকুলার বিরিয়ানির সহিত জাতীয়তাবাদী আঙ্গুরের জুস পান করিতে যাইতেছে। গণতন্ত্র তাহার মরণ দশায়ও এই বঙ্গদেশে পরিপূর্ণ যৌবনা।
 বিকল্প কোনো সহনীয় পদ্ধতিতে মানুষের
দৃষ্টি আকর্ষণ
করে তাদেরকে আস্তে আস্তে প্রস্তুত
করে কলেমার এ বানী প্রচারের নীতি অবলম্বন
করলে আরব জাতীয়তাবাদের
চেতনাকে একটা মোক্ষম অস্ত্র
হিসেবে ব্যবহার করা যেত। রাসুলুল্লাহ (সা)
যখন রিসালাতের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন
তখন আরবদের অধিকাংশ ভুমি ও সম্পদই ছিল
রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের কুক্ষিগত।
উত্তরে সিরিয়া অঞ্চল ছিল রোমানদের ও
দক্ষিণে ইয়েমেন ছিল পারস্যের জবরদখলে।
স্থানীয় কিছু আরব নেতারা পারস্যের
গোলামী করে ওই এলাকা শাসন করত।
মরুভূমির কয়েকটি অনুরভর অঞ্চল (নজদ,
হেজাজ) ছিল আরবদের কতৃত্তাধিন। এরও
সামান্য কিছু বাগান ছাড়া বাকী এলাকা ছিল ধু
ধু বালুকাময়।
অপরদিকে মুহাম্মদ (সা) এর জনপ্রিয়তা,
নির্ভরযোগ্যতা, বিশ্বস্ততা ছিল
সে অঞ্চলের আবালবৃদ্ধবনিতা সবার কাছে এক
স্বীকৃত সত্য। তারা তাকে আল-আমিন, আস-
সাদিক উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
তাছাড়া বংশীয় দিক বিবেচনায়ও তিনি ছিলেন
কুরাইশদের ঐতিহ্যবাহী শাখা বনু-হাশিমের
সদস্য। সুতরাং এটা নিরদিধায়
বলা যেতে পারে যে,
তিনি জাতীয়তাবাদী ঘোষণার
মাধ্যমে পুরো আরবকে নিজস্ব
প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে পারতেন। গোত্রীয়
কলহ-বিবাদে ও
দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তারা অতিস্ঠ
হয়ে উঠেছিল। ফলে মহানবীর (সা)
ডাকে যে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিত
এতে কোন সন্দেহ ছিলনা। সুদীর্ঘ
তেরোটি বছর অমানুষিক জুলুম-নির্যাতন সহ্য
করার ঝুঁকিপূর্ণ পথে নয়া গিয়ে জাতীয়তাবাদের
ধুয়ো তুলে অতি সহজেই মুহাম্মদ (সা) তার
নেতৃত্বের প্রতি আরবদের সমর্থন আদায়
করতে পারতেন। এভাবে তাদের
হারানো ভুমি উদ্ধার করে, তাদেরকে তার
নেতৃত্বের অধিনে ঐক্যবদ্ধ করার পর
জনগণকে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি ঈমান
আনার দাওয়াত দিতে পারতেন।
ইতিমধ্যে আরবদের মধ্যে তার নেতৃত্ব ও
কত্রিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক
কারণে তার নির্দেশিত মতাদর্শ
অনুযায়ী আল্লাহর
একত্ববাদকে তারা মেনে নিতে বাধ্য হত।
মানবীয় জ্ঞানের এটাই স্বাভাবিক বিশ্লেষণ।
কিন্তু সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা,
সর্বশ্রোতা আল্লাহ্ তার রাসুলকে এ
পদ্ধতি অবলম্বনের নির্দেশ দেন নাই।
বরং চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও
তিনি তাকে প্রকাশ্যে ‘
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র
বিপ্লবী ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য সব
ধরনের কতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ
ঘোষণার মাধ্যমে তা অস্বীকার করার নির্দেশ
দেন এবং তাকে ও তার মুষ্টিমেয়
সাথীকে ধৈর্যের সাথে উদ্ভুত
সমস্যা মোকাবেলা করার নির্দেশ দেন।
আমাদের জানতে হবে সহজসাধ্য পথ বাদ
দিয়ে কেন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথের দিকে আল্লাহ্
তা’আলা তার মুষ্টিমেয় বান্দাকে ঠেলে দিলেন।
আল্লাহর প্রিয় হাবীব ও তার
সাথীদেরকে কি তিনি অযথাই যুলুম-নির্যাতনের
মুখে ঠেলে দিয়েছেন? না। তা কিছুতেই
হতে পারেনা।
এর কারন হল, সকল জ্ঞানের আধার আলিমুল-
গায়েব আল্লাহ্ তা’আলা জানতেন যে, এ
পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোন উপায়ে কাঙ্ক্ষিত
উদ্দেশ্য সফল হতে পারেনা। কেননা রোম,
পারস্য সাম্রাজ্যের নিপীড়ন থেকে তাদের
মুক্ত করে আরব্য নির্যাতন প্রবর্তন করা এ
সংগ্রামের উদ্দেশ্য নয়। এ জিহাদের উদ্দেশ্য
ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তা হল তাওহীদের
আলোর মাধ্যমে শিরক ও জাহেলিয়াতের
পঙ্কিল অন্ধকার থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করা। এ
পবিত্রকরন প্রক্রিয়া একমাত্র ‘
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ’র
ঘোষণা ছাড়া অন্যকিছু হতে পারেনা এবং এ
পৃথিবী অন্য কোন উপায়ে পবিত্র
হতে পারেনা। কেননা মানুষত শুধু আল্লাহ্র ই
দাস। তাই কলেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র
সর্বাত্মক চেতনার অধীনেই আল্লাহর অনুগত
বান্দা হিসেবে জীবন পরিচালনা করতে হবে।
কথা হল আজকাল আমরাও তো ‘
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ’র ঘোষণা দিই। এমন
মানুষের সংখ্যা মোটেই কম নয় যারা প্রতিদিন
শত-সহস্রবার এ কলেমা পাঠ করেন, সকাল
সন্ধ্যায় সজোরে এ যিকির করেন, কিন্তু
তারপরেও আমাদের সামগ্রিক জীবন বেবস্থার
কোন পরিবর্তন নেই কেন? আমাদের সমাজ ও
রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন নেই কেন?
এর কারণ হল আমরা কলেমার
মর্মবাণী উপলব্ধি করতে শিখিনি। এ
কলেমা আমাদের কাছে কি চায়? এ কলেমার
গুরুত্ব ও মাহাত্ত সম্বন্ধে আমরা যথার্থ
জানিনা। তাই চিৎকার করে গলা ভেঙ্গে যাচ্ছে;
অথচ আমাদের ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র কোন
ক্ষেত্রেই এর কোন প্রভাব পরছেনা। কিন্তু
আরবের অবস্থা এমন ছিলনা।
আরবি মাতৃভাষা হওয়ায় তারা এ কলেমার
মর্মবাণী পরিপূর্ণ অনুধাবন
করতে পেরেছিলেন। পেরেছিলেন
পুরনাঙ্গরুপে হৃদয়ঙ্গম করতে। এ কলেমার অর্থ
হচ্ছে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কেউ সার্বভৌম
ক্ষমতার একচ্ছত্র মালিক হতে পারেনা। কোন
মানুষ মানুষের জন্য নিরঙ্কুশ আইন
প্রনেতা হতে পারেনা এবং কোন মানুষের উপর
মানুষের নিরঙ্কুশ প্রভুত্ব ও কতৃত্ব
চলতে পারেনা। সকল কতৃত্তের একচ্ছত্র
অধিপতি হল আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন।
মানুষের মধ্যে ঐক্য এর একমাত্র ভিত্তি হল
ঈমান। এ মহাসত্যটি প্রথম থেকেই মানুষের
মনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া অনিবার্য। তাই
আল্লাহ্ তা’আলা এই কলেমা ঘোষণার
মাধ্যমে দাওয়াতী অভিযান শুরুর নির্দেশ
দেন।.............ইসলাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত
করতে হলে প্রথম যুগের মত করেই প্রতিষ্ঠিত
করতে হবে। প্রতিষ্ঠিত হলে একমাত্র সেই
পদ্ধতিতেই প্রতিষ্ঠিত হবে।
[ উপরোক্ত লেখাটি সাইয়েদ কুতুব শহীদের
মাইলস্টোন (বাংলা ভার্সন) হতে নেওয়া ]
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সবাইকে সঠিক
পথ বুঝার তাওফীক দান করুন। (আমীন)


 ব্যর্থ গণতন্ত্রের সমাধান
কি "তত্ত্বাবধায়ক সরকার" ?

আওয়ামী লীগের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য
দিয়ে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার
উঠিয়ে নেয়া পরবর্তী তে বাংলাদেশের
রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার
পুনর্বহাল ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। মূলত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল
হবে কি হবে কিনা? কিংবা বিদ্যমান
সংশোধিত সংবিধানের আলোকে দলীয়
সরকারের অধীনে নির্বাচন নাকি নতুন কোন
নির্বাচনী রূপরেখা প্রণয়ন
করা হবে তা নিয়ে সকল
জল্পনা কল্পনা আবর্তিত হচ্ছে।
এই রূপ একটি রাজনৈতিক সংকট ছিয়ানব্বই
সালে জাতি প্রত্যক্ষ করে। মূলত দলীয়
সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ
করার অবিশ্বাস থেকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন
বি এন পি কে বাধ্য করা হয় “তত্ত্বাবধায়ক
সরকার ব্যবস্থা” সংবিধানে সংযোজন
করতে। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে তৎকালীন
এই আন্দোলন সংগঠিত হয় বি এন পির
বিরুদ্ধে, যা এখন বি এন পির
নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী জোটের
বিরুদ্ধে চলমান।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশ
পরবর্তী দ্বিজাতি তত্ত্বের
বাতাবরণে উপমহাদেশের রাজনৈতিক
বাস্তবতায় ভারত ও পাকিস্তানের উত্থান
ঘটে। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রভাবাধীন
রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ব্যবস্থার মধ্য
দিয়ে ভারত ও পাকিস্থানের রাজনৈতিক
প্রক্রিয়া পুনর্গঠন করা হয়।
সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ ও
পরবর্তীতে আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত মুসলিম
অধ্যুষিত পাকিস্তানের বৃহত্তর
জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক
এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া জনগণের
আকাংক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়। বৃটিশ
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত ঔপনিবেশিক
রাজনীতি তৎকালীন পাকিস্তানের
ক্ষমতাকেন্দ্রের প্রতিভূ হয়ে উঠে যা কথিত
স্বাধীন বাংলাদেশের ও নিয়ন্ত্রক।
স্বাধীনতা পরবর্তী চারদশকের ও
বেশী সময় ধরে সাম্য, গণতন্ত্র ও
ধর্মনিরেপক্ষতার সস্তা শ্লোগানের
আড়ালে নয়া ঔপনিবেশিক
রাজনীতিকে বাস্তবায়িত করা হয়েছে। এই
দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী, রাজনীতি ও
ভূকৌশলগত সম্পদের উপর
সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন, বৃটিশ ও
আধিপত্যবাদী শক্তি ভারতের
কর্তৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
মার্কিন ভারত বৃটেন নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক
মঞ্চে বহিঃশক্তির স্বার্থ রক্ষক দালাল
স্বরুপ আবির্ভাব ঘটে মুজিব -জিয়া-এরশাদ
গংদের।
হাসিনা -খালেদা নিয়ন্ত্রিত দ্বি-জোটীয়
গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও সেই স্বার্থকেই
প্রতিনিধিত্ব করে যা আরো বেশি লুন্ঠন,
দূর্নীতির বিস্তার ঘটায়
এবং দেশকে আরো অস্থিতিশীল
করে তুলছে। গণতান্ত্রিক দলগুলোর
ক্ষমতা দখল ও লুন্ঠনের
লড়াইয়ে যে পারস্পরিক অবিশ্বাস
সে অবিশ্বাসের গহ্বরে ততত্ত্বাবধায়ক
সরকার ব্যবস্থার জন্ম। কাজেই তথাকথিত
তত্তাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কী লুন্ঠন,
দূর্নীতি, জ্বালাও পোড়ানোর
রাজনীতি থেকে জনগণকে উত্তরণ
ঘটাতে সক্ষম হবে? নাকি মার্কিন -ভারত-
বৃটেনের স্বারথে গণবিরোধী, দূর্নীতিগ্রস্থ
গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন
করে পুনর্বাসিত করবে?
বস্তুতঃ দলীয় সরকার কিংবা তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যর্থ
গণতান্ত্রিক শাসনকে টিকিয়ে রাখার
ছলনা বৈ আর কিছুই নয় যা এই মহাবিশ্বের
স্রষ্টা আল্লাহর পরিবর্তে মানুষের
সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়ে দ্বীন কে রাষ্ট্র
থেকে পৃথক করে। ইসলামি আকীদার
সাথে যা সুস্পষ্ট সাংঘর্ষিক। এই দেশের
মুসলিমদের অবশ্যই কথিত তত্ত্বাবধায়ক
সরকার ইস্যুর আড়ালে দূর্নীতিগ্রস্থ ও
নিপীড়নমূলক কুফর গণতান্ত্রিক
ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার
সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র ও তাদের এদেশীয়
দালালদের প্রতিহত করতে হবে। সেই
সাথে ইসলামি আকীদা ভিত্তিক রাষ্ট্র
ব্যবস্থা খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার
সংগ্রামকে জোরালো করতে হবে।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন,
“আপনি কি তাদেরকে দেখেননি যারা আল্লাহ্
সুবহানাহু ওয়া তা’আলা'র
অনুগ্রহকে কুফরীতে পরিণত
করেছে এবং তাদের জনগণকে তারা ধবংসের
আবাসস্থল উপহার দিয়েছে। তারাই
জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবে, আর
তা অতি নিকৃষ্ট
আবাসস্থল।” [সূরা ইবরাহিম :২৮-২৯]
আবু হাজিমের বরাত দিয়ে ইমাম মুসলিম
বর্ণনা করেন,"আমি আবু হুরায়রার
সাথে পাঁচ অতিবাহিত
করেছি এবং তাকে বলতে শুনেছি, রাসূল
(সা:) বলেছেন,
'বনী ইসরাঈলকে শাসন করতেন নবীগণ।
যখন এক নবী মৃত্যুবরণ করতেন তখন তার
স্থলে অন্য নবী আসতেন, কিন্তু আমার
পর আর কোনও নবী নেই। শীঘ্রই
খলীফাগণ আসবেন এবং তারা সংখ্যায়
অনেক। তাঁরা (রা:) জিজ্ঞেস করলেন তখন
আপনি আমাদের কী করতে আদেশ করেন?
তিনি (সা:) বললেন, তোমরা একজনের পর
একজনের বাই'আত পূর্ণ করবে, তাদের হক
আদায় করবে। অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু
ওয়া তা’য়ালা তাদেরকে তাদের উপর অর্পিত
দায়িত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন করবেন।' "
মোর্শেদ আলম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক


দ্বীন প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি (২) - খিলাফত/ইসলামী রাষ্ট্র/ইমামত/দারুল ইসলাম-

========================================

ইমামত এর সংজ্ঞাঃ

খিলাফাহ এর পাশাপাশি ইমামাত শব্দটিও ব্যবহার হয় যা মূলতঃ খিলাফাহ শব্দের অনুরুপ অর্থে ব্যবহার হয়।যেমন বলা হয়ঃ إمامة أبي بكر رضي الله عنه

এছাড়া পূর্ববর্তী আলিমগণ খিলাফতকেও ইমামত শব্দ দিয়ে প্রকাশ করতেন। যদিও শিয়ারা ইমামাত শব্দটিকে বিশেষ অর্থে ব্যবহার করে থাকে।

খিলাফাহ এর সংজ্ঞাঃ

খলিফা এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছেঃ কারো উত্তরসুরি হওয়া, অথবা কারো অবর্তমানে তার স্থান নেয়া।

খলিফা এর সংজ্ঞা নিমরুপঃ

ইবনে খালদুন এর মতেঃ A representation, of the one who has the right to adopt the divine rules, aimed at protecting the Deen and ruling the world (Dunia) with it.

অর্থাৎ, খলিফা হচ্ছেন ঐ সত্বার প্রতিনিধি যার ঐশী আইন প্রণয়ণের ক্ষমতা আছে, যা উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্বীনকে রক্ষা করা এবং সে অনুযায়ী দুনিয়াকে পরিচালনা করা।

ইমাম মাওয়ারদি এর মতেঃ Succession of the Prophethood aimed at protecting the Deen and ruling the world (Dunia).

অর্থাৎ, খলিফা হচ্ছেন নবীর প্রতিনিধি যার মাধ্যমে দ্বীনকে রক্ষা করা যায় এবং সে অনুযায়ী দুনিয়াকে পরিচালনা করা যায়।

হজরত আবু বকর (রাঃ) কে এ কারণেই সাহাবাগণ (রাঃ) ‘খলিফাতুর রাসুলিল্লাহ’ বলে সম্ভোধন করতেন।

খিলাফাহ একটি আরবী শব্দ যার শাব্দিক অর্থ “প্রতিনিধিত্ব মূলক ব্যবস্থা"

ইবনে খালদুনের মতেঃAll actions to manage affairs of dunya and akhirah in conformity with shariah.

খেলাফত হচ্ছেঃ দুনিয়া এবং আখিরাতের সকল বিষয়ের শরীয়াত অনুযায়ী পরিচালনা করার কার্যক্রমকে খেলাফত বলে।

দারুল ইসলাম এর সংজ্ঞাঃ (دار الإسلام)

“দ্বার” শব্দের অনেক অর্থ রয়েছে। যেমনঃ থামার স্থান, ঘর, নিবাস, এলাকা / দেশ (বালাদ) ইত্যাদি।

সাহাবীগণের (রাঃ) কোন কোন কথায় ‘দারুল ইসলাম’, ‘দারুল শিরক’ শব্দ দুটি ফুটে উঠেছে।

যেমনঃ আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) কে বলেছেনঃ “তাদের উপর ততক্ষণ পর্যন্ত কড়াকড়ি করবেন না, যতক্ষণ না তারা মদীনায় ফিরত আসে, যা হলো দারুল হিজরাত, দারুস সুন্নাহ এবং দারুস সালামা। (সহীহ বুখারীঃ ৩৭১৩)

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, “রাসুল (সাঃ), আবু বকর, উমর (রাঃ) ছিলেন মুহাজিরদের অন্তর্ভূক্ত কারণ তারা মুশরিকদের থেকে হিজরত করেছেন। আনসারদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিলেন যারা হিজরত করেছেন। কারণ সে সময় মদীনা দারুস শিরক ছিলো। আর তারা আকাবার বাইয়াতের রাতে রাসুল (সাঃ) এর কাছে এসেছিলেন”। (সুনান আন নাসায়ী)

ইমাম সারকাসী (রঃ) বলেন, “একটি এলাকা দারুল ইসলাম হয় যখন ইসলামী আইন বিজয়ী হয় ও প্রকাশ্য হয়” (শারহুস সীরাহ আল কাবীর ৫/২১৯৭)

ইবনুল কায়্যিম (রঃ) বলেন, “অধিকাংশ আলিমরা একমত যে, দারুল ইসলাম হচ্ছে এমন এলাকা যেখানে মুসলিমরা গিয়েছে এবং থাকা শুরু করেছে এবং ইসলামী আইন বিজয়ী হিসেবে রয়েছে। যদি (মুসলিমরা) কোন এলাকায় বসবাস করে এবং ইসলাম যদি বিজয়ী থাকে তবে তা দারুল ইসলাম। কিন্তু যদি ইসলাম বিজয়ী না থাকে তবে তা দারুল ইসলাম নয় যদিও তা খেলাফতের খুবই কাছে থাকে। তাইফ মক্কার এত কাছে থাকার পরও তা দারুল ইসলাম হয়নি যতক্ষণ না তা বিজিত হয়েছিলো। (আহকামু আহলুল জিম্মাহ, ১/৩৬৬)

ইবনে মুফলিহ (রঃ) বলেন, “আসলে শুধুমাত্র দুইটি অবস্থা রয়েছেঃ দারুল ইসলাম ও দারুল কুফর। যে কোন এলাকা যেখানে ইসলামী আইনে শাসন হয়, তা দারুল ইসলাম আর যে কোন এলাকা যা কুফরী আইনে শাসন হয়, তা দারুল কুফর”। (আদাব আশ শারীয়াহ ১/১৯০)

ইসলামী রাস্ট্র এর সংজ্ঞাঃ (الدولة الإسلامية)

এ শব্দটির ব্যবহার বিংশ শতাব্দীর আগে বিশেষতঃ পূর্ববর্তী আলিমদের মাঝে দেখা যায় না।

"The very term, 'Islamic State', was never used in the theory or practice of Muslim political science, before the twentieth century," - Political Concepts in the Quran by Qamaruddin Khan. Lahore: Islamic Book Foundation, p. 74. 1982.

এছাড়াও দেখুনঃ Muslim politics. D. F. Eickelman & J. Piscatori (1996). Princeton University Press, p. 53.

‘ইসলামী রাস্ট্র’ এর আরবী হবে, ‘দৌলাত আল ইসলামিয়াত’। দৌলাত (دولة) বা রাস্ট্র শব্দটি অপেক্ষাকৃত নতুন। আধুনিক রাস্ট্রব্যবস্থার ধারনার উৎপত্তি হয়েছে ইসলামের আবির্ভাবের অনেক পরে। যাই হোক, ‘দারুল ইসলামের’ সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এটা সহজেই বুঝা যায় যে, যে রাস্ট্রে ইসলামী শরীয়াত অনুযায়ী শাসন হয়, তাই ইসলামী রাস্ট্র। যে রাস্ট্র ইসলামী শরীয়াত অনুযায়ী পরিচালিত হয় না, তা ইসলামী রাস্ট্র না, সেটা একটা কুফরী রাস্ট্র ব্যবস্থা।

খিলাফাহ বনাম দারুল ইসলাম / ইসলামী রাস্ট্র

পূর্ববর্তী আলিমদের নিকট দারুল ইসলাম কথাটিই প্রচলিত ছিলো কিন্তু বর্তমান যুগে ‘ইসলামী রাস্ট্র’ কথাটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

আদর্শ খিলাফাহ মূলতঃ বিশ্বজনীন। অর্থাৎ সকল মুসলিম যদি কোন একজন খলিফার অধীনে থাকেন, সেটা হবে আদর্শ খিলাফাহ। যদিও ১৯২৪ সালে যে খিলাফাহ ভেংগে যাওয়ার কথা আমরা বলি, তখন এবং এর আগেও অনেক যুগ ধরে বিশ্বের সকল মুসলমান একজন খলিফার অধীনে ছিলেন না বরং বিভিন্ন খলিফার অধীনে ছিলেন। কিন্তু কোন আলিমই সে অবস্থাকে খিলাফাহবিহীন অবস্থা বলেন নি।

তাই যখন এক বা একাধিক ইসলামী রাস্ট্র কোন একজন খলিফার অধীনে নিয়ন্ত্রিত হবে, তখন তা একটি খিলাফাহ হবে যদিও আদর্শ খিলাফাহ হবে যখন সকল মুসলিম এলাকা এক খলিফার অধীন হবে। খেলাফতের শেষের দিকে খিলাফাহ ধ্বংশের আগেও মুসলিম বিশ্ব বিভিন্ন ছোট ছোট ইসলামী অঞ্চলে ভাগ হয়ে ছিলো। আলিমদের মধ্যে সে সব অঞ্চলকে ইসলামী শাসনের স্বীকৃতি দিতে দেখা যায়। কারণ অনেক অন্যায়-অত্যাচার থাকলেও তখনও ইসলামী শারীয়াত ছিলো সে এলাকাগুলোর আইন ও ব্যবস্থা।

সুতরাং খিলাফাহ প্রতিষ্টিত হওয়ার জন্য বিশ্বের সকল দারুল ইসলাম একসাথে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, সেটাও শর্ত নয়। এরকম কোন শর্ত আলিমরা নির্ধারণ করেন নি। বরং আলী (রাঃ) এবং মুয়াবিয়া (রাঃ) উভয়ে একই সময় দুই এলাকায় খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কে ভুল কে শুদ্ধ সেই আলচনায় আমরা যাচ্ছিনা, তবে এটা নিশ্চিত যে ওই সময় মুসলিম উম্মাহ এক খলিফার অধীনে ছিলো না। আলেমরা সে সময়কে খিলাফাহ বিহীন অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন নি। তবে পুরো মুসলিম উম্মাহ এক খেলাফতের নিয়ন্ত্রণে থাকাটাই ইসলামের দাবী।

ইসলামী রাস্ট্র / দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠা অর্থ কি?

ইমাম কাসানী (রঃ) বলেনঃ “হানাফীদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন মতপার্থক্য নেই যে, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন হলে দারুল কুফর, দারুল ইসলামে পরিণত হয়”। (বাদাউস সানায়ীঃ ৭/১৩১)

সংক্ষেপে বলা যায়, যে কোন রাস্ট্র মুসলিম শাসক কর্তৃক ইসলামী শরীয়াত অনুযায়ী পরিচালিত, তা হলো ইসলামী রাস্ট্র।

তাই যে কোন দেশকে ইসলামী রাস্ট্রে পরিণত করা বলতে আসলে সেখানে ইসলামী শরীয়াত চালু করা বুঝায়। যেমনঃ এই মুহুর্তে যদি আমাদের দেশে কিংবা যে কোন মুসলিম দেশে বর্তমান শাসক দল এই ঘোষণা দেয় যে, আজ থেকে তারা এ দেশকে ইসলামী শারীয়াত অনুযায়ী পরিচালিত করবে এবং তারা তা বাস্তবে করতে থাকে, তবে সে দেশ ইসলামী রাস্ট্র হিসেবে পরিগণিত হবে। অন্য কোন কারণে তা ইসলামী রাস্ট্র হিসেবে পরিগণিত হওয়া থেকে বাদ যাবে না।

তাই ‘দারুল ইসলাম’ বা ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্টার মূল কথা হলো সে দেশে / এলাকায় ইসলামী শরীয়াহ প্রতিষ্টা করা।

খিলাফাত প্রতিষ্টা করা অর্থ কি?

সংজ্ঞা থেকেই বুঝা যায়, আদর্শ খিলাফাহ প্রতিষ্টা অর্থ হলো, সকল ‘দারুল ইসলাম’ বা ‘ইসলামী রাস্ট্র’ এক খলিফার অধীনে নিয়ন্ত্রিত হওয়া। যার প্রথম পদক্ষেপ হলো যে কোন একটি এলাকা / রাস্ট্রকে দারুল ইসলামে পরিণত করা।

তবে সকল মুসলিম একই খলিফার অধীন হওয়ার আগ পর্যন্তও তাকে খিলাফত বলা যাবে। এদিক থেকে যে কোন একটি বা একাধিক ইসলামী রাস্ট্রের কিংবা দারুল ইসলামের আমীরও খলিফা হতে পারেন। একাধিক ব্যক্তি এই উপাধি ধারন করলে তা হবে ১৯২৪ সালের আগের অবস্থার মতো যেখানে একই সময় একাধিক খলিফা ছিলেন।

তবে ইসলামে দাবী হলো সকল ইসলামী রাস্ট্র / দারুল ইসলাম একই খলিফার অধীনে থাকবে যা আমরা খিলাফাতে রাশিদার যুগে দেখতে পাই।

আল্লাহই ভালো জানেন।


খলিফা ছাড়া মুসলমান অভিভাবক শূন্য। আবার খিলাফত নিয়ে আসতে আমাদের সকল্কে একত্রে কাজ করতে হবে। খিলাফত আসলেই সব সমস্যা, সব তাগুতি আইন ও শাসনের অবসান হবে
আল্লাহর আইন ও শাসন আবার প্রতিষ্ঠিত হবে।
আর আমাদের করনীয়ঃ

وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا ۚ يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ۚ وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ [٢٤:٥٥]
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করছে আল্লাহ্ তাদের ওয়াদা করছেন যে, তিনি নিশ্চয়ই তাদের পৃথিবীতে খিলাফাত দান করবেন, যেমন তিনি খিলাফাত দান করেছিলেন তাদের যারা ছিল এদের পূর্ববর্তী, আর অবশ্যই তিনি তাদের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের ধর্ম যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন, আর নিশ্চয়ই তাদের ভয়-ভীতির পরে তাদের জন্যে বদলে আনবেন নিরাপত্তা। তারা আমারই এবাদত করবে, আমার সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করবে না। আর যে কেউ এর পরে অকৃতজ্ঞতা দেখাবে -- তাহলে তারা নিজেরাই হচ্ছে সীমা-লংঘনকারী।[ সুরা আন নুর ৫৫]

শুধু ঈমান আর সৎ কর্ম নয় করতে হবে দ্বীনের তাবলীগ। তাবলীগের দ্বারা গণঅভ্যুত্থান এর মাধ্যমে।

إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ [١٠٣:٣]
কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের। [সুরা আসর আয়াত ৩]


মদীনায় মুসলিমদের খিলাফাত লাভের সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিক ইতিহাস

15 November 2013 at 14:38
মদীনায় মুসলিমদের খিলাফাত লাভের সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিক ইতিহাস

১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়ত লাভের পর আল্লাহ পাকের নির্দেশ অনুযায়ী তিন বছর নিজ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত দেয়া শুরু করেন। তিনি তাদেরকে জাহিলিয়্যাত ত্যাগ করে আল্লাহ কে একমাত্র রব্ব-সার্বভৌম মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তা মেনে রাব্বুনাল্লাহ্ ঘোষণা, আল্লাহ কে একমাত্র ইলাহ্-দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার একমাত্র সত্তা মানার অঙ্গীকার করে ‘আশহাদু আল্লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্য এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একমাত্র রাসূল-শর্তহীন আনুগত্য, অনুকরণ, অনুসরণ পাওয়ার একমাত্র আদর্শিক নেতা মানার অঙ্গীকার করে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্’ সাক্ষ্য দানের মাধ্যমে ঈমান এনে ইসালামে প্রবেশের আহ্বান জানান।

২. ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ বংশীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সভা করেন; এই সভায় কেউই তাঁর আদর্শ মেনে নেয়নি, এ সভাতে একজনই ইসলাম গ্রহণ করেন, তিনি হলেন আলী রাযিআল্লাহু আনহু। ইসলাম গ্রহণকারী তৃতীয় ব্যক্তি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্তরঙ্গ বন্ধু আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহু। এভাবেই প্রথম পর্যায়ে তিনি ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত ও প্রচারের কাজ শুরু করেন। এই প্রচার ছিল সীমিত আকারে।

৩. তিন বছর ব্যক্তি পর্যায়ে দাওয়াত দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকাশ্যে গণ পর্যায়ে ইসলামের প্রচার শুরু করেন।

৪. প্রকাশ্যে গণ পর্যায়ে ইসলামের দাওয়াত প্রচারের শুরুতেই কুরাইশরা বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করতে লাগলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগ হতে ফিরিয়ে রাখতে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজ না হওয়ায় তারা উপহাস, ঠাট্টা-তামাশা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, গালাগালি, অশালীন অপবাদ, শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন, অবর্ণনীয় কষ্ট-ক্লেশ দেয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে।

৫. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগ হতে ফিরিয়ে রাখতে চাচা আবু তালিবের নিকট কুরাইশদের প্রতিনিধি দল প্রেরণ।

৬. কুরাইশদের পক্ষ হতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগ হতে ফিরে আসার বিনিময়ে তাঁকে মক্কার সবচেয়ে সুন্দরী রমণী, কা’বা গৃহের চাবি, অঢেল স¤পত্তি এমনকি দার-উন-নাদওয়া’য় (কাফির-মুশরিকদের সংসদে) সদস্য পদ দানের মতো বিভিন্ন উপহার উপঢৌকন প্রদানের লোভনীয় প্রস্তাবও দিয়েছিল। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, “আমার এক হাতে সূর্য এবং আরেক হাতে চন্দ্র এনে দিলেও আমি সত্য প্রচার হতে বিমুখ হব না।” যখন তাকে ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা, ওমাইয়া ইবন খলফ বলেন, “আসেন আমরা পরস্পরের মধ্যে শান্তিচুক্তি করি যে, এক বছর আল্লাহর ইবাদাত করবো আর এক বছর দেব-দেবীর পূঁজা করবো।”
তখন আল্লাহ নাজিল করেন যে, “তোমাদের (কাফিরদের) দ্বীন (ও কর্মফল) তোমাদের জন্য, আমাদের দ্বীন (ইসলাম) আমাদের জন্য।” [সূরা কাফিরুন ১০৯:০৬]। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এই প্রস্তাব পেয়েছিলেন তখন মক্কায় মুসলমানদের অবস্থা ছিল চরম দুর্বিষহ। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় কাফির-মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো।

৭. চরম নির্যাতনের মুখে নবুওয়তের পঞ্চম বর্ষের মধ্যভাগে কিছু মুসলিম হিযরত করলেন আবিসিনিয়ায়।

৮. অন্যায় জুলুম নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে দ্বিতীয় দফায় ৮২/৮৩ জন পুরুষ ও ১৮/১৯ জন নারী আবিসিনিয়ায় হিযরত করলেন।

৯. বাদশাহ নাজাশীর দরবারে কুরাইশ প্রতিনিধি দল। বাদশার নিকট হিযরত করে আসা মুসলিমদেরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান। মুসলিমদের সাথে আলোচনা পূর্বক কুরাইশদের উক্ত প্রস্তাব নাজাশী কর্তৃক প্রত্যাখ্যান।

১০. এরপর যে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে তা হল উমার ইবনুল খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ। আরব সমাজে উমার রাযিআল্লাহু আনহু-এর বিশেষ প্রভাব থাকায় তার ইসলাম গ্রহণ ইসলাম প্রচারকে খানিকটা সহজ করে।

১১. এরপর একসময় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চাচা হামযা রাযিআল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ইসলাম গ্রহণে আরবে মুসলিমদের আধিপত্য কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু মক্কায় মুসলিমদের উপর কুরাইশ মুশরিকদের নির্যাতনের মাত্রা কমলো না।

১২. নবুওয়তের সপ্তম বৎসরের মুহাররম মাসে মক্কার সকল গোত্রের কাফির-মুশরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বনু হাশেম গোত্রকে বয়কট করার চুক্তি সম্পাদন করলো। চুক্তিতে স্থির করা হলো যে, বনু হাশেম গোত্র যতক্ষণ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাদের হাতে সমর্পণ না করবে এবং তাকে হত্যা করার অধিকার না দেবে, ততক্ষণ কেউ তাদের সাথে কোন আত্মীয়তা রাখবে না, বিয়ে-শাদির সম্পর্ক পাতাবে না, লেনদেন ও মেলামেশা করবে না এবং কোন খাদ্য ও পানীয় দ্রব্য তাদের কাছে পৌঁছাতে দেবে না। আবূ তালিবের সাথে একাধিকবার কথাবার্তার পরও আবূ তালিব রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিজের অভিভাবকত্ব থেকে বের করতে প্রস্তুত হননি। আর তার কারণে বনু হাশেমও তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে পারেনি। এই কারণে হতাশ হয়ে তারা ঐ চুক্তি সম্পাদন করে। গোত্রীয় ব্যবস্থায় এ সিদ্ধান্তটা ছিল অত্যন্ত মারাত্মক এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মুসলিমগণ সহ সমগ্র বনু হাশেম গোত্র অসহায় অবস্থায় ‘শিয়াবে আবূ তালিব’ নামক উপত্যকায় বন্দী হয়ে গেল।

১৩. তিন বৎসর পর নবুওয়তের দশম বৎসর মুহাররম মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বক্তব্যের সত্যতা অনুযায়ী বিশেষ অঙ্গীকার নামার অধিকাংশ পোকায় খেয়ে ফেলার পর তা ছিন্ন করার মাধ্যমে আল্লাহ পাক তাদেরকে এ বন্দী দশা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন।

১৪. গিরি সঙ্কট থেকে মুক্তি লাভের ছয় মাসের মাথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতৃব্য চাচা আবূ তালিব মৃত্যু বরণ করেন।

১৫. চাচা আবূ তালিব মৃত্যুর দু’মাস (মতান্তরে মাত্র তিন দিন) পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় সহধর্মীনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রাযিআল্লাহু আনহু) ইন্তেকাল করেন।

১৬. এমন এক পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় ইসলামের প্রসারের ব্যাপরে অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েন। হতাশ হয়ে নবুওয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসে তিনি মক্কা বাদ দিয়ে এবার ইসলাম প্রচারের জন্য তায়েফ গমন করলেন। কিন্তু সেখানে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে চূড়ান্ত অপমান, ক্রোধ ও উপহাসের শিকার হলেন।

১৭. ইতোমধ্যে মদীনার বেশকিছু লোক ইসলামের প্রতি উৎসাহী হয়ে উঠেন। এদের মধ্যে ছয়জন ইসলাম গ্রহণ করে। তারা মূলতঃ হজ্জ্ব করতে এসে ইসলামের দাওয়াত পেয়েছিল।

১৮. আকাবার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এর ফলেই মদীনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং একসময় মদীনার ১২ টি গোত্রের নেতারা একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণের মাধ্যমে রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মদীনায় আসার আমন্ত্রণ জানায়। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিরাপত্তা দানের প্রতিশ্র“তি দেন। বিশিষ্ট সিরাতকার ইবনে ইসহাক বর্ণিত, “যখন লোকজন বায়াতের জন্য সমবেত হলেন, তখন হযরত আব্বাস বিন উবাদাহ বিন নাযলাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) বললেন, তোমারা কি জানো, তোমরা তাঁর সাথে কোন্ কথার উপর বায়াত করতে যাচ্ছ? সবাই উত্তর দিলো, হ্যাঁ জানি। হযরত আব্বাস বললেন, “তোমরা লাল ও কালো লোকদের বিরুদ্ধে জান্নাতের বিনিময়ে যুদ্ধ করার ব্যাপারে তাঁর হাতে বায়াত করতে যাচ্ছ। যদি তোমাদের এ রকম ধারণা হয় যে, যখন তোমাদের ধন-স¤পদ নিঃশেষ হয়ে যাবে, তোমাদের অভিজাত নেতৃস্থানীয় লোকদের হত্যা করা হবে, তখন তোমরা তাঁর সঙ্গ ছেড়ে যাবে, তবে এখনই তাঁকে পরিত্যাগ করো। কেননা তাঁকে নিয়ে যাবার পর, যদি তোমরা তাঁকে ছেড়ে যাও তাহলে তা হবে তোমাদের ইহকাল ও পরকালের জন্য চরম বেইজ্জতির ব্যাপার।” [আর রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ১৯৫, তাওহীদ পাবলিকেশন্স]

দেখা যাচ্ছে, এ শপথ ইসলাম গ্রহণ করার শপথ ছাড়াও যুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় নিয়েও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মদীনা নিয়ে যাওয়ার শপথ ছিলো। দেখুন মুসনাদে আহমদ-এ বর্ণিত নীচের হাদিসটি-

হযরত জাবির (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত, “সমবেত ৭০ জন লোক বায়াতের জন্য উঠলে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী আসয়াদ ইবনে যুরারা (রাযিআল্লাহু আনহু) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাত ধরে বললেন, ইয়াসরিববাসী একটু থামো। আমরা তাঁর কাছে উটের বুক শুকানো দূরত্ব অতিক্রম করে এই বিশ্বাস নিয়ে এসেছি যে, তিনি আল্লাহর রাসূল। আজ তাকে মক্কা থেকে নিয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, সমগ্র আরবের সাথে শত্রুতা, তোমাদের বিশিষ্ট নেতাদের নিহত হওয়া ও তলোয়ারের ঝনঝনানি। কাজেই এসব যদি সহ্য করতে পারো তবেই তাঁকে নিয়ে যাও। তোমাদের এ কাজের বিনিময় আল্লাহর কাছে রয়েছে। আর যদি নিজের প্রাণ তোমাদের কাছে প্রিয় হয়ে থাকে, তবে তাঁকে এখানেই ছেড়ে যাও। এটা হবে আল্লাহর কাছে তোমাদের অধিক গ্রহণযোগ্য ওযর”।

১৯. এই আমন্ত্রণে মুসলিমরা মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় চলে যায়। সবশেষে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবু বকর (রাযিআল্লাহু আনহু) ৬২২ ঈসায়ী সালে মদীনায় হিজরত করেন। বর্ণিত আছে: “মদীনায় প্রবেশের পূর্বে নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুবা’তে চারদিন (সোমবার-বৃহস্পতিবার) অবস্থান করেন। আর এ সময়ের মধ্যেই মসজিদে কুবা’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এবং তাতে সালাতও আদায় করলেন। তাঁর নবুওয়ত প্রাপ্তির পর এটাই হচ্ছে সর্বপ্রথম মসজিদ যার বুনিয়াদ তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পঞ্চম দিন জুমু’আ বার তিনি আল্লাহর নির্দেশে সওয়ারীতে আরোহন করেন। তখন আবু বকর (রাযিআল্লাহু আনহু) তাঁর পিছনে আরোহনকারী ছিলেন। কুবা থেকে রওয়ানা হওয়ার আগে তিনি তাঁর মাতুল গোত্র বনু নায্যারদেরকে সংবাদ প্রেরণ করেছিলেন। ফলে তারা তরবারী ধারণ করে উপস্থিত হলেন। তিনি তাদেরকে সাথে নিয়ে মদীনা অভিমূখে রওয়ানা হলেন।” [যাদুল মা’আাদ, ২য় খন্ড, পৃ.৫৪-৫৫, সীরাতে ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ.৪৯৪; আর রাহীকুল মাখতুম, পৃ.২১৭, তাওহীদ পাবলিকেশন্স]

২০. নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের পর মুসলিমরা ক্রমান্বয়ে চারদিক থেকে এসে মদীনায় জমায়েত হচ্ছিল। পূর্বের মতোই দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ জোরদার গতিতে চলতে থাকে।

২১. মক্কা থেকে যারা হিজরত করেছিল তারা এবং মদীনার মুসলিমগণের মধ্যে খিলাফত প্রতিষ্ঠার চেতনা সৃষ্টি হয়। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদের মধ্যে বিশেষ ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করান। অতঃপর শুধু মুসলিমদের নিজেদের মধ্যে পৃথক সহযোগীতার অংগীকার করান এবং তাদেরকে “অন্য সকল মানুষ থেকে পৃথক এক মানব গোষ্ঠী বা উম্মাহ” হিসেবে অভিহিত করেন। [আর রাহীকুল মাখতুম, পৃ.২২৯-২৩১, তাওহীদ পাবলিকেশন্স]

মুসলিমদের বাইরে তিনি ইহুদীদের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হন। যাতে ০১ নং ধারায় উল্লেখ ছিলো যে, বনু আওফের ইহুদীরা মুসলিমদের সাথে মিলেমিশে একই উম্মতের মতো থাকবে। কিন্তু উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরাই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানসমূহ পালন করতে পারবে। এটা তাদের নিজেদের অধিকার হিসেবে গণ্য হবে। ঠিক তেমনিভাবে তাদের সঙ্গে যারা সম্পর্কিত তাদের এবং তাদের দাস-দাসীদের বেলায়ও গণ্য হবে। বনু আওফ ছাড়া অন্য ইহুদীদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে। তাছাড়াও ০৯ নং ধারায় উল্লেখ ছিলো: চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলো নতুন সমস্যা কিংবা ঝগড়া-ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলে আল্লাহর আইন অনুযায়ী রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মীমাংসা করবেন। [আর রাহীকুল মাখতুম, পৃ.২৩৬, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ইবনে হিসাম, ১ম খন্ড, পৃঃ ৫০৩-৫০৪]

অর্থাৎ মদীনা মুসলিমদের আয়ত্বে আসার পর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটাকে ইসলাম অনুযায়ী পরিচালনা করেন। জনগণের কোন প্রাণের দাবীর জন্য তিনি অপেক্ষা করেন নি। ইহুদীরাও মদীনার খিলাফতের অন্তর্ভূক্ত ছিলো। আর ইহুদীদের সাথে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুক্তিতে বর্তমানের অনেক আপোষকামী ইসলামপন্থীদের বিভিন্ন চুক্তির সমর্থন পাওয়া যায়না। কারণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুক্তি অনুযায়ী তিনি ছিলেন সর্বেসর্বা, ইসলাম ছিলো বিজয়ী, যে কোন ব্যাপারে মতভেদ-বিবাদ হলে আল্লাহর আইন অনুযায়ী তা মীমাংসা হতো আর বর্তমানে যে সব চুক্তি-সনদ সাক্ষরিত হয় তাতে ইসলামের/আল্লাহর আইনের কোন অংশতো থাকেই না বরং অপর পক্ষের দয়ার উপর ইসলাম পন্থীরা টিকে থাকেন। আর অধিকাংশ/সকল যৌথ সিদ্ধান্ত হয় অনৈসলামিক রীতি-নীতি অনুযায়ী, যাতে দ্বীন ইসলামের দিকে ভ্র“ক্ষেপও করা হয় না কিংবা নিজেদের খেয়াল-খুশীকেই প্রাধান্য দেয়া হয়, যার কোন বৈধতা ইসলামে নেই।

২২. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে রাষ্ট্রনায়ক করে মদীনায় একটি খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবী ওঠে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মদীনায় আসা এটাই প্রমাণ করে যে, মুসলিমরা মদীনার নেতৃত্ব নিতে এসেছেন। এটা শুধুমাত্র মদীনার জনগণের প্রাণের দাবী হয়ে থাকলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তলোয়ারসহ বনু নাযযারদেরকে মদীনায় প্রবেশ করার সময় সাথে রাখতেন না। বরং তাঁর এ ধরনের প্রবেশ এটাই প্রমাণ করে যে, জণগণের প্রাণের দাবীর পাশাপাশি (অধিকাংশ জণগণ বলতে চাইলে যে কাউকে দলীল-প্রমাণ হাজির করতে হবে) শক্তি-সামর্থের মাধ্যমে মুসলিমরা মদীনার কর্তৃত্বে আসেন। স্বভাবতই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হন, তাদের নেতা/আমীর/খলিফা।

২৩. অতঃপর মদীনার আনসার এবং মুহাজির সহ সকল স্তরের জনগণকে নিয়ে একটি ইসলামী খিলাফত গঠিত হয়। এই খিলাফতে শুধু মুসলিমরা ছিলেন না, মদীনার অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও ছিলেন। আর এটাকে হয়তো ঐ আনসার এবং মুহাজিরদের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির বিপ্লব বলা যায়, যার মাঝে জনসমর্থন ও সশস্ত্র শক্তির সমন্বয় ছিলো। সুতরাং রাসুল যেভাবে খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করেছেন আমাদেরকেও সেই পদ্ধতিতেই খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হবে।


 গণতন্ত্রের সংবিধান কি কি আইন পরিবর্তন.......
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
by........ Jafran Hasan Shurjo
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ

‘তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত(পীর), শাসক ও সংসার বিরাগীদেরকে তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়ম পুত্র ইসা মাসীহকেও। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদাত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। তারা তাঁর যে শরীক সাব্যস্ত করে, তা থেকে তিনি পবিত্র।’ [সুরা আত তাওবা, ৩১]

তিরমিযী শরীফ ও অন্যান্যের বর্ণনায় এসেছে - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতটি হাতেম তাঈ এর পুত্র আদি বিন হাতেম তাঈ রাঃ এর সামনে তেলাওয়াত করলে আদী বললেন;
"হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো তাদের ইবাদাত করতাম না।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: " যে সব হারাম বস্তুকে হালাল প্রতিপন্ন করতো, তোমরাও কি তাকে হালাল মনে করতে না? আর যে সব হালাল বস্তুকে তারা হারাম সাব্যস্ত করতো, তোমরা কি তাকে হারাম ভাবতে না?"
উত্তরে আদী বললেন: "জী, হ্যাঁ।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন: ওটাই তাদের ইবাদাত। তিরমিযী, ইবনে মাজা, ও আরো অনেকে হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন। এছাড়াও আছে ফাতহুল মাজীদ,১০৭

সুতরাং হালাল-হারাম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আল্লাহকে ছেড়ে কারো হালাল ও হারাম মেনে নিলেই তাদের ইবাদাত, যা মূলত: আল্লাহর সাথে শিরকেরই নামান্তর। আর এটা হচ্ছে বড় শিরক যা পুরোপুরি তাওহীদের পরিপন্থী। কেননা তাওহীদের অর্থ হল - আল্লাহ ছাড়া হক কোন ইলাহ নেই - এ সাক্ষ্য দেয়া। আর এ সাক্ষ্য দেয়ার অর্থই হল হালাল-হারাম নির্ধারণের অধিকার শুধু আল্লাহ তাআলার এ কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা।

আমাদের গণতন্ত্রের সংবিধান কি কি আইন পরিবর্তন করেছে তা এক নজরে দেখে নিন।

১। ইসলামঃ চুরির শাস্তি হাত কেটে দাও। গনতন্ত্রঃ ২ মাস জেল।
২। ইসলামঃ ব্যাভিচার করোনা। গণতন্ত্রঃ এই নাও লাইসেন্স আর পতিতাবৃতি/দেহব্যাবসা নাম দিয়ে চালিয়ে যাও।
৩। ইসলামঃ তোমাদের জন্য মদ হারাম করা হয়েছে। গণতন্ত্রঃ এই নাও লাইসেন্স, মাত্রা রেখে সব চলবে।
৪। ইসলামঃ ব্যাভিচারের শাস্তি পাথর মেরে হত্যা। গণতন্ত্রঃ ৭ মাস জেল, ১০ হাজার টাকা জরিমানা।
৫। ইসলামঃ বালেগ হলেই বিয়ে দিয়ে দাও। গণতন্ত্রঃ দাঁড়াও ১৮ বছর বয়স হোক, না হওয়ার পর্যন্ত ভণ্ডামি নষ্টামি করো এঞ্জয় করো।
৬। ইসলামঃ সুদ খেওনা। গণতন্ত্রঃ সুদের নাম মুনাফা রেখেছি এবার খাও।
৭। ইসলামঃ দ্বীন প্রচারের জন্য কাজ করো। গণতন্ত্রঃ কারো মুক্তচিন্তায় বাধা দিওনা।
৮। ইসলামঃ যারা আল্লাহ্‌র রাসুল কে গালি দেয় তাদের হত্যা করো। গণতন্ত্রঃ জঙ্গিবাদী কাজ করোনা।
৯। ইসলামঃ আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠা করো। গণতন্ত্রঃ সেকেলে তালিবানী আঈন চলবেনা।

তাহলে তুমি কার বান্দা হতে চাও?
কারো হারাম হালাল মানতে চাও?
আল্লাহ্‌র নাকি আব্রাহামের গণতন্ত্রের?

গণতান্ত্রিক জঙ্গিবাদ বন্ধ করুন


 >>>গণতান্ত্রিক জঙ্গিবাদ বন্ধ করুন<<< 

ক্ষমতা, অর্থ ও প্রতিপত্তির লড়াইয়ে টিকে থাকতে এদেশে নানা নামে, নানান রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছে(যদিও ওনারা বলে থাকেন জনগনের সেবা করার জন্য ওনাদের জন্ম, একথার সত্ততা কতটুকু তা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকেরই খুব ভালো ভাবে জানা আছে)। আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও ক্ষমতা, অর্থ ও প্রতিপত্তির জন্য ওনারা জোটও করতে দ্বিধা করেন না। এই যেমন, ১৪ দল, ১৮ দল... আপনারা যারা এই সব দলের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষ ভাবে (এই যেমন বড় নেতা, ছোট নেতা, পাতি নেতা, সমর্থক)জড়িত আছেন, আপনারা কি, আপনাদের দলের নয় এমন কাউকে মুসলিম(বিশ্বাসী) মনে করেন?? যদি তাই মনে করেন তবে জেনে রাখুন! আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যাক্তি মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্র উত্তোলন করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়”(বুখারি-৭০৭০, মুসলিম-৯৮)। তিনি আরও বলেন, “তোমাদের মাঝে কেউ তাঁর মুসলিম ভাইয়ের প্রতি অস্র দ্বারা যেন ইশারা না করে। কেননা হতে পারে যে তাঁর অনিচ্ছা সত্তেও শয়তান তাঁর হস্তদ্বয়ে আঘাত হানার ফলে হতাহত সংঘটিত হবে। অতঃপর সে এ অপরাধের জন্য জাহান্নামে যাবে”(বুখারি-৭০৭২, মুসলিম- ২৬১৭)।
এবার, আপনি যদি তাদের অবিশ্বাসী(কাফের) মনে করেন, তবে জেনে রাখুন!আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন, “কোন ব্যাক্তি অন্যকে পাপাচারী ও কাফির বলে সম্বোধন করবে না, যদি কেউ এরূপ করে আর সম্বোধনকৃত ব্যক্তি সেরূপ না হয়, তাহলে তাঁর এ উক্তি তাঁর(সম্বোধনকারীর) দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে”।(বুখারি-৬১০৩,৬১০৪)।
আপনারা গনতন্ত্র রক্ষার নামে এক ভাই আরেক ভাইকে আগুনে পুরিয়ে, গুলি করে, বোমা মেরে, ছুরি দিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করছেন! আপনি কি জানেন! হত্যা বা ফিতনা ছড়ানোর অপরাধ ছাড়া কোন অমুসলিমকেও হত্যা করা নিষেধ!(সূরা মায়েদা-আয়াত- ৩২)।
সব নেতা-নেত্রি, মাথামোটা কথিত বুদ্ধিজীবীদের বলছি, বন্ধ করুন এসব গণতান্ত্রিক জঙ্গিবাদ! তানাহলে ধ্বংস এজাতির অনিবার্য!


এই সব পাপ ও কুফুরি কাজের একটি অংশ আপনিও পাবেন
কারন, আপনি ভোট দিয়ে এই জালিম মুর্তাদ শাসকদের এই সব পাপ করার সুজুগ করে দিয়েছেন।

==========================

আপানর ভোট দিয়ে যে নেতা-নেত্রী নির্বাচিত হচ্ছে।
মনে রাখবেন, সেই নেতা-নেত্রীর যত ধরণের অপকর্ম রয়েছে
যেমন,
আল্লাহ্‌র আইনের পরিবর্তন করে নিজেরা আইন রচনা করা,
আল্লাহ্‌র হারামকৃত বস্তুকে হালাল করা এবং হালাল্কৃত বস্তুকে হারাম করা,
রাস্তার মোড়ে-মোড়ে মূর্তি তৈরি করা, শহীদর মিনারের নামে মূর্তি তৈরি
করা, স্মৃতি সৌধ তৈরি করা, মুজিব-জিয়ার মূর্তি তৈরি, রাজু ভাস্কর্য, শিখা
অনির্বানের নামে আগুণের পূজা করা, আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল প্রেমিক আলেম
ওলামাদের হত্যা করা, কাফের মুশরিকদের নিজদের অভিবাবক বানানো, তাদের
সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব স্থাপন করা, নির্বিচারে মানুষ হত্যা, তাদের উপর জুলুম অত্যাচার
করা, ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করা, নাস্তিক মুর্তাদের রক্ষ্যা করা আর ইসলাম ও মুসলিমদের
নিয়ে কুৎসা রচনা করা ইত্যাদি-ইত্যাদি এই সব পাপ ও কুফুরি কাজের একটি অংশ আপনিও পাবেন
কারন,
আপনি ভোট দিয়ে এই জালিম মুর্তাদ শাসকদের এই সব পাপ করার সুজুগ করে দিয়েছেন।

আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেনঃ
যে লোক সৎকাজের জন্য সুপারিশ করবে, তা থেকে সেও একটি
অংশ পাবে। আর যে লোক মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে সেও তার বোঝার একটি অংশ
পাবে। বস্তুতঃ আল্লাহ্‌ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
[ সূরা নিসাঃ ৮৫ ] 


নারী নেতৃত্বের শরয়ী বিধান


নারী নেতৃত্বের শরয়ী বিধান-(পর্ব ৩) .......................................
"হাদীসের আলোকে নারী নেতৃত্ব"
হযরত আবু বকর রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, যখন নবি কারীম সা. এর নিকট এ খবর পৌছলো যে,পারস্যবাসী কিসরার মেয়েকে তাদের রাষ্টপ্রধান বানিয়ে নিল, তখন নবি কারীম সা. ইরশাদ করেলেন- ঐ জাতি কখনো সফলকাম
হবে না যারা তাদের মহিলাকে নিজেদের রাষ্টপ্রধান বানালো।
(১)বুখারী ২/১০৫২, ১/৬৩৭,
(২)নাসায়ী ২/৩০৪
(৩)তিরমিযি ২/৫২
(৪)মুসতাদরাকে হাকিম ৪/২৯১
(৫)মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন ৪/৮৫
(৬)বায়হাকী ৩/৯০ (৭) মুসনাদে আহমদ ১৫/২৩৭

১- এ হাদীসের ব্যখ্যায় বুখারী শরীফের ব্যখ্যাকার আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি রহ. লিখেন-"ইমাম খাত্তাবি রহ. বলেন-হাদীস দ্বারা একথা প্রমানিত হয় যে,মহিলা বিচারকও হতে পারবেনা এবং রাষ্টপ্রধানও হতে পারবেনা।" (ফাতহুল বারি ৮/৬৪)
২- বুখারি শরীফের অন্য ব্যখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. লিখেন- "অর্থাত্ মহিলার জন্য বিচারক ও রাষ্টপ্রধান হওয়া জায়েয নাই (উমদাদুল কারী ৯/৫৯)
_____________:::-
জামাত প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীর নিকটও নারী নেতৃত্ব হারাম!!! বন্ধুরা ! আজ আপনাদের এক রোমান্টিক বিষয় জানাবো, তা হল. আমাদের দেশের তথাকথিত ইসলামি দল বাংলাদেশ জামাতে ইসলামি যারা বার বার খালেদার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তাদের গুরু জনাব মওদুদির নিকট কিন্তু নারী নেতৃত্ব হারাম!!! (চমকে উঠলেন না তো?) হ্যাঁ এমনই এক বোমা ফাটালেন জামাতের পাকিস্তানের সাবেক মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা কাউসার নিয়াজী সাহেব. তিনি লিখেন- মাওলানা মওদুদীর ফতোয়া ছিলো কোনো মহিলা সংসদ সদস্য হতে পারবে না. বরং মহিলা প্রার্থীকে ভোট দেয়াটাই হারাম "(বিস্তারিত দেখুন শহিদ ইউসুফ লুধিয়ানবী রহ. এর নারী নেতৃত্ব নিয়ে লেখায় (ফাতাওয়ায়ে বাইয়্যেনাত ৩/৩৯৬)
চলবে.
বাকি অংশ ৪নং পর্বে।




সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৩

গণতন্ত্রের সংবিধান কি কি আইন পরিবর্তন


اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ

‘তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত(পীর), শাসক ও সংসার বিরাগীদেরকে তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়ম পুত্র ইসা মাসীহকেও। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদাত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। তারা তাঁর যে শরীক সাব্যস্ত করে, তা থেকে তিনি পবিত্র।’ [সুরা আত তাওবা, ৩১]

তিরমিযী শরীফ ও অন্যান্যের বর্ণনায় এসেছে - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতটি হাতেম তাঈ এর পুত্র আদি বিন হাতেম তাঈ রাঃ এর সামনে তেলাওয়াত করলে আদী বললেন;
"হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো তাদের ইবাদাত করতাম না।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: " যে সব হারাম বস্তুকে হালাল প্রতিপন্ন করতো, তোমরাও কি তাকে হালাল মনে করতে না? আর যে সব হালাল বস্তুকে তারা হারাম সাব্যস্ত করতো, তোমরা কি তাকে হারাম ভাবতে না?"
উত্তরে আদী বললেন: "জী, হ্যাঁ।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন: ওটাই তাদের ইবাদাত। তিরমিযী, ইবনে মাজা, ও আরো অনেকে হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন। এছাড়াও আছে ফাতহুল মাজীদ,১০৭

সুতরাং হালাল-হারাম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আল্লাহকে ছেড়ে কারো হালাল ও হারাম মেনে নিলেই তাদের ইবাদাত, যা মূলত: আল্লাহর সাথে শিরকেরই নামান্তর। আর এটা হচ্ছে বড় শিরক যা পুরোপুরি তাওহীদের পরিপন্থী। কেননা তাওহীদের অর্থ হল - আল্লাহ ছাড়া হক কোন ইলাহ নেই - এ সাক্ষ্য দেয়া। আর এ সাক্ষ্য দেয়ার অর্থই হল হালাল-হারাম নির্ধারণের অধিকার শুধু আল্লাহ তাআলার এ কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা।

আমাদের গণতন্ত্রের সংবিধান কি কি আইন পরিবর্তন করেছে তা এক নজরে দেখে নিন।

১। ইসলামঃ চুরির শাস্তি হাত কেটে দাও। গনতন্ত্রঃ ২ মাস জেল।
২। ইসলামঃ ব্যাভিচার করোনা। গণতন্ত্রঃ এই নাও লাইসেন্স আর পতিতাবৃতি/দেহব্যাবসা নাম দিয়ে চালিয়ে যাও।
৩। ইসলামঃ তোমাদের জন্য মদ হারাম করা হয়েছে। গণতন্ত্রঃ এই নাও লাইসেন্স, মাত্রা রেখে সব চলবে।
৪। ইসলামঃ ব্যাভিচারের শাস্তি পাথর মেরে হত্যা। গণতন্ত্রঃ ৭ মাস জেল, ১০ হাজার টাকা জরিমানা।
৫। ইসলামঃ বালেগ হলেই বিয়ে দিয়ে দাও। গণতন্ত্রঃ দাঁড়াও ১৮ বছর বয়স হোক, না হওয়ার পর্যন্ত ভণ্ডামি নষ্টামি করো এঞ্জয় করো।
৬। ইসলামঃ সুদ খেওনা। গণতন্ত্রঃ সুদের নাম মুনাফা রেখেছি এবার খাও।
৭। ইসলামঃ দ্বীন প্রচারের জন্য কাজ করো। গণতন্ত্রঃ কারো মুক্তচিন্তায় বাধা দিওনা।
৮। ইসলামঃ যারা আল্লাহ্‌র রাসুল কে গালি দেয় তাদের হত্যা করো। গণতন্ত্রঃ জঙ্গিবাদী কাজ করোনা।
৯। ইসলামঃ আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠা করো। গণতন্ত্রঃ সেকেলে তালিবানী আঈন চলবেনা।

তাহলে তুমি কার বান্দা হতে চাও?
কারো হারাম হালাল মানতে চাও?
আল্লাহ্‌র নাকি আব্রাহামের গণতন্ত্রের?