কেন বাংলাদেশে দ্বীন বিজয়ী হচ্ছে না ? আমাদের পিছিয়ে পড়ার কারণ সমূহ কি কি ?
![]() ১। আমরা কি আল্লাহর বদলীর সুন্নায় পড়ে গেছি? "হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী,মহাজ্ঞানী। (আল মায়িদাহ ৫ : ৫৪) এখানে আল্লাহর প্রিয় দলের ৪ টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছেঃ খ) তারা আল্লহকে ভালোবাসবে – গ) তারা মুসলমানদের প্রতি হবে নম্র – অর্থ তাদেরকে রক্ষা করা, তাদের বিপদে উদ্ধার করার চেষ্টা করা, তাদের প্রতি সদয় হওয়া। অথচ আমাদের দৃষ্টিভংগী কুফফারদের বিভিন্ন প্রচারের মাধ্যমে এতটা সংকীর্ণ হয়ে গেছে যেঃ মুসল্মান বলতে আমরা শুধু নিজ নিজ দেশের মুসলমান বুঝে থাকি। অথচ মুসলিম ভূমিসমূহকে পার্থক্যকারী মানচিত্রে অংকিত এসব বর্ডার কখনো আল্লাহর দ্বীনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এমনকি আমরা মুসলিম উম্মাহর বর্ডারও ভালো ভাবে চিনি না। যে যার দেশের বর্ডার উল্লেখ করি। আসলে আমাদের বর্ডার হলোঃ মুসলমানদের ম্যাপ শুরু হয়েছে ইসলামিক স্পেইন থেকে, মস্কো একসময় আমাদের ম্যাপের অংশ ছিলো, কাজাখস্থান, কিরিগিস্থান, তুর্কমেনিস্থান, সিমালে তুর্কমেনিস্থান (বর্তমান চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ), ভারত, বাংলাদেশ, আরাকান, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সোমালিয়া, সুদান, মালি, আলজেরিয়া, মরক্কো। এই হলো আমাদ্বর বর্ডার। এর মাঝখানে রয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্থান, আফগানিস্থান, এবং আফ্রিকার সুদান, মিশর, লিবিয়া প্রভৃতি দেশ। ঘ) তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে – অর্থ তাদের থেকে জিযিয়া নেয়া, বছরে ১/২ বার তাদের উপর আক্রমণ পরিচালনা করা ইত্যাদি। ২। আমাদের এখানে দ্বীনের আনসার অনুপস্থিত। দ্বীন কায়েমের অন্যতম পদ্ধতি হলো হিজরত ও জিহাদ। কিন্তু যদি আনসার না থাকে তাহলে হিজরত করে মুসলমানরা যাবে কোথায়? তাই দ্বীনের আনসার থাকাও ফরজ। আল্লাহ বলেনঃ "যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই সফলকাম। তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাদের পরওয়ারদেগার স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, সেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি। "তথায় তারা থাকবে চিরদিন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে আছে মহাপুরস্কার। (সূরা আত তাওবা, ৯ :২০-২২) আল্লাহ আরো বলেছেনঃ "আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়। (আল বাকারাহ ২:২১৮) "এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী। "যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত,তারাই সফলকাম। "আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা,আপনি দয়ালু,পরম করুণাময়। (আল হাশর ৫৯ :৮-১০) "এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সেসবই দেখেন। "আর যারা কাফের তারা পারস্পরিক সহযোগী, বন্ধু। তোমরা যদি এমন ব্যবস্থা না কর, তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বিস্তার লাভ করবে এবং দেশময় বড়ই অকল্যাণ হবে। "আর যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়েছে এবং আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহায়তা করেছে, তাঁরা হলো সত্যিকার মুসলমান। তাঁদের জন্যে রয়েছে, ক্ষমা ও সম্মানজনক রুযী। (আল আনফাল ৮ :৭২-৭৪) রাসুল (সাঃ) বলেছেন, "হিজরত বন্ধ হবে না যতক্ষণ না তাওবা কবুল হয়, আর তাওবা ফিরিয়ে দেয়া হবে না যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত না হয়। (মুসনাদে আহমাদ) সুতরাং হিজরত কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। কিন্তু যদি আনসার না থাকে তাহলে হিজরত হবে কিভাবে? কার কাছে? তাই আমাদের সবার আনসার হিসেবে কাজ করার মানষিকতা তৈরী করতে হবে। শুধু হিজরত করে এই দেশ ছেড়ে চলে যাবার মানষিকতা থকলে হবে না। রাসুল (সাঃ) যখন বিভিন্ন গোত্রের কাছে নুসরত চাইতেন তখন তাকে আশ্রয় দেয়ার ও তাকে সাহায্য করার আহবান করতেন তিনি যখন বনী সায়াসায় এর কাছে গেলেনঃ তখন তারা বললোঃ আপনি আমাদেরকে কিসের দিকে আহবান করছেন, হে আরব ভাই? রাসুল (সাঃ) বলেছিলেনঃ ‘আমি আপনাদেরকে এই সাক্ষ্য এর দিকে আহবান জানাইযে আল্লাহ ছাড়া ইবাদাত লাভের যোগ্য আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। এবং তোমরা আমাকে আশ্রয় দিবে ও সাহায্য করবে”। একইভাবে মদীনার আনসাররাও রাসুল (সাঃ) কে আশ্রয় দেয়ার ও সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হজরত জাবের (রাঃ) বর্ণিত, “সমবেত ৭০ জন লোক বায়াতের জন্য উঠলে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী আসয়াদ ইবনে যুরারা (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর হাত ধরে বললেন, ইয়াসরিববাসী একটু থামো। আমরা তাঁর কাছে উটের বুক শুকানো দূরত্ব অতিক্রম করে এই বিশ্বাস নিয়ে এসেছি যে, তিনি আল্লাহর রাসুল। আজ তাকে মক্কা থেকে নিয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, সমগ্র আরবের সাথে শত্রুতা, তোমাদের বিশিষ্ট নেতাদের নিহত হওয়া ও তলোয়ারের ঝনঝনানি। কাজেই এসব যদি সহ্য করতে পারো তবেই তাঁকে নিয়ে যাও। তোমাদের এ কাজের বিনিময় আল্লাহর কাছে রয়েছে। আর যদি নিজের প্রাণ তোমাদের কাছে প্রিয় হয়ে থাকে, তবে তাঁকে এখানেই ছেড়ে যাও। এটা হবে আল্লাহর কাছে তোমাদের অধিক গ্রহণযোগ্য ওযর”। – মুসনাদে আহমদ। ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, “লোকেরা বায়াতের জন্য সমবেত হওয়ার পর হজরত আব্বাস ইবনে ওবাদা ইব্নে নাযলা (রাঃ) বললেন, তোমারা জানো, তোমরা কিসের উপর বায়াত করছো? সবাই বললো, হ্যা জানি। তোমরা তাঁর হাতে কালো ও লাল লোকদের সাথে যুদ্ধ করার বায়াত করছো। যদি তোমরা মনে করে থাকো, যখন তোমাদের ধন-সম্পদ বিনষ্ট করা হবে, তোমাদের অভিজাত নেতৃস্থানীয় লোকদের হত্যা করা হবে, তখন তোমরা তাঁকে পরিত্যাগ করবে, তবে এখনই তাঁকে পরিত্যাগ করো”। [আর রাহীকুল মাখতুম, পৃষ্টাঃ ১৭৪] এভাবে পুরো দুনিয়ার সাথে শত্রুতা করে হলেও মদীনাতে আনসাররা নিজেদের ও নিজ পরিবারের গায়ে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত মুসলমনাদেরকে রক্ষা করার জন্য তৈরী হয়ে যান। এদেশে একজন আনসারের কাজ কি কি হবে? এই দেশে একজন আনসারের কাজ হবে যেকোন ২/৩ জন মুহাজির ভাইকে নিজ ঘরে থাকার জন্য আশ্রয় দেয়া ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা। যদি কোন আনসার অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে মুহাজির ভাইদের খাবার সংস্থান করতে না পারেন, শুধু থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে সেটাও চলবে। তবে দুটোই প্রদান করতে পারলে ভালো। এক্ষেত্রে তিনি নিজে বাড়ীর মালিক হতে হবে, তা না হলে মুর্তাদদের প্রেসারে অনেক সময় বাড়ীর মালিকরা তথ্য ফাঁস করে দেয়। কিন্তু এই বাড়ী যে শহরে হতে হবে কিংবা বিল্ডিং হতে হবে, এমনটা জরুরী নয়। সেটা গ্রামেও হতে পারে, টিনের ঘরও হতে পারে। আর সাধারণত মুহাজিররা এমন এক সময় আনসারদের বাসায় চলে যাবেন, যখন মূল যুদ্ধ শুরু হবার সময়। অস্ত্র সহ তারা সেখানে অবস্থান নিবেন। তাই কোন কারণে মুর্তাদ সরকারের বাহিনী আসলেও তাদের দাত ভাংগা জবাব দেয়া যাবে। এছাড়াও বিশেষ প্রয়োজনে এখনও কোন কোন ভাই এর নিরাপত্তা সমস্যার কারণে কোন আনসারের বাড়ীতে গিয়ে থাকতে হতে পারে। মুহাজির যে শুধু বিদেশ থেকে আসবেন সেটা নয়, দেশের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়ও একজন মুসলিম মুহাজির হিসেবে চলে আসতে পারেন। তাই আনসারদেরকে দেশী ও বিদেশী উভয় ধরনের মুহাজিরদেরকে আশ্রয় দেয়া ও সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সহজেই অনুমেয়, এখন আনসারদেরকে নিজের পরিবার-পরিজনকে আল্লাহর জন্য এই রকম কুরবানী করার জন্য, কষ্ট করার জন্য মানষিক ভাবে তৈরী করতে হবে। দাওয়াহ দিতে হবে। আর আনসাররা যেহেতু নিজে গৃহকর্তা হবেন, তাই এই ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছাই হওয়া উচিত চূড়ান্ত। আনসারদের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার জন্য মূল মহাসড়ক বাদ দিয়ে ভিন্ন পথে, ভিতরের পথ দিয়ে যাওয়ার জন্য চ্যানেল চালু করা। যাতে অস্ত্র কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে ঐ সব পথ দিয়ে তারা গাইড করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে যে ৮ টা দেশে শক্তি সহ মুসলিমরা অবস্থান করছেন সে সব দেশে আনসাররা এভাবেই মুহাজিরদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। যেমনঃ ইয়েমেনে আনসার আশ শারীয়াহ, মালিতে আনসার আদ দ্বীন।___চলবে :- ম্যাপ [ গণতন্ত্রে লাত্থি মারো - শরীয়াহ কায়েম কর ] |
রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৩
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন