সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৩

গণতন্ত্রের সংবিধান কি কি আইন পরিবর্তন


اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ

‘তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত(পীর), শাসক ও সংসার বিরাগীদেরকে তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়ম পুত্র ইসা মাসীহকেও। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদাত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। তারা তাঁর যে শরীক সাব্যস্ত করে, তা থেকে তিনি পবিত্র।’ [সুরা আত তাওবা, ৩১]

তিরমিযী শরীফ ও অন্যান্যের বর্ণনায় এসেছে - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতটি হাতেম তাঈ এর পুত্র আদি বিন হাতেম তাঈ রাঃ এর সামনে তেলাওয়াত করলে আদী বললেন;
"হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো তাদের ইবাদাত করতাম না।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: " যে সব হারাম বস্তুকে হালাল প্রতিপন্ন করতো, তোমরাও কি তাকে হালাল মনে করতে না? আর যে সব হালাল বস্তুকে তারা হারাম সাব্যস্ত করতো, তোমরা কি তাকে হারাম ভাবতে না?"
উত্তরে আদী বললেন: "জী, হ্যাঁ।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন: ওটাই তাদের ইবাদাত। তিরমিযী, ইবনে মাজা, ও আরো অনেকে হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন। এছাড়াও আছে ফাতহুল মাজীদ,১০৭

সুতরাং হালাল-হারাম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আল্লাহকে ছেড়ে কারো হালাল ও হারাম মেনে নিলেই তাদের ইবাদাত, যা মূলত: আল্লাহর সাথে শিরকেরই নামান্তর। আর এটা হচ্ছে বড় শিরক যা পুরোপুরি তাওহীদের পরিপন্থী। কেননা তাওহীদের অর্থ হল - আল্লাহ ছাড়া হক কোন ইলাহ নেই - এ সাক্ষ্য দেয়া। আর এ সাক্ষ্য দেয়ার অর্থই হল হালাল-হারাম নির্ধারণের অধিকার শুধু আল্লাহ তাআলার এ কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা।

আমাদের গণতন্ত্রের সংবিধান কি কি আইন পরিবর্তন করেছে তা এক নজরে দেখে নিন।

১। ইসলামঃ চুরির শাস্তি হাত কেটে দাও। গনতন্ত্রঃ ২ মাস জেল।
২। ইসলামঃ ব্যাভিচার করোনা। গণতন্ত্রঃ এই নাও লাইসেন্স আর পতিতাবৃতি/দেহব্যাবসা নাম দিয়ে চালিয়ে যাও।
৩। ইসলামঃ তোমাদের জন্য মদ হারাম করা হয়েছে। গণতন্ত্রঃ এই নাও লাইসেন্স, মাত্রা রেখে সব চলবে।
৪। ইসলামঃ ব্যাভিচারের শাস্তি পাথর মেরে হত্যা। গণতন্ত্রঃ ৭ মাস জেল, ১০ হাজার টাকা জরিমানা।
৫। ইসলামঃ বালেগ হলেই বিয়ে দিয়ে দাও। গণতন্ত্রঃ দাঁড়াও ১৮ বছর বয়স হোক, না হওয়ার পর্যন্ত ভণ্ডামি নষ্টামি করো এঞ্জয় করো।
৬। ইসলামঃ সুদ খেওনা। গণতন্ত্রঃ সুদের নাম মুনাফা রেখেছি এবার খাও।
৭। ইসলামঃ দ্বীন প্রচারের জন্য কাজ করো। গণতন্ত্রঃ কারো মুক্তচিন্তায় বাধা দিওনা।
৮। ইসলামঃ যারা আল্লাহ্‌র রাসুল কে গালি দেয় তাদের হত্যা করো। গণতন্ত্রঃ জঙ্গিবাদী কাজ করোনা।
৯। ইসলামঃ আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠা করো। গণতন্ত্রঃ সেকেলে তালিবানী আঈন চলবেনা।

তাহলে তুমি কার বান্দা হতে চাও?
কারো হারাম হালাল মানতে চাও?
আল্লাহ্‌র নাকি আব্রাহামের গণতন্ত্রের?


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন