মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩

হানিফের হাত ধরে জামায়াত নেতা আ.লীগে


 লীগের গনতন্ত্রের আড়ালে বাকশালতন্ত্র, বিএনপির গনতন্ত্রের আড়ালে পরিবারতন্ত্র,
জামায়াতের ধর্মের নামে ব্যবসাতন্ত্র, হিফাযতের ঈমান রক্ষার নামে কুফরিতন্ত্র ,
...... সবই হারাম গনতন্ত্রের তামাশাতন্ত্র ।

কৃষ্ণের নাম বাদ দেয়ার ঘোষণায় আওয়ামীদের মাথাব্যাথা..!
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার শানে ইহানত নিয়ে মাথাব্যাথা নেই..?
খালেদা জিয়া যে গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। কারণ ‘গোপাল’ নামটি কৃষ্ণের একটি নাম। কৃষ্ণের নাম পরিবর্তন করার ঘোষণায় আওয়ামী নেতাকর্মীদের লম্ফঝম্ফ নিয়ে মনে হলো, এরাতো বিগত পাঁচবছরে তাদের যেসব নেতা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছিল তার তো কোন প্রতিবাদ করল না।



গণতন্ত্রপন্থীরা এবার কন, যে এনাদের চিনি না, এনারা মিথ্যাবাদি.... কন কন................... 'গণতন্ত্র' শব্দটাকে আমেরিকা খুব পছন্দ করে। যারা এই শব্দের উপর ঈমান আনে, আমেরিকা তার বার্তাবাহক এবং জাতিসংঘ দিয়ে ইচ্ছামত বিধান পাস করিয়ে নেয়। অথচ মুসলিমদের ইলাহ একমাত্র আল্লাহ আর ওনার বার্তাবাহক মুহাম্মাদ (স) এর কাছ থেকেই মুসলিমরা বিধান গ্রহণ করে।
 
 










চোখের স্বপ্নীল আঙিনায়'s photo.














  • কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের রোকন নওশের আলী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। গত সোমবার রাত নয়টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাটাইখানা মোড়ে শহর যুবলীগ আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের সঙ্গে করর্মদন করে তিনি যোগদান করেন।এই থেকেই বুঝা যায় জামায়াত চিন্তার দিক থেকে কতটা অধপতিত...!!






সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

গণতন্ত্র এমন এক পঙ্গু জীবনব্যবস্থা


বিজয় দিবসে গণতন্ত্রের প্রতি কয়েকটি প্রশ্ন

•• গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী আমেরিকা কি বৃটিশ থেকে গণতান্ত্রিক পন্থায় স্বাধীন হয়েছিল ?

•• অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ বৃটেন কি আমাদের ভারতবর্ষকে গণতান্ত্রিক পন্থায় দখল করেছিল ?

•• বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত কি গণতন্ত্রের ফলে স্বাধীন হয়েছিল? না ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃটেন পুরুষ শূন্যতার কারণে চলে গিয়েছিল ?
বৃটেনের পুরুষ শূন্যতা কি গণতন্ত্রের ফলে হয়েছিল ?

•• আজ যে বিজয় দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে এই বিজয় কি গণতান্ত্রিক পন্থায় হয়েছিল ?

উত্তর ঃ ০+০+০+০=০

এরমানে গণতন্ত্র এমন এক পঙ্গু জীবনব্যবস্থা যে নিজের পায়ে দাড়াতে অক্ষম । সেভাবে কীভাবে অন্যকে মুক্তি দিবে ?
অতএব আর কতদিন তার পিছে দৌড়ালে শরীয়াহ শাসন পাবো ?

--{Haneen Eldarom}--




বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৩

মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রায়নের সঙ্কট ও সম্ভাবনা


   
মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রায়নের সঙ্কট ও সম্ভাবনা

----খা ন শ রী ফু জ্জা মা ন

১৪আগস্ট ২০১৩ মুসলিম বিশ্ব দেখল মুসলিমদের রক্তে নীলনদ কীভাবে লালনদ হয়ে উঠল। কীভাবে নীলনদের ধারার সঙ্গে মুসলিম সন্ত্রাসীদের (ধর্মনিরপেক্ষ ও পশ্চিমা মোড়লদের মতে) রক্ত ধারা বয়ে গেল। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য আরও একবার মুসলিমরা এপ্রিল ফুলের মতো গণতন্ত্রের ফুলে পরিণত হলো। তিন তিনবার নির্বাচনের পরীক্ষা দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় গিয়েও মডারেট মুসলিম ব্রাদারহুড শেষ রক্ষা পেল না—বিশ্বগণতন্ত্রের মোড়ল আমেরিকা-ইসরাইলের অনুগত মিসরীয় সেনাবাহিনীর হাত থেকে। আরব বসন্তের গর্ভে জন্ম নেয়া মুরসিকে বিতাড়িত করে সেই স্বৈরশাসক মোবারককে মুক্ত করে পুরস্কৃত করা হলো। এমন ঘটনার পর মুসলিম বিশ্বের আজকের তরুণরা যদি গণতন্ত্রের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বাকি বিশ্বকে তা হাসি মুখেই গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো পন্থা ও ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার মানবিক অধিকার তরুণদের রয়েছে। সেনা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এই অভিযানে মারা গেছে ৫২৫ জন। অপরদিকে মুসলিম ব্রাদারহুড দাবি করেছে, দুই হাজার ৬০০ জন মারা গেছে। আমরা নব্বইয়ের দশকে আলজেরিয়ায় দেখেছি, ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হওয়ার পরও সেনাবাহিনী সে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং লিয়ামেন জেরুয়ালের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। লিয়ামিন জেরুয়াল তিন দশক ধরে দেশটিতে একদলীয় শাসন কায়েম করে রেখেছে। নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেয়ার ফল হিসেবে আলজেরিয়ার জনগণকে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের মুখে পড়তে হয়েছে। আলজেরিয়ার সেক্যুলার রাজনৈতিক দলগুলো মিসরের আজকের সেক্যুলার দলগুলোর মতোই সেনা শাসককে সমর্থন জানিয়েছিল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মিসরও আলজেরিয়ার পরিণতির পথে হাঁটছে। মজার ব্যাপার, আজ পশ্চিমাবিশ্ব মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রায়নের মার্কেটিং বাদ দিয়ে সেনাশাসক জেনারেল সিসির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বিখ্যাত চিন্তাবিদ ও কাউন্টার পাঞ্চ-এর লেখক ইসাম আল-আমিন তার সাম্প্রতিক একটি লেখায় লিখেছেন, ‘আলজেরিয়া ও ফিলিস্তিনের (হামাসকে) মানুষ যখন ১৯৯২ ও ২০০৬ সালে ইসলামপন্থীদের নির্বাচিত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসলামপন্থীদের বিজয়কে ভিন্ন চোখে দেখেছে। মিসরেও ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। গত দুই দশকে এটা তৃতীয় বার ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের এরূপ অবস্থান ভবিষ্যতে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে পশ্চিমাবিশ্বের ভবিষ্যত্ সম্পর্কের নির্ণায়ক হতে পারে।’
মুসলিমবিশ্বের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস:-
মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রায়নের সঙ্কট বিষয়ে জানতে চাইলে আমাদের মুসলিম বিশ্বেও রাজনৈতিক সঙ্কটের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা জরুরি। মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক ছিল উসমানিয়া খিলাফত। ১৯২৪ সাল নাগাদ মুসলিমদের রাজনৈতিক উদাসীনতা ও দীর্ঘমেয়াদি পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের কারণে ভেঙে পড়ে খিলাফত ব্যবস্থা। যে ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক ছিল সামরিক বাহিনীর সদস্য কামাল আতাতুর্ক। খিলাফতকে ভেঙ্গে তুরস্ককে সেকুলারাইজ করারও মূল নায়ক। ষড়যন্ত্র সফল হওয়া ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব লর্ড কার্জন পার্লামেন্টে সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন,‘বাস্তবতা এমন যে, তুরস্ক আজ মৃত, আর কখনো সে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। কারণ, আমরা তার নৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করে দিয়েছি, আর তার নৈতিক শক্তি ছিল খিলাফত ব্যবস্থা ও ইসলাম।’ (“The situation now is that Turkey is dead and will never rise again, because we have destroyed its moral strength, the Caliphate and Islam”.) লর্ড কার্জন সতর্ক করে বলেন, আমাদের সে সব বিষয়গুলোও ধ্বংস করতে হবে যা মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। কার্জনের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি ৬ অক্টোবর, ২০০৫ আমরা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রসচিব চার্লস ক্লার্কের হেরিটেজ ফাউন্ডেশন (British Home Secretary Charles Clarke) বক্তব্যের মাঝেও পাই। তিনি বলেন, খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শরিয়া আইন বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হতে পারে না ঐ পথে হাঁটার ব্যাপারে মুসলিমদের হুশিয়ারি করা হয়েছে।” অর্থাত্ উপরোক্ত বক্তব্য থেকে বোঝা যায় খিলাফতের পতন ছিল মুসলিম বিশ্বেও মানুষের জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট। মূলত এরপর থেকে শুরু হয় পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর মুসলিম ভূ-খণ্ড দখল ও সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা। সশস্ত্র আগ্রাসন ও অসমযুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয় এ রাষ্ট্রগুলোর উপর। নির্বিচারে শুরু হয় আবাল-বৃদ্ধা-বণিতা-যুবকদের নিষ্পেষণ, ধর্ষণ ও গণহত্যার উত্সব। আফগানিস্তান ও উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং সর্বশেষে ৯/১১ পর তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এ অঞ্চলের ঘটনা প্রবাহে নতুনমাত্রা সৃষ্টি করেছে। যাই হোক, খিলাফতের পতনের পর মুসলিম বিশ্বে সৃষ্টি হয় ‘ভ্যাকুম অব পলিটিক্যাল সিস্টেম অ্যান্ড পলিটিক্যাল লিডারশিপ’ (vaccume of political system and political leadership). ফলে শুরু হয় সামরিক শাসন, রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র ও সর্বশেষে পুতুল সরকার ব্যবস্থা। তবে, এসব ব্যবস্থার অনুকূলে পশ্চিমা পুঁজিবাদী শাসক গোষ্ঠীর প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় ও ইন্ধন ছিল। এখনও আছে। যারা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের সাম্য ও স্বাধীনতার এক অলীক ধারণা বিকিয়ে যাচ্ছে মুখরোচক আলোচনার টেবিলে।

মুসলিম বিশ্বে নির্বাচন আর গণতন্ত্র কখনও এক নয়:-

নির্বাচন হলো পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বোচ্চ সংগঠন রাষ্ট্রের নেতা খুঁজে বের করার একটি উপায়। যা একটি পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামি ব্যবস্থা তথা সব ব্যবস্থার মধ্যেই গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচনের একটি উপকরণ মাত্র। ইলেকশন কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ পরিচালনরার আদর্শ নয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিসর, ইরাক, ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের মানুষ দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক অত্যাচার ও স্বৈরাচারী শাসকদের কারণে যথার্থভাবে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ না পাওয়ায় নির্বাচনে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। গণতন্ত্র আর ইলেকশন এক নয় বলেই পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন অপশন জনগণকে দেয়া হয়নি যে জনগণ পুঁজিবাদী গণতন্ত্র চায়, নাকি সমাজতন্ত্র চায়। যে কটি মুসলিম দেশে এখন নামকাওয়াস্তে তথাকথিত গণতন্ত্র আছে সেগুলোর কোনোটিতেই গণতন্ত্র জনগণের মতামত নিয়ে আরোপ করা হয়নি। জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তা না হলে তারা জনগণের কাছে অপশন দিত যে, জনগণ কি ‘ইসলামি শাসন ব্যবস্থা’ চায়, নাকি ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ চায়। অর্থাত্ ইলেকশন আর গণতন্ত্র এক নয়। মিসরে ইসলামপন্থী সংবিধানের (আংশিক ইসলামি আইন সংবলিত সংবিধান) জন্য নির্বাচন হয়েছিল, ইসলামপন্থীরাই জিতেছিল।
আধুনিক ও বর্তমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা সবাই একমত যে, ইলেকশন অনুষ্ঠিত হলেই একটি জাতিকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। মূলত, প্রচলিত পুঁজিবাদী গণতন্ত্রেও উত্পত্তি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ থেকে। আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের থেকে উত্সারিত হয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে ব্যক্তিস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, ব্যক্তির স্বার্বভৌমত্ব তথা জনগণের স্বার্বভৌমত্ব। সর্বোপরি উদারবাদী চিন্তা-ভাবনার উন্মেষ ঘটেছে রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক জীবনেও। এসবের সম্মিলিত প্যাকেজই আজকের আধুনিক পুঁজিবাদ যা ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’, ‘বিশ্বায়নে’র মতো বিভিন্ন নতুন নতুন নামে বিশ্বব্যবস্থায় বাজারজাতকরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিস্বাধীনতার দর্শন থেকে যে হোমোসেক্সচুয়ালিটি, এডালট্রি, পর্নোগ্রাফি ও মদ্যপানের সংস্কৃতি পশ্চিমে গড়ে উঠেছে এর প্রত্যেকটি বিশ্বাসই ইসলাম ও মুসলিমদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভিন্ন বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির ধারক মুসলিমরা তাদের আদর্শে অনড় ও শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী। ইরাক অথবা আফগানিস্তানের মানুষ কখনোই বিশ্বাস করে না পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে। ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির সংঘাত আজ মুসলিমসহ সারা বিশ্বে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এছাড়া মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রের সফলতার কথা তুললে অনেকেই মালয়েশিয়া ও তুরস্কের কথা উল্লেখ করে। এক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার উন্নতি হয়েছে মূলত মাহাথির মুহম্মদের এক ধরনের এক নায়কত্বের শাসনামলে। বাকি থাকল তুরস্ক। সেখানের সেকুলাইজেশন প্রজেক্টও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেনি। গত প্রায় এক দশক সেখানেও ইসলামপন্থীরাই ক্ষমতায় আছে। এই এ.কে পার্টির বিরুদ্ধে সেখানের সেকুলাররা প্রায়ই দাবি তোলে, দলটি নাকি আবার উসমানীয় ঢংয়ের শাসন ব্যবস্থা আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আর দেশ দুটির সংবিধান ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও পশ্চিমা সেকুলার আদর্শ ও সংস্কৃতির গণতন্ত্রের কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ পাওয়া যায় না। ইরাক-আফগানিস্তানে ও আমেরিকা গণতান্ত্রিক শাসন চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে সেখানে সুশাসন আনতে পুরোপুরি ব্যর্থ। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসও ভালো কিছু নয়। তাই মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রায়নের ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কা যে কোনো ইতিহাস সচেতন মানুষেরই আছে। আমেরিকান বিশিষ্ট নীতি-নির্ধারক ও বর্তমান বিশ্বের প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এইচ পি হান্টিংটন তার ‘দ্য ক্লাস অফ সিভিলাইজেশন’ থিসিসের মধ্যে বলেছেন, ‘সভ্যতাসমূহের দ্বন্দ্ব ভবিষ্যত্ বিশ্বরাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করবে। সভ্যতাসমূহের বিভেদ রেখাই ভবিষ্যত্ সংঘাতের পথ বাতলে দেবে। আর এ সভ্যতাসমূহের বিভেদরেখাই পশ্চিমা ও ইসলামি সভ্যতার মধ্যে ১৩০০ বছরের দ্বন্দ্বের ইতিহাস গড়ে তুলেছে।’ মুসলিমদের তথা ইসলামের জীবনাদর্শ যে পশ্চিমা পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অনুকূলে নয় এ সত্য উপলব্ধি করেই কি আমেরিকান সাবেক রাষ্ট্রপতি নিক্সন তার ‘ভিক্ট্রি উইদাউট ওয়ার’ বইয়ের মধ্যে বলেছেন, ‘সাম্যবাদী ও ইসলামি বিপ্লবী উভয়ই আমাদের আদর্শিক শত্রু। যাদের উদ্দেশ্যও অভিন্ন। তারা তাদের আদর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি ব্যবহার করে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় যা কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এইচ পি হান্টিংটন তার ‘ক্লাস অফ সিভিলাইজেশন অ্যান্ড রিমেকিং দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়ার্ডা বইয়ের মধ্যে খোলসা করেই বলেছেন, ‘ইসলামি মৌলবাদ পাশ্চাত্যের জন্য কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যা নয়। ‘ইসলাম’ই সমস্যার মূল কারণ। এটা এক স্বতন্ত্র সভ্যতা, যার আওতাভুক্ত মানবমণ্ডলী তাদের সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাসী এবং তারা ক্ষমতার দিক দিয়ে পিছিয়ে বিধায় আবেগ আক্রান্ত (পৃ-১০৯-১১০)।

মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি পশ্চিমা পুঁজিবাদীদের স্বার্থবিরোধী:-

পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর মুসলিম বিশ্বের স্বৈরশাসকদের ক্ষমতায় নিয়ে আসা ও তাদের সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে মসনদে টিকিয়ে রাখার বিষয়গুলো আজ বুঝতে আর কারও বাকি নেই। ওসমানিয় খিলাফতের পতনের পর মুসলিম ভূ-খণ্ডগুলো থেকে সম্পদ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্রিটিশ-ফ্রান্স-আমেরিকা কখনও স্বৈরশাসক আবার কখনও সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। মুসলিম বিশ্বের স্বৈরশাসকদের সঙ্গে আমেরিকার দহরম-মহরম সম্পর্কের কথা কারও না জানা নেই। জামাল আব্দুল নাসের, ইসলাম কারিমভ, হোসনে জাইম, করিম কাসেম, হাফিজ আল আসাদ, জেনারেল সুহার্তো, সাদ্দাম, সৌদ বংশের শাসকগণ, গাদ্দাফি, মোবারক, আইয়ুব খান, জিয়াউল হক, মোশাররফদের মতো বর্তমান ও সাবেক স্বৈরশাসকরা আমেরিকা-ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে টিকে আছে, টিকে ছিল। তেল সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আনায় ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জনপ্রিয় মোসাদ্দেক সরকারকে হটিয়ে রেজা শাহ পাহলভীকে ক্ষমতায় বসায়। অনুগত স্বৈরশাসক রেজা শাহ পাহলভীর শাসনামলে সামরিক বাহিনীর উন্নয়নের নামে আমেরিকা বাত্সরিক ত্রিশ মিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদান করত। ১৯৯৫ সালে ক্লিনটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একজন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসে ইন্দোনেশিয়ার স্বৈরশাসক জেনারেল সুহার্তোকে ‘আওয়ার কাইন্ড অফ গাই’ হিসেবে সম্বোধন করেন। এতে সুস্পষ্ট হয়, ইন্দোনেশিয়ায় তার আমলের গণহত্যা, জুলুম ও স্বৈরশাসনের প্রতি আমেরিকার নগ্ন সমর্থন ছিল। সাদ্দাম হোসেনের ঘটনাও ব্যতিক্রম কিছু নয়। তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, ইরান, সিরিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির ঘটনা প্রবাহ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, এ দেশগুলোর স্বৈরশাসকদের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করা আমেরিকা-ব্রিটেনের লক্ষ্য নয়।

গণতন্ত্র নিয়ে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে মতভেদ:-

কিছু বড় ইসলামি দল রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তাই বিশ্বে ও বহু দেশে তাদের শাখা বা সংগঠন থাকা সত্ত্বেও তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না। মুসলিম বিশ্বেও সুন্নি মতবাদে বিশ্বাসী সবগুলোর কোনোটিই ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। যে দলগুলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তারা নির্বাচনকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহণে একটি মাধ্যম বা হিকমা হিসেবে মনে করে। সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক দলের একটি সম্প্রতি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মুসলিম ব্রাদার হুড ও আরেকটি হলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অবিশ্বাসী হিযবুত তাহরির। সালাফিপন্থী বা বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া-পাকিস্তানে আহলে হাদিস হিসেবে পরিচিত আছে কিছু দল। এই আহলে হাদিসপন্থী অধিকাংশ দলগুলোও গণতন্ত্রকে একটি কুফরি মতবাদ মনে করে। আল কায়দার মতো সশস্ত্র দলগুলোকে আলোচনায় আনলেও বলতে হয়—এগুলোর অধিকাংশ গণতন্ত্রকে মুসলিমদের জন্য হারাম মনে করে। এছাড়া সাধারণ ধার্মিক মুসলিমদের প্রায় ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ খুলাফায়ে রাশিদার শাসন ব্যবস্থাকে সর্বশ্রেষ্ঠ শাসন ব্যবস্থার মডেল হিসেবে মনে করেন। হযরত মুহম্মদ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী খিলাফত ব্যবস্থা আবার ফিরে আসবে। মুসনাদে আহমদ শরিফের সহি হাদিস- ‘—- আবার খিলাফত ফিরে আসবে নবুয়্যতের আদলে।’ বিশ্বব্যবস্থায় ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাস দেখতে গেলেও তা কোনোভাবেই উমাইয়া, আব্বাসীয় ও উসমানীয় খিলাফতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে নয়। ইসলামের প্রকৃত রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো খিলাফত আমলের রাজনীতি বা খুলাফায়ে রাশিদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রীয় মডেল (তাফসির ইবনে কাসির, ১০ম খণ্ড)। পশ্চিমা গ্রিকীয় গণতন্ত্র বা আইন প্রণয়নে মানুষের সার্বভৌমত্বের গণতন্ত্র পশ্চিমা বিশ্বে রাসুল ও তার সাহাবি, তাবেয়ি ও তাবেতাবেইনদের সময়েও বিদ্যমান ছিল। কিন্তু, ওই আদর্শ তারা কখনো রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার নীতি বা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেননি। তবে জনগণের প্রতিনিধি নির্ধারণের জন্য নির্বাচন বা মনোনয়ন দুইই ইসলাম অনুমোদন দেয়। কিন্তু, রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের অনুমোদন ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাসে পাওয়া যায় না। কারণ, সাহাবিরা ও পরবর্তী খলিফাগণ জানতেন ইসলামি ব্যবস্থাকে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা হিসেবে প্রেরণ করেছেন। সর্বশেষ খিলাফত ব্যবস্থা উসমানীয় খিলাফতও টিকে ছিল আধুনিক গণতন্ত্রের জয়জয়কারের মধ্যে। ১৯২০ সালে এর ভাঙ্গনের প্রান্ত বেলায়ও উসমানীয় খিলাফতের খলিফা ব্রিটেন-ফ্রান্সের চাপের মুখেও গণতন্ত্র বাস্তবায়নে নারাজ ছিলেন। ১৯২০ সালে উসমানীয় খিলাফত ব্যবস্থাকে ভেঙে দেয়ায় ব্রিটেনের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ খিলাফত আন্দোলন করেছে। তাই প্রায় সব সুন্নিপন্থীই দল খিলাফত প্রতিষ্ঠার রাজনীতিকে ইসলামি মূল ধারার রাজনীতি মনে করে। গণতন্ত্র যেমন কোনো দলের বিষয় নয়, খিলাফত ব্যবস্থাও কোনো ব্যক্তি বা একটি ইসলামি দলের বিষয় নয়।
আরব বিশ্বে মুসলিম তরুণরা স্বৈরতন্ত্রের জিঞ্জির হতে মুক্তির জন্য যে বিপ্লবের সূচনা করেছিল সে মুক্তির স্বপ্ন ভঙ্গ হলে তারা চরমপন্থার দিকে পা বাড়াতে পারে। ব্রাদারহুড তথা মুসলিমবিশ্বের অন্যান্য ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সামনেও বড় প্রশ্ন থাকবে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নির্বাচন কী তাদের ইসলামি সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী? নাকি পশ্চিমা সেকুলার পুঁজিবাদী বিশ্ব চায়, ইসলামপন্থীরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করুক কিন্তু সরকার বা রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের ইসলামি আদর্শ যেন বাস্তবায়ন না করে। হাজার বছরের ক্রুসেডের বারংবার যুদ্ধ ও পরাজয়ের ইতিহাসও হয়তো পশ্চিমারা ভুলতে পারে না। তাদের ধারণা সেকুলার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র ধর্মভিত্তিক মুসলিম সমাজে হয়তো মানিয়ে উঠতে পারবে না। তাই মুসলিমবিশ্বের ১৪০০ বছরের ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নিরিক্ষে পশ্চিমারা হয়তো ইসলামপন্থী দলগুলোকে সমর্থন দিতে সংকোচবোধ করে। ঐতিহাসিক ও আদর্শিক এ দ্বন্দ্বের অভিজ্ঞতা মনে হয় ইসলাম ও পুঁজিবাদী সেকুলার গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ সম্পর্কের রূপ নির্ধারণ করবে।

লেখক : লেখক ও মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিবিষয়ক এমফিল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
shoheldu412@gmail.com
Amardesh        
আজঃঢাকা, বুধবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০ ভাদ্র ১৪২০, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা

http://www.amardeshonline.com/pages/printnews/2013/09/04/214965


সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৩

ইসলাম ও গণতন্ত্র – কিছু মৌলিক পার্থক্য




ইসলাম ও গণতন্ত্র – কিছু মৌলিক পার্থক্য

গণতন্ত্র:

১) গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি ‘জনমত’ তথা জনগণের ইচ্ছা।
২) সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছার প্রতি আত্মসমর্পণের নাম ‘গণতন্ত্র’।

৩) সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ।

৪) সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ।
৫) মানব রচিত সংবিধানেই রয়েছে মানবতার মুক্তি।
৬) মত প্রকাশে, ভোট দানে ও নির্বাচনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ,সৎ-অসৎ নির্বিশেষে মূর্খ-জ্ঞানী, যোগ্য-অযোগ্য সকলের সমান অধিকার স্বীকৃত।

৭) উত্তরাধিকার ও নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ই সমান বিবেচিত।

৮) নারী ও সংখ্যালঘুরা সাধারণ সম অধিকার ভোগ করবে।

৯) পরমত সহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের এক বিশেষ আদর্শ। নৈতিকতার কোন বালাই নেই গণতন্ত্রে। যেমন: জরায়ুর স্বাধীনতা, মায়ের গর্ভে শিশু হত্যা বা সমকামিতা, পতিতাবৃত্তি, মদ, পরকীয়া, সুদ ইত্যাদি কোন মতামতকেই বর্জন করতে বাধ্য নয় গণতন্ত্র।
১০) সংখ্যা গরিষ্ঠের সমর্থন সকল বৈধতার মানদন্ড।
১১) জাগতিক ও দুনিয়ার উন্নয়নেই সকল চেতনা সীমিত; এই অর্থে প্রগতি।

১২) কাগজে কলমে জবাবদিহিমূলক সরকার পদ্ধতি; বাস্তবে নির্বাচিত ও নিয়মতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র, সরকার নিজের স্বার্থ সাধনের জন্যে যেকোন সময়ে যেকোন আইন প্রণয়ন ও পরিবর্তন করতে পারে। ফলে সমাজে অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা আসে।

১৩) মানব রচিত আইন দ্বারা বিচার কার্য নিয়ন্ত্রিত।

১৪) মানব রচিত সংবিধান কর্তৃক মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত।

১৫) জীবনের সর্বস্তরে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচায়ক।

১৬) গণতান্ত্রিক বিশ্বাসে ধর্ম অবশ্যই রাজনীতি বিবর্জিত। মানব রচিত সংবিধান ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ কাজেই অনেক কিছুই এর আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে নিত্য নতুন আইন প্রণয়নের কোন শেষ নেই।

১৭) গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারীদল ও বিরোধীদল নামে একাধিক দলের জন্ম দিয়ে একটি রাষ্ট্রের জনগণকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেয় এবং তারা যথাক্রমে ক্ষমতা ধরে রাখা ও ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্যে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়ন বিনষ্ট করে।
১৮) গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধীদল ও অপরাপর দল তাদের দাবী-দাওয়া আদায়ের জন্য হরতাল, মিছিল, রাজপথ অবরোধ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ড যা একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায় তার অনুমোদন দেয়



ইসলাম:
১) ইসলামের মূল ভিত্তি আল্লাহর ইচ্ছা।
২) আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি আত্মসমর্পণের নাম ইসলাম।
৩) সকল ক্ষমতার উৎস আল্লাহ।

৪) সার্বভৌমত্বের মালিক আল্লাহ।
৫) আল্লাহ প্রদত্ত সংবিধানেই রয়েছে মানবতার মুক্তি।
৬) মানুষ হিসেবে সকলেই সাধারণভাবে এসব অধিকার ভোগ করবে। কিন্তু যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ও তাকওয়ার ভিত্তিতে গুণীজনেরা বিশেষভাবে মুল্যায়িত হবেন।

৭) উত্তরাধিকার ও নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরষে ন্যায্য বন্টন বিদ্যমান।

৮) শক্তি ও মেধায় তারতম্যের কারণে নারী ও সংখ্যালঘুরা সংরক্ষণ নীতির অধীনে ভোগ করবে বিশেষ অধিকার।

৯) শাশ্বত আদর্শ ও নৈতিক মানসম্পন্ন কার্যক্রম সমাদৃত। অনৈতিক সবকিছু ইসলামে বর্জণীয়।

১০) শাশ্বত বা ওহীর বিধান সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন ছাড়াই বৈধ।

১১) জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উভয় ক্ষেত্রে চেতনা পরিব্যপ্ত, এই অর্থে প্রগতি।

১২) চরম জবাবদিহিমূলক সরকার পদ্ধতি, আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ও অপরিবর্তনীয় আইন বলে কেউ নিজের স্বার্থে এক চুল পরিমাণ কিছু পরিবর্তন করতে পারে না।

১৩) আল্লাহ প্রদত্ত আইন দ্বারা বিচারকার্য নিয়ন্ত্রিত (“যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের”-মায়িদা ৪৪)

১৪) ওহীর বিধান কর্তৃক মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত।
১৫) জীবনের সর্বস্তরে আল্লাহর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোই ইসলামী মূল্যবোধের পরিচায়ক।

১৬) ইসলামী বিশ্বাসে মানুষের প্রথম উপাধি খলীফা প্রতিনিধি,কাজেই ইসলাম ও রাজনীতি অবিচ্ছেদ্য।ইসলাম জীবনের পূর্ণাংগ বিধান, তাই সবকিছুই এর অন্তর্গত।

১৭) ইসলামী রাষ্ট্রের সকল মুসলিমের উপর ফরয দায়িত্ব হচ্ছে এই যে কোন অবস্থাতেই মুসলিম ঐক্য ব্যাহত করা যাবে না। মুসলিম ঐক্য ব্যাহত করা হারাম এবং শাস্তিদায়ক ।

১৮) ইসলামী রাষ্ট্রের সকল বৈধ দাবী ও অধিকার আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ আলোচনা এবং সবর ও ধৈর্য্যের নির্দেশ দান করে। কোন অবস্থায় ইসলামী রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাধাপ্রদান ও ক্ষতিকর কর্মকান্ডের অনুমোদন দেয় না।
 
  







আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার নাম গনতন্ত



[[Democracy]]গনতন্তকে,
স্বাধারন ভাবে আমরা অনুভব
করি,দেশের জনগন এই
মতবাদে সম্পূর্ন স্বাধীনতা পায়।
কিন্তু আল্লাহ
সম্পূর্ন স্বাধীনতা একটা মানুষকে দেয়না।
বরঞ্চ আল্লাহ স্বাধীনতাকে খর্ব
করেছে। যেমন ছোট বেলায়
ইলমে দ্বীন শিক্ষা, সাবলক
হওয়ার সাথে সাথে নামাযের
জন্য মা বাবার উপর তার সন্তানকে চাপ প্রোয়গ করা,
এবং স্ত্রী অবাধ্য
হলে স্বামীকে শেষ পর্যন্ত
প্রহার করার অনুমতি,
এবং পিতা মাতার ক্ষেত্রে বিরুপ
হয়ে, উহ শব্দ টুকু উচ্চরন করতে, আল্লাহ সন্তানদের নিষেধ
করেছেন।পর্যায় ক্রমে মানুষ
কখনো স্বাধীন নয় আল্লাহর বাধ্য
বাধকতা থেকে। ®গভীর ভাবে কেউ যদি গনতন্তের
আইন গুলি বিশ্লেসন
করে দেখে,তাহলে আল্লাহর
বিরুদ্ধে
যুদ্ধ ঘোষনার নামই হল গনতন্ত,
সম্পূর্ন ইসলাম বিরোধী ভিন্য এক মতবাদের নাম গনতন্ত। গনতন্তের প্রতিষ্ঠাতা আব্রাহাম
লিঙ্কন ১৮০৯ সালের ১২
ফেব্রয়ারী জন্ম গ্রহন করেন
এবং ১৬ তম
রাস্টপতি হিসেবে ১৮৬১
সালে রিপাবলিকান দলের হয়ে, আমিরিকার ক্ষমতা গ্রহন করেন।
এবং উইলক্স বুথের
হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৮৬৫
সালের ১৫ এপ্রিলে নিহত হন।
[সংক্ষিপ্ত] ® এই গনতন্তের এক
প্রতিচ্ছবী আমাদের দেশের
সংবিধান, ১৯৭২ সালে,
নভেম্বরের ৪ তারিখে এই
সংবিধান ডঃ কামালের
তত্বাবধানে প্রনীত হয়। এবং ঐ বছর ১৬ ডিসেম্বর
হতে সংবিধানটি এই
দেশে কার্যকর হয়। সেই সংবিধানের ৭/ ক এর ১ম
অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
প্রজাতন্তের সকল ক্ষমতার মালিক
জনগন, এবং জনগনের পক্ষে সেই
ক্ষমতার প্রোয়োগ কেবল এই
সংবিধানের অধীনে কার্যকর হইবে।
® আল্লাহ সূরাহ বাকারার ১৬৫
নং আয়াতে বলেছেন, সকল ক্ষমতার
উত্স আল্লাহ।[সংক্ষিপ্ত] সংবিধানের ৭/ক এর ২ম
অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনগনের
অভিপ্রায়ের পরম
অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান
প্রজাতন্তের সর্বোচ্চ আইন,
যদি অন্য কোন আইন এই সংবিধানের সহীত অসমন্জস হয়
তাহলে ঐ অসমন্জস পূর্ন আইন,
ততখানিই বাতিল বলে গন্যহইবে।
[যদি কোরআনের বাধা দেয়] ®আল্লাহ সূরাহ ইউসূফের ৪০নং
আয়াতে বলেছেন, বিধান দিবার
অধিকার কেবল আল্লাহরই।
[সংক্ষিপ্ত] এবং সূরাহ আল
ইমরানের ২৬নং আয়াতে আল্লাহ
বলেছেন, বলহে সার্বভৌমত্বের মালিক আল্লাহ[সংক্ষিপ্ত] এই সংবিধান সুদকে হালাল
করেছে
®আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন।
দেখুন সূরাহ বাকারার ২৭৫
নং আয়াত। এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। যারা ইসলামী রাজনীতি করছে আবার
দুই নারীর সাথে জোট বেধেছে,
তারা কি এই সংবিধানের
কুফরী বিধান গুলি জানেনা ??
হ্যাঁ অবশ্যই জানে, ®
তারা জানে বিধায় তো ইসলামকে ক্ষমতায় নেয়ার
জন্য, ইসলামী রাজনীতি করছে।
তাহলে তারা কেন ঐ
কুফরী সংবিধান দিয়ে, যারা দেশ
চালায়, তাদের সাথে বার বার
জোট করছে ?? খুবই সহজ উঃ শুধুই ক্ষমতার স্বাধ পাওয়ারজন্য। কারন আজ তারা সংগ্রাম
করতেছেন খালেদাকে প্রধান
মন্ত্রী বানানোর জন্য, কিন্তু
খালেদা প্রধান মন্ত্রী হয়ে তো ঐ
কুফরি সংবিধান দিয়েই দেশ
চালাবেন, তাহলে ঐ ইসলাম নামের দল গুলি, আল্লাহর
বিরুদ্ধে তৈরী করা ঐ
কুফরি মতবাদকে পরোক্ষ
ভাবে সাহায্য করলেন। তাই
আল্লাহর বিরুদ্ধ
মতবাদকে সাহায্য করে ইসলামী রাজনীতি করলে,
তাতে ইবাদত তো হবেইনা বরঞ্চ
গুনাহ হবে।
দেখুন তাগুত, মোনাফেকদের
সাথে সম্পর্ক রাখা ও সাহায্য
করার ব্যপারে আল্লাহ কি বলেছেন, তওবা ২৩/৭৩ ফুরকান
৫২/ নিসা ৭৬/১০৫
এবং কড়া হুশিয়ারী উচ্চরন
করেছেন আল ইমরানের
২৮নং এবং মায়িদাহর ৪৪/
আয়াতে। এবার আসেন
যারা বর্তমানে রাজপথে মৃত্যু
বরন করতেছে তারা কি শহীদ ???
না তারা শহীদ নয়। কারন যারা এখন
রাজপথে সংগ্রাম করতেছে ঠিকই,
কিন্তু দেশে নির্বাচন
হয়ে যাওয়ার পর, যখন
খালেদা প্রধান
মন্ত্রী হয়ে যাবে। তারপর তারা একদিনের জন্য ও হরতাল,
অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলের মত
কর্মসূচী দিবেনা।
তাহলে তাদের বর্তমান
কর্মসূচী একমাত্র
খালেদাকে প্রধান মন্ত্রী বানানোর জন্য। এরপর যদি আপনারা বলেন জালিম
সরকারের বিরুদ্ধে আল্লাহ
সংগ্রাম করতে বলেছেন।
সূরাহ নিসার ৭৫/নং আয়াতে এটাও ভূল প্রোপাগান্ডা,
কয়েক বছর আগে বর্তমান
আঠারো দলীয় জোটের শরীক দল
গুলি,এই খালেদা জালিমের
বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।এখন
তারাই জালিম হাসিনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতেছে। তাই রাজপথে স্বার্থের জন্য কেউ
সংগ্রাম করে মৃত্যু বরন করিলে,
তা হবে পরস্পর হত্যা। [কেউ
কাউকে হত্যা করলে সে যেন
পৃথিবীর সব মানুষকে হত্যা করলো]
মায়িদাহ ৩২/নং আয়াত। [সংক্ষিপ্ত] যদি তাদের
কথা অনুযায়ী আওয়ামীলীগ ও
ছাত্রলীগের লোকদের
মারাকে জিহাদের অংশ
ধরা নেয়া হয় ও। তাহলে ও
তারা এই সমাজে অপরাধী। কারন আল্লাহ যেখানেই জেহাদের
কথা বলেছেন,
সাথে সাথে সীমালংঘন
করতে নিষেধ করেছেন।
সীমালংঘন কারীকে আল্লাহ ভাল
বাসেন না। তাহলে পথচারী, ড্রাইভার,
রিকশা শ্রমীক ট্রেনে ও
বাসে আগুন
দিয়ে পুড়িয়ে এরা অবশ্যই নিরিহ
লোক ? এদের উপর আক্রমন
করা কি সীমালংঘন নয় ??? এবং রাজপথে ককটেল
ফুটানো গাড়ি ভাংঙ্গা মানুষ
পোড়ানো এই গুলি জিহাদ নয় বরঞ্চ
আল্লাহ এর বিরুদ্ধে কোরআনের
আয়াত নাযিল করেছেন।
[ফেত্না সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও জগন্য অপরাধ] বাকারা ১৯১/
নং আয়াত।এবং জালিম ব্যতীত আর
কাউকে আক্রমন করতে নিষেন
করেছেন। বাকারা ১৯৩/
নং আয়াত হ্যাঁ যদি আপনাদের
রাজনীতিটাকে ইবাদত ও
মৃত্যুকে শহীদি রূপ
দিতে হলে আগে আপনাদের গন্তব্য
ক্লিয়ার
এবং জরানো আগাছা পরিস্কার করতে হবে।তার পর
রাজপথে সংগ্রাম করলে ইবাদত ও
মৃত্যু বরন শহীদ উপাধী পাবে। জিহাদের বড় শর্তই হলো জিহাদ
ফি সাবিলিল্লাহ। আল্লাহর
পথে সংগ্রাম করা, জিহাদের
নামে সীমালংঘন না করা।
সীমালংঘন কারীকে আল্লাহ
ভালবাসেন না। বাকারা ১৯০ নং আয়াত।
WrittenBy@ Asaduzzaman
Khokon

মুতিপূঁজা ও গনতন্ত্র...
হিন্দুরা যেমন নিজেরাই
মাটি দিয়ে মুর্তি তৈরী করে নিজেরাই
সেগুলোর দাসত্ব করে আবার সময়
হলে নিজেরাই মুর্তির পাছায়
লাথি দিয়ে পানিতে ফেলে দেয়।
গনতান্ত্রিক মুশরিকগন নিজেরাই
ভোট দিয়ে তাগুত শাসক (মিথ্যা রব)
নির্বাচন করে, নিজেরাই এগুলোর
দাসত্ব করে আবার ৫ বছর পর পর
নিজেরাই ঐ ভন্ড রবকে পাছায়
লাথি মেরে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দেয়।
কি অদ্ভুদ মিল...!


 

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

ইসলামী রাষ্ট্র-ব্যবস্থা


ইসলামী রাষ্ট্র-ব্যবস্থা



ইসলামী রাষ্ট্র আমাদের প্রাণের দাবী।

ইসলামী হুকুমাত কায়েমের জন্য মৌলিক দুটি জিনিস দরকার।
১) কিতাবুল্লাহ (কুরআন শরীফ ও তার ব্যাখ্যা হিসেবে রাসূলুল্লাহ صلي الله عليه و سلم এর হাদীস শরীফ)
২) রিজালুল্লাহ (নিঃস্বার্থ, খোদাভীরু ও পরহেযগার আলেমে দীন। যিনি বিশুদ্ধভাবে পূর্ণ কিতাবুল্লাহর জ্ঞান রাখেন।)
আর এ শব্দদুটিকে রাজনৈতিক পরিভাষায় পর্যায়ক্রমে 'নীতি' ও 'নেতা' বল হয়। সুতরাং ইসলামী হুকুমাত কায়েমের স্বপ্ন বাস্তুবায়ন করতে চাইলে প্রথমে নীতির পরিবর্তন করতে হবে, অর্থাৎ সকল নীতির উর্দ্ধে কিতাবুল্লাহকে স্থান দিতে হবে। আর এই কাজটির জন্যই রিজালুল্লাহর প্রয়োজন, অর্থাৎ সুযোগ্য খোদাভীরু নির্লৌভ নিঃস্বার্থ নেতার প্রয়োজন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে "নেতার পরিবর্তন চাই" স্লোগানটি ভালো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিছক স্লোগানে কি কোন কিছু সাধন সম্ভব? বরং বুদ্ধিমানের কাজ হলো, এহেন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও সুচতুরতার সাথে নিজেকে সর্বাঙ্গিক যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা, যেন আসমানে (আল্লাহর কাছে) ও জমিনে (সর্বসাধারণের নিকট) আমি আস্থাভাজন ও সমাদৃত এবং খিলাফাতের হাল ধরার মত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার যোগ্য হতে পারি। নতুবা নিষ্ফল অতীতের মত ভবিষ্যতও অভিশপ্ত হয়ে উঠবে।
আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, ইসলামী হুকুমাত কায়েম করার জন্য একমাত্র সীরাতুন্নাবী ও হায়াতুস সাহাবাকেই পূর্নাঙ্গ অনুসরণ করতে হবে। ইসলাম খুবই ঈর্ষাপরায়ণ। অন্য কারো নীতি-আদর্শকে ঋণ করে সে কায়েম হতে রাজী নয়। তাই যুগযুগান্তরের ইতিহাসে কোন বিকল্পধারায় ইসলামী হুকুমাত কায়েমের নজীর নেই এবং ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না। সকল নীতি-আদর্শের উর্দ্ধে ইসলামের উদাহরণ হলো সুগন্ধির ন্যায়, যা কোন অপবিত্র স্থান থেকে অনুভব করা যায় না। যদি "মলমূত্র"কে ঘাটলে সুগন্ধি পাওয়া যেত তাহলে গণতন্ত্রের মধ্যে ইসলাম পাওয়ার সম্ভাবনাও ভাবা যেত। কিন্তু প্রথম বিষয়টি বিপরীত হওয়ায় দ্বিতীয়টিও অস্তিত্বহীন। তাই বর্তমান সকল তন্ত্রমন্ত্রের গায়ে লাথি মেরে কুরআনকে যদি বুকে আঁকড়ে ধরে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে অনুসরণ করতে শুরু করি তাহলেই সয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামী হুকুমাত কায়েম হয়ে যাবে।
কারণ, ব্যক্তি ঠিক না হলে সমাজ ঠিক হবে না আর সমাজ ঠিক না হলে রাষ্ট্রও ঠিক হবে না। আর রাসূলুল্লাহও সর্বপ্রথম সাহাবায়ে কেরামকে তৈরী করেছেন তারপর তাদেরকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদে দায়িত্ব দিয়েছেন।
অতএব, আমাদের মধ্যে অন্তত একজন ব্যক্তিতো এমন থাকা উচিৎ অথবা না থাকলে তৈরী হওয়া প্রয়োজন, যিনি খেলাফত চালানোর জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে সুযোগ্য নির্বাচিত হবেন। আছে কি এমন কেউ? আল্লাহ তো কোন অপদার্থের হাতে তার খিলাফাত দিবেন না। অতএব যদি থিলাফাত প্রতিষ্ঠা করতে চাই তাহলে সূরা নূরের ৫৫ নং আয়াতটির মর্মার্থ অনুধাবন করার দাবী রাখে।
আপনারা কী বলেন? আমাকে একটু মতামত দিয়ে উপকার করুন।


ধর্মহীন গণতন্ত্র কেন এসেছে?


#Secular Democracy এর পটভূমি............
বিগত দুটি লেখায় গণতন্ত্রের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরেছি।https://www.facebook.com/salahuddinaiuby.frenzy/posts/351939801609736.....
https://www.facebook.com/salahuddinaiuby.frenzy/posts/352945841509132
আজ দেখবো, ধর্মহীন গণতন্ত্র কেন এসেছে?? এবং এর প্রেক্ষাপট কী??

দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায়ই এই শ্লোগান শুনতে পাই, ধর্ম যার যার,দেশ সবার- এই শ্লোগানটি। বা এমনও ‍শুনতে পাই রাজনীতি থেকে ধর্ম রোধ করো। বা ধর্মহীন রাজনীতি প্রণয়ন করো। অর্থাৎ, ধর্মহীন বা ধর্মনিরপেক্ষতাই হলো উৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা।
আসলে এই ধর্মকে রাজনীতি থেকে বাদ দেবার ইতিহাসটা বলবো। আর কিভাবে তা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হয়েছিলো, সেটাই বলবো।
রাষ্ট্র-পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা ব্যবস্থা হলো Aristocracy বা অভিজাতন্ত্র। যার মধ্যে অন্যতম হলো Theocracy বা ধর্মীয় অভিজাততন্ত্র বা স্রষ্টার কর্তৃত্ব।
এই তন্ত্রের মুলভাবটা খুবই ভালো।“আল্লাহ যেহেতু সব কিছুর মালিক, তাই তার বিধানানুসারেই দেশ চলবে।”
কিন্ত প্রশ্ন হলো, আল্লাহর বিধি-বিধান নির্ণয় করবেন কে????
খ্রিস্টিয় সমাজে এর উত্তর হলো, পোপ এর নির্ণয় করবে। ....অর্থাৎ পোপ যেটা বলবেন, সেটাই কার্যত খোদার আদেশ বলে বিবেচিত হবে।
এভাবেই আল্লাহর আদেশের স্থলে পোপের আদেশেই দেশ চলতে লাগলো।
মধ্যযুগে খ্রিস্টিয় দেশগুলো যদিও রাজারা পরিচালনা করতেন, তবুও পোপের অনুমতি ছাড়া অনেক কিছুই অসম্ভব ছিলো।....এভাবেই রাজা-পোপের মাঝে দ্বন্ধ বিরাজ করতো।
একসময় এই লড়াই চূড়ান্ত আকার ধারণ করলো। যুদ্ধে রাজার বিজয় হলো, জনগণের পোপের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেলো। আর তখন থেকেই তারা ধর্মকে চিরতরে বিদায় দিলো। .....আসলে এর জন্য তখনকার ধর্মীয় বিধি-ব্যবস্থাই দায়ী। ইনশাল্লাহ যা আমি পরবর্তীতে #খ্রিস্টিয় Theocracy নামে একটি শিরোনামে লিখবো। .....এখন কেবল বিভিন্ন ধর্মে থিওক্রেসীর অবস্থানটা দেখাবে।

ইয়াহুদী ধর্মে থিওক্রেসী : সবার আগে কার্যকরী থ্রিওক্রেসী হলো ‘ইয়াহুদী থিওক্রেসী’। যার মুল কথা হলো, মুসা (আ) এর কিতাবে যে সব বিধি-বিধান ছিলো, তার বেশিরভাগই ছিলো ইবাদত নির্ভর। যাকে ‘কানুন’ বলা হতো। কিন্ত দেশ পরিচালনা সংক্রান্ত বিধান বেশ কম ছিলো।
তো ইয়াহুদীরা এই সিদ্বান্ত নিলো যে, যার সমাধান তাওরাতে পাবো, সেটা তো অবশ্যই মানবো। কিন্ত যে জিনিসের সমাধান তাওরাতে নেই, তার জন্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ব্যখ্যার জন্য অপেক্ষা করবো। তারা ধ্যান করে খোদার মর্জি মোতাবেক আদেশ দিবেন। আর আমরা সেটা পালন করবো।
খোদার মর্জি উপলব্দির পদ্ধতিটা ছিলো, একটা তাবুতে একটা বাক্স থাকতো। বাক্সটি স্বর্ণের গেলাফে আবৃত থাকতো। তিনি সেই বাক্সের সামনে বসতেন। এমন সময় নির্বাচন করা হতো, যখন বিজলী চমকায় বা বৃষ্টি হওয়ার ভাব। তিনি সেখানে কিছু দোয়া কালাম পড়তেন। আকাশে বিজলী চমকানোর পর তিনি বলতেন,“এহুদা (আল্লাহ) আমাকে এই আদেশ করেছেন।”তাদের দাবি ছিলো, এটা খোদার সাথে সরাসরি কথা বলার নামান্তর। ......আর যদি বিজলী না চমকাতো, তবে ধ্যান করতে থাকতেন। আর পরে বলতেন, খোদার পক্ষ থেকে আমার উপর ইলহাম এসেছে। ব্যাস এতটুকুই বলে, নিজের মতকে খোদার উপর চাপিয়ে দিতেন।
একথা বলা বাহুল্য যে, এভাবে ইলহাম আসার কোনোই বিধান নেই। তাই গুরুরা নিজেদের মতকেই খোদার মতকে বলতো।....... Hindu Theocritus-তেও এমন ব্যবস্থা চালু ছিলো।
ব্যাস, এই কাহিনী দেখে সাধারণ চুলকানি পাবলিক বলতে লাগলো, তারা যদি এভাবে খোদার নির্দেশ আনতে পারে, তবে আমরাও অবশ্যই পারবো। ধীরে ধীরে তারা কিছু ধর্মগুরুকে হাত করে নেয় এবং নিজেদের মতকে খোদার মত চালাতে প্রকাশ করে। কাজেই রাষ্ট্রে এই নিয়ে চরম বিশৃঙখলা দেখা দেয়।
শেষ পর্যন্ত লোকেরা ফেক খোদায়ি আদেশ থেকে বাচার জন্য সব কর্তৃত্ব রাজার কাছে অর্পণ করে। ফলশ্রুতিতে ধর্ম নিপাত যাক বলে তাদের মনোভাব গড়ে উঠে।
ইনশাল্লাহ আগামী লেখায় “খ্রিস্টিয় ডেমোক্রেসী” নিয়ে লেখবো। যা এই টপিক্সটা বুঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।







গণতন্ত্রের পোস্টমর্টেম(প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব)


গণতন্ত্রের পোস্টমর্টেম.........(প্রথম পর্ব)

-----
Salahuddin Aiubi
বর্তমানে দেশে যে সংকট চলছে,তাতে সবা ই গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য এগিয়ে আসছেন। গণতন্ত্র-গণতন্ত্র বুলি আওড়িয়ে দিন যাচ্ছে তাদের। এমনও বলা হচ্ছে যে,দুনিয়ার সব শাসন ব্যবস্থা পরীক্ষা করার পর গণতন্ত্রটাই সর্বোৎকৃষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে। আর আমরাও তা বিনা দ্বিধায় মেনে নিয়েছি। এখন এর বিরুদ্ধে কিছু বললেই, নিশ্চিত হিযবুতী সিল লাগিয়ে দেয়া হবে। আসলেই আমরা কি কখনো ভেবেছি, গণতন্ত্র কতটুকু সঠিক ব্যবস্থা??? “সরিষার ভেতরেই যদি ভুত থাকে,তবে সেই সরিষা দিয়ে ভুত তাড়াবেন কিভাবে????”

গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় আব্রাহাম লিংকনের সংজ্ঞাটি বেশ সুন্দর ও তাৎপর্যময়। Democracy is the government of the people,by the people and for the people. (সংজ্ঞাগত ভুল নিয়ে পরে আলোচনা করবো)
গণতন্ত্রের অনেক বৈশিষ্ট্য আছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে “সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বা শাসন।”

আমার আলোচনা আজ, “সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিয়ে।”
গণতন্ত্রে কিন্ত “সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, বাট সেই সংখ্যাগরিষ্ঠের যোগ্যতা কী, এবং তাদের মতামতের মানদণ্ড কী??সেটা কিন্ত গণতন্ত্রে বলা হয় নি।”যার ফলে আজ আমাদের এই অবস্থা।
মনে করুন, আপনার টিচার ক্লাসে বলছে, জার্নালিস্ট হওয়ার জন্য পত্রিকা পড়তে হবে। কিন্ত আপনারা 50 জন ছাত্র তার উল্টো বলছেন। তো বলুন, গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনারা বিজয়ী। বাট আপনারা কি সঠিক????
আবার দেখুন, এখানে জনগণের মতামতের মানদণ্ড নিয়েও কোনো কিছু বলা হয় নি। অর্থাৎ, জনগণ যেটা ভালো মনে করে সেটাই ঠিক। সেটা যতই কুৎসিত হোক না কেন?
যেমন, ব্রিটেনে যখন সমকামিতার বৈধতা নিয়ে চরম বিতর্ক দেখা দেয়, তখন তাদের বিভেদ নিরসনে Wolfender committee গঠিত হয়। তারা জনগণের মতামত নেয়ার পর তাদের রিপোর্টে বলেছিলো, সমকামিতা একটা অন্যায়,এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্ত যেহেতু আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমরা জনগণের মতকেই প্রাধান্য দেই, তাই এই বিলটিও পাশ হওয়া উচিত। কারণ, চরিত্র ব্যক্তিগত ক্ষেত্র, আর আইন জনগণের রায়ের বহিঃপ্রকাশমাত্র।
দেখুন, অকপটে অন্যায় স্বীকার করার পরও তারা বাধ্য হয়ে সমকামিতার মতো জঘন্য কাজকে স্বীকৃতি দেয়।

এবার বলুন তো, দেশের মধ্যে অশিক্ষিত লোক বেশি না শিক্ষিত লোক?ডক্টরেট বেশি না সাধারণ মুর্খ লোক?? তো দেখুন, একজন ডক্টরেটের ভোটের যেই দাম, পাগলেরও তাই???? তো বলুন, গণতন্ত্রে কি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে কী যোগ্য লোক আসবে???
অন্যদিকে আমাদের অধিকাংশ ভোটার নারী। যারা মোটেও সচেতন নন। স্বামী বা বাবার মতানুযায়ীই তারা ভোট দিয়ে থাকেন। তবে দেখুন, অর্ধেকই ভোটই পাচ্চেন অসচেতন নাগরিক থেকে।
তো যারা অসচেতন, তাদের ভোটে কীভাবে সচেতন নেতা আসবে?????
দেখুন, আমাদের ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের বিভিন্ন ভোট হয়। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত ঠিক আছে। কারণ সবাই এখানে শিক্ষা সম্পর্কে সচেতন ও কোয়ালিফাইড।.......কিন্ত যেখানে লোকেরা রাজনীতি সম্পর্কে বুঝেই না,তারা কিভাবে যোগ্য সরকার আনবে????
আপনারা কি জানেন, গণতন্ত্রের এই সংখ্যাগরিষ্ঠের কারণেই Socrates এর ফাসি হয়েছিলো। Aristotle একে সর্বনিকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা বলেছে???
কারণ, আপনার মতো একজন ডক্টরটকে বশে আনা কঠিন (যদি বিবেকহীন না হোন), কিন্ত একজন রিকশাওয়লাকে তো 200 টাকা দিলেই সে ভোট দিয়ে দিবে। তো বলুন, রিকশাওয়ালা বেশি না ডক্টরেট বেশি???সবার ভোট তো একই পর্যায়ের।
আমার মতে গণতন্ত্র শিক্ষার পক্ষে সহায়ক নয়। যে যাই বলুক না কেন, মানুষ তার সর্বোচ্চ নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করে ভোটের মাধ্যমে।
কিন্ত সেই ভোট দেবার সময় যখন শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ভদ্র-পাগলের কোনো ভেদাভেদ থাকে না,তখন শিক্ষার স্বার্থকতা কোথা থাকে। তাই এটা সফল করার জন্য আমার মতে যা করা দরকার :
1. শিক্ষার ব্যবস্থা করা। (তবে সেই শিক্ষা কেমন হবে, সেটা অন্য আলোচনা)
2. ভোটের মান ভেরিফাই করা দরকার। শিক্ষিত-অশিক্ষিত লোকের ভোটের মান এক হবে না। তাহলেই হয়তো শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
3. নারীদের সচেতন করে তুলতে হবে। তবে সেটা মনে হয় সম্ভব নয়। তাই আমার মতে ভোটাধিকার বাতিল করা দরকার। তবে শিক্ষিত হলে অন্য কথা। (রাষ্ট্র সম্পর্কে নারীর না জানাটা, কোনা দোস নয়,গুন)
4. জনগণের মতামত ইলমে ওহীর সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। কারণ আমার আপনার থেকে উপরওয়ালা খুব ভালো জানেন। নয়তো সমকামিতাও জায়েয হয়ে যাবে।

(উপরের সমাধানগুলো প্রচলিত ব্যবস্থাগুলোর প্রতি খেয়াল রেখে বলা হয়েছে, ইসলামিক সমাধান নয়।) আশা করি লেখাটির যোগ্য সমালোচনা করবেন।


গণতন্ত্রের পোস্টমর্টেম ........(দ্বিতীয় পর্ব)

গত পর্বে আলোচনা করা হয়েছিলো, “অধিকাংশ লোকের মত গ্রহণ করার ব্যাপারে গণতন্ত্রের ব্যর্থতা। লেখাটির লিংকhttps://www.facebook.com/salahuddinaiuby.frenzy/posts/351939801609736
আজ আলোচনা করবো, গনতন্ত্রে রাজার গুনাবলি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, রাজতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদে যেমন মুক্ত চিন্তার কোনো সুযোগ ছিলো না,theocracy এর ভয়ানক থাবা জনগণের টুটি চেপে ধরেছিলো, গণতন্ত্র তা থেকে অনেক ভালো।
1. গনতন্ত্রের সংজ্ঞায় বলা হচ্ছে, এটি জনগণের শাসন। .....তো প্রশ্ন আসে,তবে শাসিত কে??? কারণ একই লোক তো শাসক ও শাসিত দুটো তে পারে না।
তখন এর উত্তরে বলা হয়, এটি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা শাসন। তাহলে বলা হবে, “তবে শাসনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ লোকের এক্টিভিটি কোথায়???(যাক এটি অন্য আলোচনা)
2. প্রথমেই দেখবো, গনতন্ত্রের ক্ষমতার স্থায়িত্ব নিয়ে।
আমাদের সরকার ব্যবস্থা পাঁচ বছর, যুক্তরাষ্ট্রে চার বছর। অর্থাৎ চার বছর পর তাকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হয়।
ক্ষমতার পালাবদলটা অবশ্যই ভালো দিক। এতে স্বৈরাচামূলক আচরণ হ্রাস পায়।
কিন্ত একথাও সত্য যে, যদি কেউ ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করে, তবে সেও একটা অস্বস্তিতে থাকে। দেশের অর্থনীতিতে বিরাট চাপ পড়ে।
যেমন, আমাদের রাজনীতিতে 5 বছর পর নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন দল বিভিন্ন দাতা সংস্থা বা ব্যবসায়ীদের থেকে ঋণ নেয়। ক্ষমতার পর 2 বছর এগুলো পরিশোধ করে।....এরপর আবার দেখুন, পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সে আবার প্রিপারেশন নিতে থাকে। যার ফলে স্বাধীনভাবে সময় নিয়ে সে দেশ চালাতে পারে না।
আমি ক্ষমতার পালাবদলের ক্রেডিট অস্বীকার করছি না। কিন্ত কেউ যদি শান্তিতে দেশ চালায়, তবে প্রচলিত গনতন্ত্রে অবশ্যই নির্বাচনের জন্য তাকে এক্সট্রা মানি গুনতে হয়। যা মনে হয় ঠিক নয়। যেমন মালয়শিয়া, মালদ্বীপ এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। শাসন ব্যবস্থার স্থায়িত্বের জন্যই আজ দেশগুলো হয়তো এতটা ভালো পজিশনে আছে।.....
এছাড়াও দেখুন, অনেক দেশে শাসন করার সময়টা একটা লিমিটেড সময় দেয়া হয়েচে। যেমন, আমেরিকায় জর্জ ওয়াশিংটনের উপর সম্মান রেখে দুই বারের বেশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যায় না। .....আপনারাই বলুন, যদি আমি যোগ্য থাকি, তবে দুই বারের বেশি নির্বাচন করলে সমস্যা কোথায়??? যদিও এটি সব দেশে প্রচলিত নয়।
আবার এদিকে দেখুন, মোটামুটি কোনো সরকার পাচ বছর সুযোগ পায়। অর্থাৎ পাচ বছরে সে যত কিছুই করুক না, একটা সেফটি আছে। ব্যাস, এই সুযোগে সে মনের সাধ মিটিয়ে নেয়।
3. এছাড়া দেখবেন, গণতন্ত্রে সরকারের যোগ্যতা নিয়ে কোনো কথা বলা হয় নি। আমাদের সংবিধানেও দেখবেন, সরকার বা মন্ত্রীপরিদের শিক্ষাগত-কর্মগত ও চারিত্রিক যোগ্যতা নিয়ে কোনো কিছু বলা হয় নি। কেবল বলা হয়েছে, 25 বছর হলে নির্বাচনের যোগ্য। সাথে আরো কিছু শর্ত এতে আছে।
মোটকথা অধিকাংশ লোক যা বলে,তাই ঠিক। যেহেতু জনগণ সব ভালো-মন্দ বুঝার মালিক। তাই আমরা আজ পর্ন গায়িকাদের সংসদে দেখতে পাই, পার্লামেন্টে নর্তকীদের কথা শুনি।
এবার বলুন, এই যদি পার্লামেন্টের সদস্যদের অবস্থা, তবে দেশের অবস্থা কী হবে??
একজন সচিব, একজন স্কুল মাস্টারের ক্ষেত্রে এগুলো দেখা হয়, বাট একজন সরকারের ক্ষেত্রে এগুলো দেখতে হয় না।
4. প্রচলিত গনতন্ত্র সুইডেনের মতো টেকসই নয়, যেখানে আনুপাতিক ক্ষমতার বিষয়টা অনেক কম।
যেমন, আপনার এলাকায় নির্বাচনে পাচ জন চেয়ারম্যান প্রার্থি দাড়িয়েছে। তাদের ভোট এমন, 35%, 30%,25%,10%,10%। এখন দেখুন, গনতান্ত্রিক ব্যবস্থানুযায়ী কিন্ত 35% ভোটপ্রাপ্ত কিন্ত বিজয়ী। তিনিই এখন শাসন করবেন। অথচ দেখুন, গ্রামের 65% লোকই তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। অথচ তিনিই সবাইকে শাসন করবেন।

আমার মতে এখানে যা যা করা দরকার :
1. যোগ্য সরকারকে দেশের সেবা করার জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেয়া। অর্থাৎ, জনগন যদি মনে না করে, এই সরকারের পরিবর্তনের কোনো দরকার নেই, তবে সে সরকারকে স্থায়ি রাখা। এর জন্য প্রয়োজনে ‘গণভোট’ হতে পারে।.....যার ফলে, রাষ্ট্র বিরাট অর্থনৈতিক অপচয় থেকে মুক্তি পাবে।
2. সরকার যদি দুর্নীতির সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন গণভোটের মাধ্যমে সরকারকে অপসারণ করে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা। তবে এই নির্বাচন দিবে, এক বিশিষ্ট বোর্ডের মাধ্যমে। যারা আমেরিকার সিনেটের মতো চাকুরি ও জীবনের স্থায়িত্ব পাবেন এবং স্বাধীনভাবে কাজ করে যাবেন। ....এতে সরকার চাপের মুখে থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে বাধ্য থাকবে।
3. আনুপাতিকভাবে ক্ষমতা বন্টন করতে হবে। এমন নির্ধারণ করা, যারা 35% এর বেশি ভোট পাবে, তারা অংশীদারভাবে ক্ষমতা পরিচালনা করবেন। দরকার হলে,এলাকা ভাগ করে দেয়া হবে।
এতে যদিও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরতা আসবে, তবুও প্রত্যেক প্রতিনিধি নিজ নিজ এলাকার জন্য কাজ করে যাবেন, যার ফলে নিজের ক্রেডিট বাচানোর জন্য হলেও এলাকার উন্নয়ন তাড়াতাড়ি হবে। (তবে এর জন্য প্রয়োজন, নেতা নির্ধারণে পর্যাপ্ত গুনাবলি নির্দিষ্ট করে দেয়া)
4. যারা বিরোধী দল হিসেবে নির্বাচনে যাবে, দেশ পরিচালনায় তাদের প্রতিনিধিদের কিছু অংশ দেয়া্। যার ফলে দেশে সংঘাত অনেক কমে যাবে।
5. সরকার ও পার্লামেন্ট মেম্বর নির্বাচনের জন্য অবশ্যই শিক্ষাগত ও চারিত্র্রিক যোগ্যতার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। তবেই যোগ্য নের্তৃত্ব আসতে পারে।
5. অবশ্যই নির্বাচনী ব্যয়ভার কমাতে হবে। কারণ, রাজনীতি এখন দেশ সেবা না হয়ে ব্যবসা হয়ে দাড়িয়েছে। এটা মোটামুটি বেশিরভাগ দেশেই। ....তাই খুব তাড়াতাড়ি উত্তরণ প্রয়োজন।

মুলত এই লেখাটির সাথে Theocracy এর অনেক বিষয় জড়িত, তাই পরবর্তীতে থিওক্রেসী নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাল্লাহ।


 http://cdnews24.com/?p=1647



গণতন্ত্র এই যুগের মারাত্মক শিরিক !


গণতন্ত্র এই যুগের সব থেকে মারাত্মক শিরিক !!

এই যুগের সব থেকে বড় শিরিক হচ্ছে গণতন্ত্র..জি গণতন্ত্র পির পূজা,মাজার পূজা মূর্তি পূজা থেকেও বড় শিরিক..কারণ একটা গণতন্ত্রিক সরকার আইনের মাধ্যমে ওই পির পূজা মূর্তি পূজা বৈধ করে দেয়..যদি ইসলামী রাষ্ট্র (খিলাফত) থাকত তাহলে এইসব শিরিক শরীয়ত মুতাবিক রাষ্ট্রীয় ভাবে অবৈধ করে দেওয়া হবে..

গণতন্ত্র ক্রিস্তিয়ানিটি থেকেও আরো মারাত্মক..কারণ ইসলামিক রাষ্ট্রে কিস্টানরা (নাসারা রা) তাদের ধর্ম তাদের নিজেদের মধ্যে পালন করবে তাদের গির্জায় বা ঘরে, ওরা ওদের ধর্মের প্রতি অন্যদের দাওয়াত দিতে পারবেনা যেইভাবে বাংলাদেশে বা বিভিন্ন মুসলিম দেশে এন,জি,ও এর মাধ্যমে ওরা মুসলিমদের ক্রিস্টান বানাচ্ছে..আর এইসব এই গণতন্ত্রের কারণে কারণ একটি গণতান্ত্রিক সিস্টেমে একজন মুসলিম ইসলাম ধর্ম তাগ করে হিন্দু,ক্রিস্টান বা নাস্তিক হওয়ার অধিকার রাখে...কিন্তু ইসলামিক রাষ্ট্রে কোনো বেক্তি যদি ইসলাম ধর্ম তাগ করে মুরতাদ হয় তাহলে তাকে তিন দিন দেওয়া হবে আর যদি সে ইসলামে ফিরে না আসে তাহলে তাকে কতল করা হবে..

গণতন্ত্রের কারণে কুফ্ফারদের কুফুরী কুফ্ফারদের মধ্যে সীমিত থাকেনা, কুফ্ফাররা তাদের নাস্তিকতা এবং তাদের কুফুরী বিশ্বাসের প্রতি অপেনলি মানুষকে আহবান দিতে পারে বৈধ ভাবে ইন্টারনেটে স্কলে ভার্সিটিতে ইত্যাদির মাধ্যমে..

গনতন্ত্রের কুফুরিতে একজন মুসলিম যার পরিপূর্ণ তাওহীদের গিয়ানের অভাব সে সহজেই লিপ্ত হতে পারে.. গণতন্ত্রের কুফুরী এই সহজ কোথায়ই বুঝা যায় 'গণতন্ত্রে সব ক্ষমতার মালিক মানুষ আর ইসলামে সব ক্ষমতার মালিক আল্লাহ'..

গণতন্ত্রে একজন মানুষ নিজে আল্লাহ বলে দাবি করে থাকে নিজেকে আল্লাহর সিফাত 'আল-হাকিম' - আইন দাতা দাবি করে পার্লামেন্টের মেম্বার হয়ে, মানব রচিত আইন দিয়ে শাসন করে..আর এইটাই গণতন্ত্র,এর থেকে বড় শিরিক কি আর হতে পারে?

তাই আমরা যদি সত্যিকারেরই পির পূজা মূর্তি পূজা বা অন্যান্য কুফুরী ধর্ম এই দুনিয়া থেকে মিটিয়ে দিতে চাই তাহলে আমাদের গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ ভাবে বর্জন করতে হবে এবং ইসলাম রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে..

আল্লাহ যেন আমাদের বুঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করেন আমিন !!


সবাই বলছে নির্বাচন বর্জন কর.. ইসলামিস্টরা কি বলে?

কোরআন সুন্নাহ মুতাবিক আমরাও বলছি নির্বাচন বর্জন কর..কারণ গণতান্ত্রিক সিস্টেমে ভোট দেওয়া শিরিক..আপনি যদি ভোট দিয়ে একজন বেক্তিকে মন্ত্রী বা এমপি বানিয়ে দেন তাহলে ওই বেক্তি এই ক্ষমতা পাবে যে সে পার্লামেন্টে গিয়ে আইন বানাবে বা আল্লাহর আইন ত্যাগ করে ওই মানব রচিত আইন দিয়ে শাসন করবে এবং এই কাজ শিরিক এবং কুফুর..

যেই বেক্তি নিজে আইন বানাল সে যেন নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করলো কারণ, আল্লাহ কোরআনে বলেছেন:
"আল্লাহ ই একমাত্র বিধানদাতা"{৬:৫৭}
এবং
যেই বেক্তি মানব রচিত আইন বা অন্য কোনো ধর্মের বিধান দিয়ে বিচার ফয়সালা বা শাসন করলো ওই বেক্তির ও ইমান নষ্ট হয়ে যাবে..আল্লাহ বলেছেন:
"যারা আল্লাহর দেওয়া বিধান ত্যাগ করে অন্য বিধান দিয়ে শাসন (বিচার,ফয়সালা) করে ওরা কাফির..{৫:৪৪}

যেই বেক্তি কুফুর দিয়ে শাসন করলো সেত শিরিক করলই সাথে যে ওই বেক্তিকে ভোট দিয়ে ওই ক্ষমতা দিল সেও শিরিক করলো ৷

অনেকে বলেন পার্লামেন্টে সুরাহ করা হয়..এই মত ভুল কারণ সুরাহ করা হয় কোনো হালাল বিষয়ে যেইটার কোরান সুন্নাহ থেকে ক্লিয়ার সমাধান মিলছেনা..আল্লাহ একটা রাষ্ট্র চালানোর জন্য সব আইন দিয়ে দিয়েছেন তাই এইটার জন্য আর সুরার দরকার নাই..অর্থাত পার্লামেন্টে সুরাহ নয় আল্লাহর দেওয়া আইন বদলিয়ে আইন বানানো হয়..

আল্লাহ যেন আমাদের বুঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করেন..আমীন!!



ভোট দেও কাফির হও !!

আপনি নিশ্চই বিশ্বাস করেন "ইসলাম একটি সম্পূর্ণ জীবন বেবস্তা" আর হয়ত আপনার এইটাও জানা আছেযে আল্লাহর দেওয়া এই জীবন বেবস্তায় আইন কানুন ও আছে, আর ইসলাম ছাড়া যত জীবন বেবস্তা আছে বা যত আইন কানুন আছে সব বাতিল ৷ কারণ আল্লাহ কোরআনে বলেছেন "আল্লাহই শুধু আইন/বিধান দেওয়ার মালিক"..()

গণতন্ত্র ও একটা জীবন বেবস্তা এবং গণতন্ত্রে মানুষ আইন বানায় আর যারা আইন বানায় ওরা যেন আল্লাহর সাথে কম্পিটিশন করলো বা নিজেকে ইলাহ দাবি করলো ও শিরিক করলো আর যারা ওই বেক্তিকে ভোট দিয়ে এই শিরিক করার ক্ষমতা দিল ওরাও শিরিক করলো.....আর যারা ভোট দেয়নি কিন্তু এমপি মন্ত্রীরা যখন আইন বানায় আর আল্লাহ যা বৈধ করে দিয়েছেন তা অবৈধ করে আর আল্লাহ যা অবৈধ করে দিয়েছেনতা বৈধ করে তা ora মেনে নেয় হাদিস মুতাবিক ওরাও শিরিক করলো !!

তাই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন !!





একজন মুশরিক যদি তার শিরক কর্মকে অস্বীকার করে, তবুও তা শিরক। এই অস্বীকার করা উক্ত কাজের status পরিবর্তন করেনা। একজন মাতালের মদ খাওয়া পরবর্তী মদকে অন্য নামে সম্বোধন মদকে হালাল করেনা। তেমনি মানবরচিত শাসনব্যবস্থাও কুফর শাসনব্যবস্থাই থাকে, একে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি লেবেল দিয়ে যতই মানুষের অধিকারের মিথ্যা ঢোল পিটানো হোক না কেন!












বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৩

"আল্লাহুম্মা আলাইকা বি হাসিনা"


জানিনা ৭১এ পাকবাহিনী কিভাবে মানুষ মেরেছে। তবে আমার এলাকা সীতাকুন্ডে আওয়ামীলীগ যেভাবে গুম, খুন করছে তা একটি যুদ্ধ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট। পারভেজ ভাই, আমিন ভাই একের পর এক পরিচিত মুখগুলোকে নির্মমভাবে খুন হতে দেখছি।

ও আল্লাহ, এদেরকে আমি নিজ চোখে দেখেছি। এত নির্মম হত্যার শিকার হওয়ার মত অপরাধ উনারা করেন নি।

ও আল্লাহ, এই আওয়ামী কুফরী শক্তিকে ধ্বংস করে দিন। এরা মনুষ্যত্বের সবটুকু হারিয়ে ফেলেছে।

ও আল্লাহ, আমাদের ভাইদেরকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির কুফল বুঝার তৌফিক দিন।

"আল্লাহুম্মা আলাইকা বি হাসিনা"


সকল ক্ষমতা জনগণের,জনগণের ভোটেই সরকার পরিবর্তন হয় তা মূলত eye wash ছাড়া আর কিছু না। নির্বাচনের পূর্ব মূহুর্তে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী করা হয়, দেশের একমাত্র সমস্যা হলো একটা সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নির্বাচন হলেই সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আওয়ামীলীগ বা বি,এন,পি যে দলই ক্ষমতায় আসুক সীমান্তে হত্যাকান্ড কি বন্ধ হবে, দ্রব্যমূল্যের দাম কি জনগনের হাতের নাগালে আসবে,ইসলামী আকিদা কি সুরক্ষিত থাকবে, আমাদের নদীগুলোতে কি প্রাণ সঞ্চার হবে, জনগনের জান-মালের নিরাপত্তা কি নিশ্চিত হবে, যদি উত্তর হয় ‘না’, তবে কিসের এই সাজানো নির্বাচন, কার জন্য এই নির্বাচন, আমাদের ছুড়ে ফেলে দেয়া দরকার এই নির্বাচনকে। খালেদা-হাসিনা নিপাত যাক....
আল্লাহ্‌ বলেন -

২ - ১১) আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।

২ - ১২) মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা চিন্তা করে না।

 বিষয়টা এরকম না ভাই জামাত-বিএনপি যেই হোক না জুলুম হলে উল্লাস করার কিছু নাই, তাদের পদ্বতিতে সমস্যা আছে তা আমরা সবাই জানি, তারা কুফরকেই বরং সাহায্য করছে ইসলামের নামে.........
 আমি জানি জামাত ক্ষমতায় গেলে প্রথম আমাকেই মাইর দিবে। কারণ আমি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলি। তবুও এইমুহূর্তে তারা মজলুম।
আমিও তো এইসকল জাতি রাষ্ট্রের বিরোধিতা করি। তাই বলে রাজনীতি করতে পারব না? রাসূল(সাঃ) ও তো জাতিরাষ্ট্রের বিরোধী ছিলেন। আপনি তো সেই কথাই বলছেন যা আবু জাহলরা বলত।

 এখানে জুলুমের কথা কইত্থেকে আসলো??
এটা পাল্টাপাল্টি মারার ঘটনার একটা অংশ। এক ইনিংস শেষ হয়েছে আরেক ইনিংস শুরু হবে।
ফেসবুকেই দেখছি, তারা শপথ নিচ্ছে, খুনের বদলা খুন হবে, একটা লাশের বদলা দশ লাশ হবে। এটার নাম নাকি কিসাস!!
আমি জানি তারা এসব বাস্তবায়নও করবে, আগেও তারা করেছে। এখানে তাই জুলুমের প্রশ্নটা অবান্তর।

তাছাড়া, গত কয়েকমাসে যেভাবে ধারাবাহিক ভাবে জনগণের সম্পত্তি বিএনপি-জামাত মিলে সীতাকুন্ডে ধ্বংস করেছে, সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ডাকাতি করেছে সেগুলোও দেখেছি। সাম্প্রতিক সময়ে এদের বাড়াবাড়ি কোন অংশেই কম ছিলো নাহ।

দু'পক্ষই নিপাত যাক, এই অর্থহীন রক্তের হোলিখেলা বন্ধ হোক।
আমি এটা নিয়ে কোন বিতর্কে যেতে চাই নাহ। এরপর আর কমেন্ট করবো না।

 শুধু জামাত ধ্বংস হয়ে কি লাভ হবে??
জামাত আর আওয়ামীলীগের মধ্যে মিথোজীবিতার সম্পর্ক আছে। অস্তিত্ব আর রাজনীতির জন্য একজন আরেকজনের উপর নির্ভরশীল। ধ্বংস হলে দু'জনেই হবে কারণ তখন তাদের সিস্টেম থাকবে নাহ। আর নাহলে এভাবেই চলবে, কারণ বর্তমান সিস্টেম তাদের দু'দলকেই বহাল রাখবে।

 ১। মানুষের জন্য

ক) আল্লাহর আইন সরাসরি অস্বীকার করে, মানুষকেই আইন দেওয়ার একমাত্র অধিকারী মনে করে।

খ) আল্লাহর আইন আছে এটা স্বীকার করে, কিন্তু উপযোগী মনে করে না। মানুষের আইন উপযোগী মনে করে।
গ) আল্লাহর আইনকে উপযোগী মনে করে, কিন্তু মানুষের আইন বেশি উপযোগী মনে করে।
ঘ) দুটোই সমান মনে করে।
ঙ) আল্লাহর আইনকে বেশি উপযোগী মনে করে, তবে মানুষের আইনে চলতে আপত্তি নেই।
চ) মানুষের আইনকে সরাসরি সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার করে।

এদের কোনক্ষেত্রে শরীয়াহ গত হুকুম কি? কাফির, জালিম, মুশরিক, ফাসিক, মুনাফিক, মুমিন?

২) উপরের বিষয়ে
ক) আওয়ামীলীগের অবস্থান কি হবে এবং জামাতের অবস্থান কি হবে?

৩) পাল্টা পাল্টি খুন অন্যায়ভাবে সংঘটিত হতে থাকলে একজন মুমিন তা সমর্থন করতে পারে কিনা বা উল্লসিত হতে পারেন কিনা? এমনকি যদি তারা ঈমানদার নাও হয়। 

 গণতন্ত্রের লিখিত তত্ত্ব
হচ্ছে জনপ্রতিনিধির দ্বারা জনগনের
মতামতের প্রতিফলন ঘটানো। অথচ
প্রকৃত এবং অলিখিত তত্ব হচ্ছে,
জনপ্রতিনিধির মতামতকেই জনগনের মুখ
দিয়ে বের করে আনা। চাই মিডিয়ার
ধাপ্পাবাজির মাধ্যমে জনগণের
মগজধোলাই করে, না হলে লাঠিয়াল বাহিনীর
মাধ্যমে বেদম প্রহার করে। একেই
বলে তথা কথিত গণ-সচেতনতা ....!

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৩


কেন বাংলাদেশে দ্বীন বিজয়ী হচ্ছে না ? আমাদের পিছিয়ে পড়ার কারণ সমূহ কি কি ?


১।
আমরা কি আল্লাহর বদলীর সুন্নায় পড়ে গেছি?
"হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী,মহাজ্ঞানী। (আল মায়িদাহ ৫ : ৫৪)

এখানে আল্লাহর প্রিয় দলের ৪ টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছেঃ
খ) তারা আল্লহকে ভালোবাসবে –
গ) তারা মুসলমানদের প্রতি হবে নম্র – অর্থ তাদেরকে রক্ষা করা, তাদের বিপদে উদ্ধার করার চেষ্টা করা, তাদের প্রতি সদয় হওয়া। অথচ আমাদের দৃষ্টিভংগী কুফফারদের বিভিন্ন প্রচারের মাধ্যমে এতটা সংকীর্ণ হয়ে গেছে যেঃ মুসল্মান বলতে আমরা শুধু নিজ নিজ দেশের মুসলমান বুঝে থাকি। অথচ মুসলিম ভূমিসমূহকে পার্থক্যকারী মানচিত্রে অংকিত এসব বর্ডার কখনো আল্লাহর দ্বীনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এমনকি আমরা মুসলিম উম্মাহর বর্ডারও ভালো ভাবে চিনি না। যে যার দেশের বর্ডার উল্লেখ করি। আসলে আমাদের বর্ডার হলোঃ

মুসলমানদের ম্যাপ শুরু হয়েছে ইসলামিক স্পেইন থেকে, মস্কো একসময় আমাদের ম্যাপের অংশ ছিলো, কাজাখস্থান, কিরিগিস্থান, তুর্কমেনিস্থান, সিমালে তুর্কমেনিস্থান (বর্তমান চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ), ভারত, বাংলাদেশ, আরাকান, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সোমালিয়া, সুদান, মালি, আলজেরিয়া, মরক্কো। এই হলো আমাদ্বর বর্ডার। এর মাঝখানে রয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্থান, আফগানিস্থান, এবং আফ্রিকার সুদান, মিশর, লিবিয়া প্রভৃতি দেশ।
ঘ) তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে – অর্থ তাদের থেকে জিযিয়া নেয়া, বছরে ১/২ বার তাদের উপর আক্রমণ পরিচালনা করা ইত্যাদি।

২। আমাদের এখানে দ্বীনের আনসার অনুপস্থিত।

দ্বীন কায়েমের অন্যতম পদ্ধতি হলো হিজরত ও জিহাদ। কিন্তু যদি আনসার না থাকে তাহলে হিজরত করে মুসলমানরা যাবে কোথায়? তাই দ্বীনের আনসার থাকাও ফরজ। আল্লাহ বলেনঃ
"যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই সফলকাম।
তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাদের পরওয়ারদেগার স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, সেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি।

"তথায় তারা থাকবে চিরদিন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে আছে মহাপুরস্কার। (সূরা আত তাওবা, ৯ :২০-২২)
আল্লাহ আরো বলেছেনঃ
"আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়। (আল বাকারাহ ২:২১৮)

"এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।

"যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত,তারাই সফলকাম।

"আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা,আপনি দয়ালু,পরম করুণাময়। (আল হাশর ৫৯ :৮-১০)

"এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সেসবই দেখেন।

"আর যারা কাফের তারা পারস্পরিক সহযোগী, বন্ধু। তোমরা যদি এমন ব্যবস্থা না কর, তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বিস্তার লাভ করবে এবং দেশময় বড়ই অকল্যাণ হবে।
"আর যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়েছে এবং আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহায়তা করেছে, তাঁরা হলো সত্যিকার মুসলমান। তাঁদের জন্যে রয়েছে, ক্ষমা ও সম্মানজনক রুযী। (আল আনফাল ৮ :৭২-৭৪)

রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
"হিজরত বন্ধ হবে না যতক্ষণ না তাওবা কবুল হয়, আর তাওবা ফিরিয়ে দেয়া হবে না যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত না হয়। (মুসনাদে আহমাদ)
সুতরাং হিজরত কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। কিন্তু যদি আনসার না থাকে তাহলে হিজরত হবে কিভাবে? কার কাছে? তাই আমাদের সবার আনসার হিসেবে কাজ করার মানষিকতা তৈরী করতে হবে। শুধু হিজরত করে এই দেশ ছেড়ে চলে যাবার মানষিকতা থকলে হবে না।
রাসুল (সাঃ) যখন বিভিন্ন গোত্রের কাছে নুসরত চাইতেন তখন তাকে আশ্রয় দেয়ার ও তাকে সাহায্য করার আহবান করতেন তিনি যখন বনী সায়াসায় এর কাছে গেলেনঃ তখন তারা বললোঃ আপনি আমাদেরকে কিসের দিকে আহবান করছেন, হে আরব ভাই? রাসুল (সাঃ) বলেছিলেনঃ ‘আমি আপনাদেরকে এই সাক্ষ্য এর দিকে আহবান জানাইযে আল্লাহ ছাড়া ইবাদাত লাভের যোগ্য আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। এবং তোমরা আমাকে আশ্রয় দিবে ও সাহায্য করবে”।
একইভাবে মদীনার আনসাররাও রাসুল (সাঃ) কে আশ্রয় দেয়ার ও সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
হজরত জাবের (রাঃ) বর্ণিত, “সমবেত ৭০ জন লোক বায়াতের জন্য উঠলে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী আসয়াদ ইবনে যুরারা (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর হাত ধরে বললেন, ইয়াসরিববাসী একটু থামো। আমরা তাঁর কাছে উটের বুক শুকানো দূরত্ব অতিক্রম করে এই বিশ্বাস নিয়ে এসেছি যে, তিনি আল্লাহর রাসুল। আজ তাকে মক্কা থেকে নিয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, সমগ্র আরবের সাথে শত্রুতা, তোমাদের বিশিষ্ট নেতাদের নিহত হওয়া ও তলোয়ারের ঝনঝনানি। কাজেই এসব যদি সহ্য করতে পারো তবেই তাঁকে নিয়ে যাও। তোমাদের এ কাজের বিনিময় আল্লাহর কাছে রয়েছে। আর যদি নিজের প্রাণ তোমাদের কাছে প্রিয় হয়ে থাকে, তবে তাঁকে এখানেই ছেড়ে যাও। এটা হবে আল্লাহর কাছে তোমাদের অধিক গ্রহণযোগ্য ওযর”। – মুসনাদে আহমদ।
ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, “লোকেরা বায়াতের জন্য সমবেত হওয়ার পর হজরত আব্বাস ইবনে ওবাদা ইব্নে নাযলা (রাঃ) বললেন, তোমারা জানো, তোমরা কিসের উপর বায়াত করছো? সবাই বললো, হ্যা জানি। তোমরা তাঁর হাতে কালো ও লাল লোকদের সাথে যুদ্ধ করার বায়াত করছো। যদি তোমরা মনে করে থাকো, যখন তোমাদের ধন-সম্পদ বিনষ্ট করা হবে, তোমাদের অভিজাত নেতৃস্থানীয় লোকদের হত্যা করা হবে, তখন তোমরা তাঁকে পরিত্যাগ করবে, তবে এখনই তাঁকে পরিত্যাগ করো”। [আর রাহীকুল মাখতুম, পৃষ্টাঃ ১৭৪]
এভাবে পুরো দুনিয়ার সাথে শত্রুতা করে হলেও মদীনাতে আনসাররা নিজেদের ও নিজ পরিবারের গায়ে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত মুসলমনাদেরকে রক্ষা করার জন্য তৈরী হয়ে যান।
এদেশে একজন আনসারের কাজ কি কি হবে? এই দেশে একজন আনসারের কাজ হবে যেকোন ২/৩ জন মুহাজির ভাইকে নিজ ঘরে থাকার জন্য আশ্রয় দেয়া ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা। যদি কোন আনসার অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে মুহাজির ভাইদের খাবার সংস্থান করতে না পারেন, শুধু থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে সেটাও চলবে। তবে দুটোই প্রদান করতে পারলে ভালো। এক্ষেত্রে তিনি নিজে বাড়ীর মালিক হতে হবে, তা না হলে মুর্তাদদের প্রেসারে অনেক সময় বাড়ীর মালিকরা তথ্য ফাঁস করে দেয়। কিন্তু এই বাড়ী যে শহরে হতে হবে কিংবা বিল্ডিং হতে হবে, এমনটা জরুরী নয়। সেটা গ্রামেও হতে পারে, টিনের ঘরও হতে পারে।
আর সাধারণত মুহাজিররা এমন এক সময় আনসারদের বাসায় চলে যাবেন, যখন মূল যুদ্ধ শুরু হবার সময়। অস্ত্র সহ তারা সেখানে অবস্থান নিবেন। তাই কোন কারণে মুর্তাদ সরকারের বাহিনী আসলেও তাদের দাত ভাংগা জবাব দেয়া যাবে। এছাড়াও বিশেষ প্রয়োজনে এখনও কোন কোন ভাই এর নিরাপত্তা সমস্যার কারণে কোন আনসারের বাড়ীতে গিয়ে থাকতে হতে পারে।
মুহাজির যে শুধু বিদেশ থেকে আসবেন সেটা নয়, দেশের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়ও একজন মুসলিম মুহাজির হিসেবে চলে আসতে পারেন। তাই আনসারদেরকে দেশী ও বিদেশী উভয় ধরনের মুহাজিরদেরকে আশ্রয় দেয়া ও সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সহজেই অনুমেয়, এখন আনসারদেরকে নিজের পরিবার-পরিজনকে আল্লাহর জন্য এই রকম কুরবানী করার জন্য, কষ্ট করার জন্য মানষিক ভাবে তৈরী করতে হবে। দাওয়াহ দিতে হবে। আর আনসাররা যেহেতু নিজে গৃহকর্তা হবেন, তাই এই ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছাই হওয়া উচিত চূড়ান্ত।
আনসারদের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার জন্য মূল মহাসড়ক বাদ দিয়ে ভিন্ন পথে, ভিতরের পথ দিয়ে যাওয়ার জন্য চ্যানেল চালু করা। যাতে অস্ত্র কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে ঐ সব পথ দিয়ে তারা গাইড করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নিয়ে যেতে পারেন।
বর্তমানে যে ৮ টা দেশে শক্তি সহ মুসলিমরা অবস্থান করছেন সে সব দেশে আনসাররা এভাবেই মুহাজিরদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। যেমনঃ ইয়েমেনে আনসার আশ শারীয়াহ, মালিতে আনসার আদ দ্বীন।___চলবে

:- ম্যাপ

[ গণতন্ত্রে লাত্থি মারো - শরীয়াহ কায়েম কর ]