শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

ধর্মহীন গণতন্ত্র কেন এসেছে?


#Secular Democracy এর পটভূমি............
বিগত দুটি লেখায় গণতন্ত্রের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরেছি।https://www.facebook.com/salahuddinaiuby.frenzy/posts/351939801609736.....
https://www.facebook.com/salahuddinaiuby.frenzy/posts/352945841509132
আজ দেখবো, ধর্মহীন গণতন্ত্র কেন এসেছে?? এবং এর প্রেক্ষাপট কী??

দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায়ই এই শ্লোগান শুনতে পাই, ধর্ম যার যার,দেশ সবার- এই শ্লোগানটি। বা এমনও ‍শুনতে পাই রাজনীতি থেকে ধর্ম রোধ করো। বা ধর্মহীন রাজনীতি প্রণয়ন করো। অর্থাৎ, ধর্মহীন বা ধর্মনিরপেক্ষতাই হলো উৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা।
আসলে এই ধর্মকে রাজনীতি থেকে বাদ দেবার ইতিহাসটা বলবো। আর কিভাবে তা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হয়েছিলো, সেটাই বলবো।
রাষ্ট্র-পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা ব্যবস্থা হলো Aristocracy বা অভিজাতন্ত্র। যার মধ্যে অন্যতম হলো Theocracy বা ধর্মীয় অভিজাততন্ত্র বা স্রষ্টার কর্তৃত্ব।
এই তন্ত্রের মুলভাবটা খুবই ভালো।“আল্লাহ যেহেতু সব কিছুর মালিক, তাই তার বিধানানুসারেই দেশ চলবে।”
কিন্ত প্রশ্ন হলো, আল্লাহর বিধি-বিধান নির্ণয় করবেন কে????
খ্রিস্টিয় সমাজে এর উত্তর হলো, পোপ এর নির্ণয় করবে। ....অর্থাৎ পোপ যেটা বলবেন, সেটাই কার্যত খোদার আদেশ বলে বিবেচিত হবে।
এভাবেই আল্লাহর আদেশের স্থলে পোপের আদেশেই দেশ চলতে লাগলো।
মধ্যযুগে খ্রিস্টিয় দেশগুলো যদিও রাজারা পরিচালনা করতেন, তবুও পোপের অনুমতি ছাড়া অনেক কিছুই অসম্ভব ছিলো।....এভাবেই রাজা-পোপের মাঝে দ্বন্ধ বিরাজ করতো।
একসময় এই লড়াই চূড়ান্ত আকার ধারণ করলো। যুদ্ধে রাজার বিজয় হলো, জনগণের পোপের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেলো। আর তখন থেকেই তারা ধর্মকে চিরতরে বিদায় দিলো। .....আসলে এর জন্য তখনকার ধর্মীয় বিধি-ব্যবস্থাই দায়ী। ইনশাল্লাহ যা আমি পরবর্তীতে #খ্রিস্টিয় Theocracy নামে একটি শিরোনামে লিখবো। .....এখন কেবল বিভিন্ন ধর্মে থিওক্রেসীর অবস্থানটা দেখাবে।

ইয়াহুদী ধর্মে থিওক্রেসী : সবার আগে কার্যকরী থ্রিওক্রেসী হলো ‘ইয়াহুদী থিওক্রেসী’। যার মুল কথা হলো, মুসা (আ) এর কিতাবে যে সব বিধি-বিধান ছিলো, তার বেশিরভাগই ছিলো ইবাদত নির্ভর। যাকে ‘কানুন’ বলা হতো। কিন্ত দেশ পরিচালনা সংক্রান্ত বিধান বেশ কম ছিলো।
তো ইয়াহুদীরা এই সিদ্বান্ত নিলো যে, যার সমাধান তাওরাতে পাবো, সেটা তো অবশ্যই মানবো। কিন্ত যে জিনিসের সমাধান তাওরাতে নেই, তার জন্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ব্যখ্যার জন্য অপেক্ষা করবো। তারা ধ্যান করে খোদার মর্জি মোতাবেক আদেশ দিবেন। আর আমরা সেটা পালন করবো।
খোদার মর্জি উপলব্দির পদ্ধতিটা ছিলো, একটা তাবুতে একটা বাক্স থাকতো। বাক্সটি স্বর্ণের গেলাফে আবৃত থাকতো। তিনি সেই বাক্সের সামনে বসতেন। এমন সময় নির্বাচন করা হতো, যখন বিজলী চমকায় বা বৃষ্টি হওয়ার ভাব। তিনি সেখানে কিছু দোয়া কালাম পড়তেন। আকাশে বিজলী চমকানোর পর তিনি বলতেন,“এহুদা (আল্লাহ) আমাকে এই আদেশ করেছেন।”তাদের দাবি ছিলো, এটা খোদার সাথে সরাসরি কথা বলার নামান্তর। ......আর যদি বিজলী না চমকাতো, তবে ধ্যান করতে থাকতেন। আর পরে বলতেন, খোদার পক্ষ থেকে আমার উপর ইলহাম এসেছে। ব্যাস এতটুকুই বলে, নিজের মতকে খোদার উপর চাপিয়ে দিতেন।
একথা বলা বাহুল্য যে, এভাবে ইলহাম আসার কোনোই বিধান নেই। তাই গুরুরা নিজেদের মতকেই খোদার মতকে বলতো।....... Hindu Theocritus-তেও এমন ব্যবস্থা চালু ছিলো।
ব্যাস, এই কাহিনী দেখে সাধারণ চুলকানি পাবলিক বলতে লাগলো, তারা যদি এভাবে খোদার নির্দেশ আনতে পারে, তবে আমরাও অবশ্যই পারবো। ধীরে ধীরে তারা কিছু ধর্মগুরুকে হাত করে নেয় এবং নিজেদের মতকে খোদার মত চালাতে প্রকাশ করে। কাজেই রাষ্ট্রে এই নিয়ে চরম বিশৃঙখলা দেখা দেয়।
শেষ পর্যন্ত লোকেরা ফেক খোদায়ি আদেশ থেকে বাচার জন্য সব কর্তৃত্ব রাজার কাছে অর্পণ করে। ফলশ্রুতিতে ধর্ম নিপাত যাক বলে তাদের মনোভাব গড়ে উঠে।
ইনশাল্লাহ আগামী লেখায় “খ্রিস্টিয় ডেমোক্রেসী” নিয়ে লেখবো। যা এই টপিক্সটা বুঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।







কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন