সেকুলারিজম টাইপের কুফর আদর্শগুলো মিথ্যা আশ্বাস দেয়..
পৃথিবীতে
দুইটা ক্যাম্প, একটা হল ক্যাম্প অফ ঈমান এবং আরেকটা ক্যাম্প অফ কুফর।
ক্বিয়ামত দিবসে এ দুইটা শ্রেণীর জন্য দুইটা জায়গা রাখা আছে, জান্নাত এবং
জাহান্নাম, মাঝে কিছু নেই। এ দুইটা ক্যাম্প কখনও সহাবস্থান করতে পারে না,
যেকোন একটা আধিপত্য বিস্তার করবে। ইসলাম যেখানে ডমিনেট করে, সেখানে কাফের,
মুশরিক এবং জাহেলদের কুফর, শিরক এবং ফাহ্বিশা (নির্লজ্জতা/অশালীনতা) চলে
না। আবার যেখানে কুফরের শাসন সেখানে মুসলিমরাও নিজেদের দ্বীন পুরোপুরি পালন
করতে পারে না।
অনেকে খুব সহজসরল করে চিন্তা করেন, "মিলে মিশে
থাকলে কি হয়"। ভাই, মিলেমিশে থাকা যায় না। তাওহীদ এবং শিরক পানি এবং জলের
মত। শালীনতা এবং অশ্লীলতা একটা সমাজে একসাথে চলতে পারে না। যেমন একটা সমাজে
কিছু মানুষ সম্মানের সাথে চলাফেরা করে পরে আর কিছু মানুষ নির্লজ্জের মত
থাকে, সেটাকে কি ভদ্র সমাজ বলা যাবে? না, সেটা ১০% মানুষের কারণে হলেও আর
সভ্য থাকবে না। হয়, নির্লজ্জতা পুরোপুরি অফ করতে হবে, তা না হলে সেটা জালের
মত সমাজে ছড়িয়ে পড়বে, যেভাবে মাকড়শা তার জাল বিছায়।
তো আপনার মনে
হতে পারে, তাইলে আর কি লাভ হল? দুই পক্ষই তো চাপিয়ে দিচ্ছে। জ্বী ভাই, দুই
পক্ষই চাপিয়ে দিচ্ছে। ইসলামও অনেক কিছু চাপিয়ে দেবে, কারণ আপনার আল্লাহ
বলেই দিয়েছেন যে অনেক কিছুই আছে মন-মানতে-চাইবে-না, তবু মানতে-হবে। তাই এই
ব্যবস্থা।
তাই যদি হয়, তাইলে ইসলামের সাথে অন্যান্য আদর্শের
পার্থক্যটা কই থাকল? পার্থক্য হল এই, ইসলামে কোন লুকোচুরি নেই। যেটা ইসলাম
সেটা সাফ-সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। যেমন, ঢাকা শহরে এখন আপনি বিলবোর্ড আর
লাজলজ্জাহীন কিছু জীবের জন্য আপনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না,
ইসলাম কায়েম হলে সেরকম আর হবে না। তখন যা-খুশি-তা করা-পরা-বলার স্বাধীনতা
কেড়ে নেওয়া হবে। তাবৎ নষ্টামি, ভ্রষ্টামি, এবং দুই নম্বরী বন্ধ হয়ে যাবে।
অপরপক্ষে সেকুলারিজম টাইপের কুফর আদর্শগুলো মিথ্যা আশ্বাস দেয়। তারা
ব্যাক্তিস্বাধীনতার কথা বলে, কিন্তু নিকাব পরতে বাধা দেয়। তারা ধর্মীয়
স্বাধীনতার কথা বলে কিন্তু মিনার নির্মাণে বাধা দেয়। তারা ধর্ম প্রচারের
স্বাধীনতার কথা বলে, কিন্তু তাদের আদর্শের বিরুদ্ধে গেলেই তারা সকলকে
গ্রেপ্তার করে এবংড্রোন দিয়ে মেরে হলেও কাপুরষের মত হত্যা করে। তারা সত্যকে
মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলার স্বাধীনতা দেয়। তাদের পরতে পরতে নিফাক্ব।
তারা দাবি করবে একটা, কিন্তু ইসলাম আসলেই তাদের ইকুয়েশন চেঞ্জ হয়ে যায়, এর
কারণ এই যে, ইসলাম ছাড়া আর সকল ধর্ম-আদর্শ-তন্ত্র-মন্ত্র মিথ্যা আর
ধোঁকাবাজি।
এই সহজ ব্যাপারটি বুঝার তৌফিক্ব আল্লাহ দান করুন।
#
মানুষ সমাজতন্ত্রকে
নাস্তিক্যবাদ বলে ঘৃণা করেছে তখনই যখন বাহ্যিকভাবে সমাজতন্ত্র পরাজিত হয়েছে
এবং সমাজতন্ত্রের ফিতনা দূর হয়েছে। যেকোন ফিতনার বৈশিষ্ট্য এটাই- যখন আসে
তখন অস্পষ্ট থাকে। কিন্তু যখন শেষ হয়ে যায়- তখন সব স্পষ্ট হয়ে যায়। এক সময়
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মত মানুষের কারণে- অনেকে বলত- সমাজতন্ত্রই
তো ইসলাম। এখন ভুলেও কেউ বলে না, কারণ সমাজতন্ত্র মৃত; একইভাবে আজকে যারা
গণতন্ত্রকে হালাল করে ইসলামাইজেশন ( ! )
করার ভ্রান্তিতে আছে এক সময় এই ফিতনা শেষ হয়ে গেলে তারাও এটাকে বর্জন করবে,
কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে নিজের সেই ক্ষতি কিভাবে পূরণ করবেন জানি না।
হক আর বাতিল স্পষ্ট- কুর'আন সুন্নাহর স্পষ্ট দলীল থাকা সত্ত্বেও যদি
আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয়, তখন সেটা সত্যকে অস্বীকার করারই শামিল।
মানব রচিত মতবাদ কুফর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন