মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

বিশ্ব-রাজনীতির ইতিহাসে নিকৃষ্টতম ঘটনা

বিশ্ব-রাজনীতির ইতিহাসে নিকৃষ্টতম ঘটনাঃ

গণতান্ত্রিকভাবেনির্বাচিত ক্ষমতাশীন দলই নিষিদ্ধ হয়ে গেলো অগনতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শক্তির কাছে.........

সাবেক ব্রাদারহুড নেতা আইমান আল জাওয়ারী পাকিস্তানী সাংবাদিক হামিদ মীরকে বলেছিলেন, “গণতন্ত্রের মাধ্যমে কখনো ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে না কারণ সেক্যুলাররা ততক্ষন পর্যন্ত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী যতক্ষন পর্যন্ত তারা ক্ষমতাসীন থাকে। আর প্রতিপক্ষকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে তারা হেন কাজ নেই যে করে না ।

যেখানে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেক্যুলারীজম সেখানে গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী সরকার টিকে থাকবে কিভাবে ?”
জাওয়ারীর এই বক্তব্য আজ অক্ষরে অক্ষরে প্রমান হলো ।

আসলে নিরস্ত্র বিপ্লব কখনোই দীর্ঘজীবি হয় না, আর তা যদি হয় ইসলামী বিপ্লব তাহলে তো কথাই নেই ।

মিশরের ব্যর্থ বিপ্লবই বিশ্বব্যপী মুসলিমদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে, নিরস্ত্র বিপ্লবকে ইহুদীরা কখনোই টিকতে দেয়নি, ভবিষ্যতেও দিবেনা ।

গত ৩ জুলাই, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনা সফল ইসলামী বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিলো ইহুদী-আমেরিকান জোট ও তাদের মিসরীয় দোসর জেনারেল সিসি ।

মিসরের ইতিহাসে প্রথম গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়া সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মাত্র ১ বছরের মাথায় ক্ষমতাচ্যুত করলো সম্পূর্ন অবৈধ পন্থায়, গায়ের জোরে ।

শুধু ক্ষমতা দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি দালাল জেনারেল সিসি । মিসরের আদালতের মাধ্যমে আজ মুসলিম ব্রাদারহুডের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হলো ।

ভাবা যায়...? এমন ১ টি দলকে নিষিদ্ধ করা হলো যারা কিনা জনগনের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, বলতে গেলে বৈধভাবে এখনো মিসরের ক্ষমতায় আছে ।

এই হলো বিশ্বব্যপী গনতন্ত্রের নমুনা । বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম দেশ এখন এমনভাবে ইহুদীদের সিন্ডিকেটে জড়িয়ে আছে যে, অদুর ভবিষ্যতেও এই সিন্ডিকেট থেকে মুসলিম দেশগুলো বের হতে পারবে কিনা কে জানে....!!!

মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড নেতারাও বুঝতে পেরেছেন যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই বিপুল ক্ষমতাধর ইহুদী এজেন্টকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না । আর সেই অনুভূতি থেকেই বোধহয় ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বদিই বলেছেন, “ব্রাদারহুড তাদের বৈধ দাবি পরিত্যাগ করবে না আর এজন্য ফ্রি ইজিপসিয়ান আর্মি গঠন করা হবে অতি শীঘ্রই ।”

#
হিন্দুইজম, ইহুদীবাদ, খ্রিষ্টবাদ, বৌদ্ধধর্ম, সেক্যুলারিজম, গনতন্ত্র, জাতিয়তাবাদ সহ সকল জাহেলী তন্ত্রমন্ত্রের অনুসারীদের ভদ্রতা বিনয় কিংবা মানবাধিকারের শ্লোগান দেখে মুসলিমদের নিরাপদ বোধ করার কোনো কারণ নেই।
এসব মতবাদের অনুসারীরা একে অন্যের প্রতি সহনশীল হলেও ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি এরা সব সময়ই অসহিষ্ণু ও সাম্প্রদায়িক।

দের পরস্পরের সাথে দ্বন্দ্ব সংঘাত হলেও এগুলো সবই জাহিলিয়াতের একেকটি ভিন্ন ভার্ষণ মাত্র। তাই এরা একটি অন্যটির সাথে রিকনসাইল করে চলতে পারে।

ইসলামের সাথে এদের সংঘর্ষ হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নয়। বরং তা হলো সত্য মিথ্যার সংঘাত, হক ও বাতিলের সংঘাত, আলো ও অন্ধকারের সংঘাত। অস্তিত্বের লড়াই।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন